শৈলী

শৈলী


যত্নে থাকুক প্রিয় গহনা

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২০      

ফ্লোরিডা এস রোজারিও

স্বর্ণ বলুন আর রুপা, পছন্দের গহনার চাই সঠিক যত্ন। ঠিকভাবে না রাখলে হারিয়ে যাওয়া কিংবা চুরির ভয়ও থাকে। তাই গহনার সঠিক পরিচর্যার জন্য জানতে হবে কিছু কৌশল। বছরে একবার লকার কিংবা বাক্স থেকে বের করলেন গহনা কিন্তু এরপর আর সূর্যের মুখ দেখল না- এমনটা যেন না হয়...



জুয়েলারি কিংবা গহনা। নামটা শুনলেই আনন্দে নেচে উঠে সাজগোজপ্রিয় মেয়েদের মন। গহনা পছন্দ করে না এমন মেয়ের সংখ্যা কম। বাড়ির ছোট্ট মেয়েটা থেকে দাদিমা, সব বয়সের মেয়েই গহনা পরতে ভালোবাসে। বাঙালি মেয়েদের অন্দরমহলে অন্তত একটা গহনার বাক্স বা জুয়েলারি বক্স মিলবেই। অনুষ্ঠানভেদে কিংবা রুচিভেদে একেকজন একেক রকমের গহনা পরতে পছন্দ করেন। কেউ স্বর্ণের গহনা পছন্দ করেন, আবার কেউ রুপাতেই মেতে থাকেন। এছাড়াও রয়েছে জাঙ্ক জুয়েলারি। রয়েছে হীরা কিংবা প্লাটিনামের জুয়েলারি।

তবে স্বর্ণ বলুন আর রুপা, পছন্দের গহনার চাই সঠিক যত্ন। ঠিকভাবে না রাখলে হারিয়ে যাওয়া কিংবা চুরির ভয়ও থাকে। তাই গহনার সঠিক পরিচর্যার জন্য জানতে হবে কিছু কৌশল। বছরে একবার লকার কিংবা বাক্স থেকে বের করলেন গহনা কিন্তু এরপর আর সূর্যের মুখ দেখল না- এমনটা যেন না হয়।

তবে এখনকার ফ্যাশনে মেয়েরা স্বর্ণের জিনিস অনুষ্ঠান ছাড়া খুব কম পরে। এখনকার মেয়েরা সবচেয়ে বেশি ভালোবাসে জাঙ্ক (লঁহশ) জুয়েলারি। দাম সাধ্যের মধ্যে আর দেখতেও দারুণ।

কুর্তি থেকে শুরু করে শাড়ি, লেহেঙ্গা সবকিছুর সঙ্গেই এই জুয়েলারি মানানসই। অনেকেই আছেন, যাদের জাঙ্ক জুয়েলারি সংগ্রহের নেশা আছে। যখন যেখানে পছন্দ কিনে কিনে বাক্স প্রায় ভর্তি। কিন্তু কিছুদিন পর দেখা যায় সাধের অক্সিডাইস গহনা কালো হয়ে গেছে। কিংবা পাথর বসানো কানের দুলটায় দুটো স্টোন পড়ে গেছে। খুব মন খারাপে হয় তখন। তাই মন খারাপ যেন না হয় সেদিকটার খেয়াল আমাদেরকেই নিতে হবে। সাধের জুয়েলারি কালেকশনের যত্ন নিতে হবে। কীভাবে সেটা করবেন? কাজটা খুবই সহজ। আসুন জেনে নিই গহনাভেদে যত্নের কিছু উপায়।

স্বর্ণের গহনা

স্বর্ণের গহনার একটি ভালো দিক হলো এটা খুব সহজে কালচে হয় না। তবে নোংরা হয় তাড়াতাড়ি। তাই আপনার প্রিয় স্বর্ণের মূল্যবান আংটি, হার, ব্রেসলেট কিংবা অন্য জুয়েলারি পরিস্কার করতে পারেন নিচের পদ্ধতিগুলো অনুসরণ করে :

১। একটি পাত্রে ৫০ মিলিলিটার সাদা ভিনেগারের সঙ্গে এক কাপ গরম পানি নিন। এবার এর সঙ্গেই মিশিয়ে নিন ৩০ গ্রাম সোডা। মিশ্রণটি পরিস্কার টুথব্রাশের সাহায্যে স্বর্ণের গহনার ওপরে লেগে থাকা ময়লার ওপর ঘষে নিন। বেশ কিছুক্ষণ ঘষার পর ঠান্ডা পানিতে ধুয়ে নিন। দেখবেন কত দ্রুত ময়লা পরিস্কার হয়ে গেছে।

২। সবচেয়ে বেশি ময়লা আটকে থাকে স্বর্ণের আংটি কিংবা কানের দুলে। যারা প্রতিনিয়ত এই গহনাগুলো ব্যবহার করেন, তারা জানেন। এর সমাধান খুব সহজ। একটি পাত্র নিন। এতে হালকা গরম পানি এবং অল্প পরিমাণ তরল ডিটারজেন্ট নিয়ে ভালোভাবে মিশ্রণ তৈরি করুন। এবার গহনাগুলো মিশ্রণটিতে ডুবিয়ে রাখুন ১৫ থেকে ২০ মিনিট। এরপর একটি পরিস্কার টুথব্রাশের সাহায্যে আস্তে আস্তে ঘষে ময়লা পরিস্কার করে নিন। এরপর একটি পরিস্কার কাপড় দিয়ে মুছে শুকিয়ে ফেলুন গহনা।

এছাড়াও স্বর্ণের গহনা পরিস্কার রাখতে একটি কাচের বাটিতে আধা কাপ হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড ঢেলে নিতে পারেন। এরপর সেখানে গহনাগুলো কিছুক্ষণ ডুবিয়ে রাখুন। যখন দেখবেন বুদবুদ উঠছে তখন বুঝবেন আপনার গহনা পরিস্কার হচ্ছে। বুদবুদ ওঠা বন্ধ হয়ে গেলে একটি টুইজার নিন। এবার গহনাগুলো তুলে পরিস্কার কাপড় দিয়ে ভালোমতো মুছে নিন। দেখবেন আপনার পছন্দের গহনা হয়ে গেছে একদম নতুনের মতো।

স্বর্ণের গহনা অনেকদিন ব্যবহারের ফলে নিজস্বতা কিংবা ঔজ্জ্বল্য হারায়। তাই গহনার দোকানে পালিশ করিয়ে আনলে আবার আগের ঔজ্জ্বল্য ফিরে পায়।

রুপার গহনা

বর্তমানে মেয়েদের কাছে রুপার গহনা হয়ে উঠেছে বেশ জনপ্রিয়। ছোট বাচ্চাটির ঝুনঝুন করা চুড়ি জোড়াটাও রুপার হয়। পায়ের নূপুর কিংবা পায়েলের ক্ষেত্রে রুপার প্রচলন বহু আগের। এখনও অনেকে শখ করে রুপার জিনিস পরতে পছন্দ করে। কিন্তু রূপার গহনাতেও চাই সঠিক যত্ন, কারণ রুপা খুব তাড়াতাড়ি কালচে হয়ে যায়। তাই রূপার গহনা টিস্যু, তুলা বা মখমল জাতীয় নরম কাপড়ে মুড়িয়ে রাখলে অনেকদিন টেকসই থাকে।

তবে বেশি কালচে ভাব হলে জুয়েলারি দোকানে গিয়ে সিলভার পলিশ করাতে পারেন। ফলে রুপার গহনায় ফিরে আসবে আগের ঔজ্জ্বল্য। হালকা কালচে হলে বাড়িতে একটি অ্যালুমিনিয়ামের পাত্র নিয়ে তাতে লবণ আর সোডা মিশিয়ে নিতে হবে। এবার তাতে ২ থেকে ৫ মিনিট গহনাগুলো ভিজিয়ে রেখে নরম ব্রাশের সাহায্যে ঘষতে হবে। এবার হালকা গরম পানিতে ধুয়ে একটি নরম পরিস্কার কাপড় দিয়ে মুছে শুকাতে হবে।

হীরা কিংবা পাথর বসানো গহনা :

অনেকে শৌখিন হয়ে থাকেন। হীরা কিংবা দামি পাথর বসানো জুয়েলারি অনেকেরই পছন্দের। তারা তাদের কালেকশনে এগুলো রাখতেও পছন্দ করেন। আবহাওয়া পরিবর্তনের ফলে হীরা/হীরকের ঔজ্জ্বল্য অনেক সময় হ্রাস পায়। তাই ঔজ্জ্বল্য ধরে রাখার জন্য শুরুতেই এর গায়ে জমে থাকা ময়লা পরিস্কার করে নিতে হবে। সাবানপানি কিংবা সাবানপানিতে ভেজানো পাতলা কাপড়ের সাহায্যে মুছে নিতে হবে।

এছাড়া অনেকে মূল্যবান পাথরের জুয়েলারি পরতে পছন্দ করেন। অনেকেই বিভিন্ন পাথরের তৈরি আংটি ব্যবহার করেন। মূল্যবান পাথরের তৈরি গহনা রাখা উচিত সযত্নে।

এই ধরনের গহনায় কখনও সরাসরি কোনো পারফিউম বা স্প্রে ব্যবহার করা উচিত নয়। বিশেষ করে বর্ষাকালে একেবারেই না। এর ফলে ঘটতে পারে মন খারাপের ঘটনা। সুগন্ধি বা স্প্রের জন্য হয়তো একেবারেই নষ্ট হয়ে যেতে পারে আপনার মূল্যবান গহনাটি। কারণ এসব গহনায় সামান্য ফেটে যাওয়া কিংবা দাগ পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে।

মুক্তা, রুবি ধরনের গহনা সবসময় বাইরে না পরাই ভালো। তবে এসব গহনা বহন করার ক্ষেত্রে থাকতে হবে সচেতন। যেন খুব সহজেই দাগ না পড়ে বা ভেঙে না যায়। এ ধরনের গহনার সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য ব্যবহার করা উচিত আলাদা আলাদা খোপ সমৃদ্ধ জুয়েলারি বাক্স, যা পাওয়া যাবে দোকানেই।

জাঙ্ক জুয়েলারি

এখনকার মেয়েদের পছন্দের শীর্ষে রয়েছে জাঙ্ক জুয়েলারি। এগুলোর যত্নে মন দিতে হবে, না হলে খুব তাড়াতাড়ি এই গহনাগুলো খারাপ হয়ে যেতে পারে। নির্দিষ্ট জায়গায় কিংবা জুয়েলারি বাক্সে এগুলো তুলে রাখুন। কারণ হাওয়ার সংস্পর্শে এলে এগুলো তাড়াতাড়ি নষ্ট হতে থাকে। তাই বাক্সে রাখলে ভালো। তবে সবচেয়ে ভালো হয় যদি মখমল কাপড়ে মুড়ে রাখা যায়।

যে কোনো গহনা যত্নের জন্য কিছু ব্যাপার মাথায় রাখতে হবে :

১। প্রতিবার গহনা ব্যবহারের পর সুতির নরম কাপড় দিয়ে মুছে নিতে হবে। যেন এতে কোনো স্কিন অয়েল, ঘাম কিংবা মেকআপ না লেগে থাকে।

২। গহনা সংরক্ষণের জন্য সুপার মার্কেট কিংবা জুয়েলারি শপ থেকে বাক্স কিনুন। এবার আলাদা আলাদা বাক্সে তা যত্ন করে তুলে রাখুন কিংবা গহনাগুলো আলাদা আলাদা পাতলা সুতি কাপড়ে মুড়িয়ে রাখতে পারেন। এতে একটার সঙ্গে আর একটা ঘষা খেয়ে নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি কম থাকে।

৩। সুইমিং পুল বা সমুদ্রে সাঁতারের আগে গহনা খুলে রাখতে হবে। এমনকি গরম পানিতে গোসলের আগেও গহনা খুলে রাখা ভালো।

৪। জুয়েলারি পরিস্কার করার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের কড়া অ্যাসিড ব্যবহার করা চলবে না। এমনকি লেন্স পরিস্কার করার সলিউশনও ব্যবহার করবেন না।

৫। গহনা পরিস্কার করার জন্য নরম পরিস্কার টুথব্রাশ ব্যবহার করা ভালো।

৬। একেক জুয়েলারির একেক ধরনের যত্ন নিতে হয়। তাই গহনার সঙ্গে যদি কোনো নির্দেশাবলি থাকে, সেটা পড়ে নেবেন। া