শৈলী

শৈলী

আরামের স্কার্ট

প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০

ফ্লোরিডা শুভ্রা রোজারিও

পাশ্চাত্যের ফ্যাশনের সঙ্গে যে পোশাকটির নাম প্রথম সারিতে উঠে আসে তা হলো স্কার্ট। উনিশ শতকের গোড়া থেকেই স্কার্ট পরার প্রচলন শুরু হয়। তবে স্কার্ট পাশ্চাত্যের পোশাক হলেও এর জনপ্রিয়তা এখন সারা বিশ্বেই। কারণ আরাম এবং স্টাইল দুটোই একসঙ্গে পাওয়া যায় এই পোশাকে। বাইরে পরার সঙ্গে সঙ্গে ঘরেও আরামের কথা মাথায় রেখে অনেকে পরিধান করে স্কার্ট। সবচেয়ে আনন্দের বিষয় হলো, স্কার্টের সঙ্গে ফতুয়া, টি-শার্ট তো সবাই পরে কিন্তু এরই সঙ্গে আকর্ষণের মাত্রা যোগ করছে বিভিন্ন কাটের কামিজ কিংবা ক্রপ টপ।

ফ্যাশন হাউস রঙ বাংলাদেশের স্বত্বাধিকারী সৌমিক দাস জানিয়েছেন, স্কার্ট পশ্চিমা ফ্যাশন হলেও আমাদের দেশের তরুণীরা এ পোশাক সাদরে গ্রহণ করেছে। আরামদায়ক এই পোশাকটি অনেকেই অফিস, পার্টি কিংবা বাসাতেও পরে। স্কার্টের অনেক ধরনের প্যাটার্ন বা কাটিং রয়েছে। কেউ ছোট স্কার্ট পরতে পছন্দ করে, কেউ লং স্কার্ট। তবে লম্বা ধাঁচের গোড়ালি ছোঁয়া স্কার্ট এখন সবাই পরছে। যেন ম্যাচিংয়ের ঝামেলা না করতে হয় তাই ফতুয়াসহ স্কার্ট ডিজাইন করছেন আমাদের ডিজাইনাররা। রঙের দিক থেকে উজ্জ্বল রংগুলো বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।

বাজার ঘুরলে বিভিন্ন কাটিং আর কাপড়ের স্কার্ট আপনার চোখে পড়বে। প্রয়োজন শুধু শরীরের গড়নের সঙ্গে মানিয়ে যায়, এমন ধরনের স্কার্ট বেছে নেওয়া। জায়গা বুঝে মানানসই স্কার্টের ধরনটা বেছে নেওয়াটাও জরুরি।

যেমন- যারা উচ্চতায় লম্বা তাদের জন্য বেশি ঘের আছে, এমন স্কার্ট মানানসই। আবার যাদের মাঝারি উচ্চতা, তাদের বেশি ঘেরওয়ালা স্কার্ট ভালো লাগবে না। কিছুদিন পরপরই স্কার্টে দেখা যায় নতুন ধরন, নতুন ঢং। স্কার্টের কাটিং প্যাটার্নেও এসেছে নানা বৈচিত্র্য। রুমাল ছাঁট, সার্কুলার কাট, হাফ সার্কুলার কাট ও এ কাটের স্কার্ট তরুণীরা পছন্দ করে। তবে, হাল ফ্যাশনে ঘেরওয়ালা এবং ফ্লোর টাচ স্কার্ট তরুণীদের পছন্দের শীর্ষে। চট করেই স্কার্টের ওপর একটি ফতুয়া বা টি-শার্ট পরে নিলেই হবে। স্কার্ট যদি হয় একরঙা, তবে ওপরের ফতুয়াটি প্রিন্টের হলে সুন্দর লাগবে। এ ছাড়া স্কার্টের সঙ্গে পরা যেতে পারে ক্রপ টপ কিংবা শর্ট ব্লাউজও। টপটির হাতা কাটা, ছোট হাতা, ম্যাগি হাতা কিংবা থ্রি-কোয়ার্টার হাতাই হোক না কেন; সবকিছুর সঙ্গেই স্কার্ট মানানসই।

আরাম এবং স্টাইল দুটোই যেন একসঙ্গে পাওয়া যায় সে কথা মাথায় রেখেই পোশাক বাছাই করা উচিত। একই সঙ্গে কী উপলক্ষে পোশাকটি কিনছি, সেটাও লক্ষ্য রাখতে হবে। কারণ সব পরিবেশে সব পোশাক মানায় না। ফ্লোর টাচ অর্থাৎ পায়ের গোড়ালি ছাড়ানো দৈর্ঘ্যের স্কার্ট যে কোনো পার্টির জন্য বেশ উপযুক্ত। সঙ্গে একটি মানানসই স্কার্ফ গলায় ঝুলিয়ে নিলে আরও ভালো লাগবে।

টিনএজাররা থ্রি-কোয়ার্টার অর্থাৎ গোড়ালি থেকে কিছুটা কাটা স্কার্টও বেশ পছন্দ করছে। অনেকে শর্ট স্কার্টও বেছে নিচ্ছে পার্টিতে পরার জন্য।

একাধিক কাপড়ের ব্যবহারে ফিউশন ডিজাইনের স্কার্টও মিলবে ফ্যাশন হাউসগুলোতে। একরঙা কাপড়ের ওপর বাহারি টুকরো কাপড়ে সাজানো প্যাচওয়ার্ক করা স্কার্ট এখন অনেকে পছন্দ করছে। এ ধরনের ভিন্নধর্মী স্কার্ট আপনি পাবেন অনলাইনভিত্তিক ফ্যাশন হাউস 'খুঁত'-এ।

পোশাকের কথা এলেই সবার আগে আরামের কথা চলে আসে। একেক ঋতুতে একেক কাপড়ে আরাম মেলে। তবে সুতি কাপড়ের জয়জয়কার। যে কোনো ঋতুতে, আবহাওয়ায় কিংবা অনুষ্ঠানে সুতি কাপড়ের ওপর কোনো কথা হয় না। আরামদায়ক সুতি কাপড়ের স্কার্ট তাই কোনো অস্বস্তি ছাড়াই পরা যায়। এ ছাড়া লিনেন, ক্যাশমিলান, তাঁতের তৈরি স্কার্টও অনেকে পছন্দ করে পার্টিতে পরতে।



যেখানে পাবেন-

রঙ বাংলাদেশ, খুঁত, বিবিয়ানা, ক্যাটস আই, যাত্রা, আড়ং, সাদাকালোতে বিভিন্ন নকশার বাহারি ডিজাইনের স্কার্ট পাওয়া যাচ্ছে। এ ছাড়া বসুন্ধরা সিটি, রাইফেলস স্কয়ার, নিউমার্কেট, ডিসিসি মার্কেট, মেট্রো শপিংমল, যমুনা ফিউচার পার্কে পাওয়া যাবে এসব স্কার্ট। চাইলে ভালো মানের গজ কাপড় কিনে নিজের মনের মতো ডিজাইনেও স্কার্ট বানিয়ে নিতে পারেন আপনার পছন্দের কোনো টেইলার্সে।

দরদাম

আড়ং, কে ক্রাফট, লা রিভ, সাদাকালো, রঙ বাংলাদেশসহ বিভিন্ন ফ্যাশন হাউসের শোরুমে স্কার্টগুলো পাবেন এক হাজার থেকে পাঁচ হাজার টাকার মধ্যে। এ ছাড়া সাধারণ মার্কেটগুলোতে আপনি দামাদামি করলে আরও কম দামে স্কার্ট পেয়ে যাবেন, যা শুরু হবে ৩০০ টাকা থেকে।

করোনাকালীন বাড়তি সতর্কতার জন্য আপনি চাইলে অনলাইনেও আপনার পছন্দের পোশাকটি ঘরে বসেই অর্ডার করতে পারবেন। া



মডেল : সোহা মিম ও স্বর্ণা

ছবি ও পোশাক :: রঙ বাংলাদেশ ও খুঁত