শৈলী

শৈলী

সোফা ঘরের শোভা

প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০

আসাদুজ্জামান

দিন শেষে কিংবা দিনের শুরুতে, স্নিগ্ধ বিকেল অথবা রাতে অবিশ্রান্ত শরীরে একটু গা এলিয়ে দেওয়ার অন্যতম অনুষঙ্গ সোফা। ব্যক্তিগত ব্যবহার ও অতিথি আপ্যায়নে ঘর কিংবা কর্মক্ষেত্রের অনন্য এক শোভা বয়ে আনে সোফা। নিত্যদিনের প্রয়োজনীয় আসবাবের মধ্যে অন্যতম এই পণ্যটি এখন আমাদের জীবনযাপনে অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে গেছে। গ্রাম কিংবা শহর বর্তমানে প্রায় সব ঘরে দেখা মেলে সুদৃশ্য সোফার। সোফা ব্যবহারের পরিধি ও ব্যাপকতা নিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। শুধু ঘরে নয়, বিশেষ করে কর্মক্ষেত্রের অভ্যর্থনা কক্ষে সোফার পরিবর্তে অন্য কিছু ভাবা দায়। এ ছাড়া সময়ের পালাবদলে হোটেল-রেস্তোরাঁয়ও এখন সুসজ্জিত রঙিন সব সোফায়। সময়ের সঙ্গে মানুষের রুচি ও পছন্দের বেশ পরিবর্তন হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা গতানুগতিক ডিজাইন ও রঙের সোফায় এখন রং ও অবয়বে অনেকটা পরিবর্তন এসেছে। গ্রাহকের পছন্দ ও রঙের কথা বিবেচনায় নিয়ে নিত্যনতুন সোফা বাজারে আনছে বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো। আবার অনেকে নিজের পছন্দমতো তৈরি করিয়ে নিচ্ছেন বাহারি সব সোফা।

প্রয়োজন ও ধরন অনুযায়ী নানা রঙের ও ঢঙের সোফা রয়েছে। বসার ঘর, অফিস, রেস্তোরাঁ, ছাদবাগান এমনকি বারান্দায়ও সোফা আসন গেড়ে বসে। নাগরিক জীবনের ব্যস্ততা কাটিয়ে একটু প্রশান্তি পেতে প্রায় সবাই সোফাকে কোনো না কোনোভাবে একটু জায়গা করে দেয়। কারণ আমরা আরামপ্রিয়। নিজেকে একটু আরাম দেওয়ার জন্যই আমাদের যত আয়োজন। তাই আমরা যেখানেই যাই আরাম খুঁজে বেড়াই। কেতাদুরস্ত জীবনযাপনে সোফা দেয় শান্তি। তাই সারাদিন কর্মব্যস্ততার পর ক্লান্ত শরীরকে প্রশান্তি দেওয়ার জন্য ঘরের দিকেই মন ছুটে যায়। আর সে জন্যই প্রত্যেকেই চান তার ঘরটি হোক সুন্দর, সাজানো-গোছানো এবং ছিমছাম। ঘর সাজাতে অনেক কিছু করার ইচ্ছা থাকলেও খরচের কথা চিন্তা করে সব সময় তা করা সম্ভব হয় না। কিন্তু চাইলেই খুব কম খরচে এবং নতুন আঙ্গিকে ঘর ও কর্মক্ষেত্রকে সাজানো যায় কিছু কৌশল অবলম্বন করে। তাই সোফা কেনার আগে ভাবতে হবে কেন কিনবেন, কোথায় রাখবেন, কাদের জন্য কিনবেন, কোথা থেকে কিনবেন ইত্যাদি বিষয়। ঘর, কর্মক্ষেত্র, হোটেল-রেস্তোরাঁসহ যে কোনো প্রয়োজনেই নিত্যপ্রয়োজনীয় এই পণ্য কিনুন না কেন, কেনার আগে কিছু বিষয়ের প্রতি খেয়াল রাখলে কেনার পরে ঝামেলা পোহাতে হয় না। কোন স্থানের জন্য সোফা কিনছেন, আগে থেকেই ঠিক করে নিন। সোফার স্থান ও সোফার আকারের সমন্বয় করে নিলে সহজেই ছিমছাম রাখা যায় স্থানটি।

নগর জীবনে অধিকাংশ মানুষ ফ্ল্যাটের নির্দিষ্টসীমায় বন্দি। আর ফ্ল্যাট মানেই জায়গার অভাব। সোফা, বিছানা, পড়ার টেবিল, ডাইনিং টেবিল, সব ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রাখা এখন আর সম্ভব নয়। তাই মানুষ এখন এমন আসবাব খোঁজে, যা বেশি জায়গা দখল করবে না আবার সহজেই ব্যবহার করা যাবে। তাই অনেকে জায়গা বাঁচানোর জন্য বিন ব্যাগ, সিঙ্গেল সোফা, সোফা কাম বেড ইত্যাদির দিকে ঝুঁকছেন। কিন্তু যদি শুধু সোফাই নিতে চান? তার উপায়ও আছে। ছোট আকারের সিম্পল সোফা কিনুন। বেশিরভাগ সোফাই বানানো হয় থ্রি-সিটেড করে। কিন্তু যদি দু'জনের ছোট সংসার হয়, জায়গা স্বল্পতা থাকে তাহলে বরং দু'জনের বসার মতো সোফা কিনুন। জায়গাও বাঁচবে, দেখতেও ছিমছাম লাগবে।

বাসার জন্য সোফা কেনার ক্ষেত্রে সাধ আর সাধ্যের সমন্বয় করতে হবে। নিজের রুচিকে প্রাধান্য দিয়ে ঘরের সঙ্গে মানানসই সোফা বেছে নিতে হবে। অতিথি এবং পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আলাপন ও টেলিভিশনের হরেক আয়োজন উপভোগে সাধারণত আমরা বসার ঘরেই সোফার অবস্থান লক্ষ্য করি কিন্তু এখন আর এটি শুধু বসার ঘরে সীমাবদ্ধ নেই। শোবার ঘর, অতিথি কক্ষ, এমনকি বারান্দায়ও শোভা পায় সুসজ্জিত রঙিন সব সোফা। এসব স্থানে সোফা মানে ভিন্ন এক অনুভূতি। নিজের মতো করে সময় উপভোগ করা। নগর জীবনে বিশ্রামের সঙ্গে আয়েশী জীবনযাপন উপভোগের বস্তু হয়ে ধরা দিয়েছে সোফা।

বাজারে প্রয়োজন অনুযায়ী সিঙ্গেল সিটার থেকে শুরু করে অধিকসংখ্যক সিটের সোফা পাওয়া যায়। ওয়ান সিটার, টু সিটার, থ্রি সিটারের পাশাপাশি বিভিন্ন আকারের সোফা যেমন- এল শেপড, সোফা বেড, ডিভান, মাল্টিপারপাস, স্টোরেজ ধরনের সোফা পছন্দের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে। ঘরের আকার ও সোফার আকারের সমন্বয় করতে পারলে ঘরে ছিমছাম আবহ আনা যায়। ঘরের সঙ্গে মানানসই সোফা চলাফেরা ও চোখে আরাম দেয়। তাই কক্ষের আকার, ছাদ ও মেঝের দৈর্ঘ্য, জানালা উচ্চতা, দরজার অবস্থানের দিকে খেয়াল রেখে সোফা বসানো উচিত। খেয়াল রাখতে হবে আরামদায়ক বস্তুটি যেন কোনো রকম অস্বস্তির কারণ না হয়ে দাঁড়ায়।

সোফার আকার, ধরন ও রকমে যেমন পার্থক্য রয়েছে, তেমনি বিভিন্ন স্থানে এটি ব্যবহারেও আছে ভিন্নতা। অফিসে আধুনিক কর্মপরিবেশ বজায় রাখতে সোফার ব্যবহার লক্ষণীয়। অপেক্ষমাণ অতিথি কিংবা কাজের ফাঁকে একটু বিশ্রামের জন্য বেশ প্রিয় একটি আসন হচ্ছে সোফা। অফিসের সোফা কেনার ক্ষেত্রে ফেব্রিক ও নকশাকে গুরুত্ব দিন। বহুল ব্যবহারের ফলে যাতে সহজে নষ্ট না হয়ে যায় সেদিক বিবেচনায় নিয়ে সোফা নির্বাচন করুন। রঙিন ফোফা ব্যবহারের ক্ষেত্রে গাঢ় রঙের প্রাধান্য দিতে পারেন। নকশার ক্ষেত্রে বাহুল্য বর্জন করে একসঙ্গে অনেকে বসার মতো সোফা বসান।

নান রকম উপাদানের সংমিশ্রণে তৈরি সোফা নান্দনিক সৌন্দর্য প্রদর্শন করে। ফেব্রিক, লেদার, উডেন, রেক্সিন, বেত, আয়রন, স্টিল ও বাঁশ দেশীয় সোফা তৈরির মূল উপাদান হিসেবে ব্যবহার হয়ে থাকে। কয়েকটি প্রতিষ্ঠান বর্তমানে প্লাস্টিকের সোফাও তৈরি করছে। সোফার রং, আকার, উপাদান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে স্বাস্থ্য ও ঘরের সৌন্দর্য রক্ষায়। তাই পছন্দ ও সামর্থ্য অনুযায়ী টেকসই ও রুচিশীল সোফা পছন্দ করুন।

সোফা নির্বাচনের ক্ষেত্রে ব্র্যান্ড, নন-ব্র্যান্ড জটিলতা দেখা দিতে পারে। দেশের বাজারে অনেক ব্র্যান্ড ও নন-ব্র্যান্ডেড সোফার সমাহার চোখে পড়বে। ক্রেতাদের মাঝে উভয় সোফার কদর দেখা দিলেও যারা একটু বেশি বাজেট নিয়ে নামেন তারা ব্র্যান্ডেড ফার্নিচারের দিকে ঝুঁকেন। হাতিল, আখতার, অটবি, উড মেটাল, ব্রাদার্স ফার্নিচার, লেগেসি, রিগ্যাল, বেঙ্গল, নাদিয়া ফার্নিচার, নাভানা ফার্নিচার রয়েছে জনপ্রিয়তার তালিকায়। এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থানে অনেক ফার্নিচারের শোরুমের দেখা মিলবে। অনেক সময়ই নিজস্ব পদ্ধতিতে দেশি-বিদেশি উপাদান ব্যবহার করে ছোট পরিসরে ফার্নিচার তৈরি করে করেন অনেক ব্যবসায়ী। ছোট শোরুমেও দেখা মেলে শত রকম ফার্নিচারের। কিছুটা সাশ্রয়ী দামে পাওয়া যায় বলে এ ধরনের পণ্যের কদর রয়েছে অনেকের কাছে।

রঙিন আধুনিক সোফার সঙ্গে সেন্টার টেবিল, সাইড টেবিল ও কুশনের বিষয় জড়িত। সুন্দর একটি সোফা সেট আপনার ঘরের আবহ বদলে দেবে। দৃশ্যমান সৌন্দর্য প্রভাব বিস্তার করে বসবাসকারীদের জীবনেও। মানানসই রং, সঠিক সোফা, কুশন, ল্যাম্প শেড, গাছ-ফুল, শোপিস দিয়ে ঘর, অফিস ও ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করা যায়। অতি প্রিয় সোফাটি সাজিয়ে রাখুন। নিয়মিত সোফা পরিস্কার করুন, সোফা সুন্দর ও ভালো রাখুন। া