শৈলী

শৈলী

ত্বকে প্রাকৃতিক স্পর্শ

প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০

আবহাওয়া ও পরিবেশের কারণে ত্বকে নানা রকমের সমস্যা দেখা দেয়। এসব সমস্যা দূর করতে রাসায়নিক উপকরণ ব্যবহার করলে ত্বকের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। প্রাকৃতিক উপাদানে ত্বকের যত্ন নেওয়ার উপায় সম্পর্কে রূপবিশেষজ্ঞ শারমিন কচির সঙ্গে কথা বলে লিখেছেন লতিকা হালদার



প্রাচীনকাল থেকেই রূপচর্চায় প্রাকৃতিক উপাদানের ব্যবহার হয়ে আসছে। ত্বক, চুল, হাত- পা কিংবা নখের যত্নেও প্রাকৃতিক উপাদানগুলোর গুণ বলে শেষ করা যাবে না। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাজারে অনেক ধরনের প্রসাধনসামগ্রী এলেও প্রাকৃতিক উপাদানগুলোর চাহিদা একটুও কমেনি।

তবে এর ব্যবহার সম্পর্কে সঠিক তথ্য জেনে নেওয়া জরুরি।



অ্যালোভেরা ও লেবু

একটি পাত্র নিন। এবার দুই টেবিল চামচ অ্যালোভেরা জেল এবং অর্ধেক লেবুর রস মিশিয়ে প্যাক তৈরি করুন। এই প্যাকটি সানবার্নের জন্য খুবই উপকারী। প্যাকটি ত্বকে লাগিয়ে ১৫ মিনিট রাখার পর ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। রোদে পোড়া দাগ দূর করতে এবং ত্বকের আর্দ্রতা ঠিক রাখতে এই প্যাকটি দারুণভাবে কাজ করে।



সবুজ মুগ ডাল

ত্বক পরিচর্যায় প্রাচীনকাল থেকেই মুগ ডাল ব্যবহূত হয়ে আসছে। এটা ত্বক সতেজ করে, উজ্জ্বলতা বাড়ায়। মুগ ডালের স্ট্ক্রাব ত্বক ফর্সা করে ও মুখের অবাঞ্ছিত লোম দূর করে।

পদ্ধতি :মুগ ডাল গুঁড়া করে নিন। এরপর এতে চন্দন ও কমলার খোসার গুঁড়া মেশান। লেবুর রস, গোলাপজল এবং কারি-পাতা একসঙ্গে মিশিয়ে মাস্ক তৈরি করুন।

ত্বকের আর্দ্রতার জন্য ডাল সারারাত ভিজিয়ে পরদিন বেটে মধুর সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করতে পারেন। রোদে পোড়া ভাব কমাতে চাইলে টক দইয়ের সঙ্গে ডালের গুঁড়া মিশিয়ে মুখে মাখুন। শুকিয়ে গেলে পরিস্কার পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

পেঁপে ও মুলতানি মাটি

ত্বক পরিস্কার করতে পেঁপে ও মুলতানি মাটির মাস্ক ভালো কাজ করে। পেঁপে রোদে পোড়া ভাব কমায়। আর মুলতানি মাটি ত্বকের দূষণ এবং সমস্যা দূর করে।

পদ্ধতি : একটা বাটিতে পেঁপে চটকে এর সঙ্গে মধু, লেবুর রস, চন্দন গুঁড়া ও মুলতানি মাটি মিশিয়ে মাস্ক তৈরি করে ব্যবহার করুন।

উপটান

প্রাচীনকাল থেকেই ত্বক উজ্জ্বল ও পরিস্কার রাখার জন্য উপটান ব্যবহূত হয়ে আসছে। নিয়মিত ব্যবহারে উপটান ত্বকের নানা সমস্যার সমাধান করে।

পদ্ধতি : হলুদ, বেসন, চন্দনের গুঁড়া, গোলাপজল এবং দুধ মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে নিন। প্যাকটি ত্বকে মেখে শুকানো পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। তারপর ধুয়ে ফেলুন।

টক দই

টক দই অ্যান্টি অক্সিডেন্টের ভালো উৎস। এটা ত্বক উজ্জ্বল করে এবং ক্ষতিকারক 'ফ্রি র‌্যাডিকেল' থেকে ত্বককে রক্ষা করে। বয়সের ছাপ কমাতেও এটা সহায়তা করে।

পদ্ধতি : এক চামচ তেঁতুল ও লবণ নিয়ে দইয়ের সঙ্গে মেশান। মিশ্রণ তৈরি করে মুখে ব্যবহার করুন। শুকিয়ে গেলে ধুয়ে ফেলুন।

নিমের মাস্ক

নিম ত্বক পরিস্কার করে। ব্যাকটেরিয়ার কারণে হওয়া ব্রণ ও অন্যান্য ত্বকের সমস্যা থেকে রক্ষা করে। এটা খুব ভালো টোনারের কাজ করে।

পদ্ধতি : কয়েকটি নিমপাতা নিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। এতে লেবুর রস ও সামান্য পানি দিন। মাস্ক তৈরি করে তা ত্বকে ব্যবহার করুন। শুকিয়ে গেলে কুসুম গরম পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে নিন।

ত্বকের আরামের জন্য এতে চন্দনও যোগ করতে পারেন। এ ছাড়া নিম ও পানি দিয়ে টোনার তৈরি করে তা ত্বকে ব্যবহার করতে পারেন। ত্বক ভালো থাকবে।

হলুদ ও চন্দন

হলুদ ও চন্দন ত্বক ভালো সুন্দর এবং সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। এটা ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায়। এ ছাড়া নিয়মিত ব্যবহারে ত্বকের বলিরেখা দূর করে।

পদ্ধতি : ব্রণ কমাতে হলুদ ও চন্দনের গুঁড়ার সঙ্গে লেবুর রস যোগ করুন। প্যাকটি মেখে ১০ মিনিট অপেক্ষা করে ধুয়ে ফেলুন। মুখে রোদে পোড়া দাগ থাকলে আক্রান্ত স্থানে মধু ও গুঁড়া যোগ করুন। ভালো ফল পাবেন।

জাফরান

মোগল আমল থেকে রূপচর্চায় ব্যবহূত হয়ে আসছে জাফরান। কিছুটা দামি হলেও ত্বকের জন্য এটি অমূল্য। দুধের সর বা দুধের সঙ্গে জাফরান মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে নিন। প্রতিদিন সকালে রোদে পোড়া দাগের ওপর এটি লাগান। এটি রোদে পোড়া দাগ দূর করতে সাহায্য করবে। গোলাপজলের সঙ্গে কিছু জাফরান মিশিয়ে নিতে পারেন। এরপর সেটি তুলার বলে লাগিয়ে মুখে ব্যবহার করুন। প্রতিদিন ব্যবহারে এটি আপনার ত্বকের রং উজ্জ্বল করবে।

হলুদ ও কাঁচা দুধ

প্রাচীনকাল থেকে ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধিতে হলুদ ব্যবহার হয়ে আসছে। বেসন টক দইয়ের সঙ্গে হলুদ মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে নিন। এরপর এটি শরীরের ফাটা দাগ বা স্ট্রেচ মার্কের ওপর লাগান। নিয়মিত ব্যবহার করলে এই দাগ দূর হয়ে যাবে। এ ছাড়া চালের গুঁড়া, কাঁচা দুধ এবং টমেটোর রস মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। এর সঙ্গে হলুদ মিশিয়ে নিন। এই প্যাকটি ত্বকে ব্যবহার করুন। শুকিয়ে গেলে পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন।

মধু

সব ধরনের ত্বকের সঙ্গে মিশে যায় মধু। ফলে যে কোনো ত্বকের অধিকারীরা এটি ব্যবহার করতে পারেন। মধু রোদে পোড়া দাগের ওপর ঘষুন। প্রতিদিন ব্যবহারে এটি আপনার রোদে পোড়া দাগকে একদম দূর করে দেবে। বেসন, দুধের মালাই বা চন্দনের সঙ্গে মধু মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে নিতে পারেন। এটি ত্বকের যে কোনো দাগ দূর করে ত্বককে করে তোলে উজ্জ্বল কোমল।

টকদই ও ডিম

দুটি ডিমের সঙ্গে দুই টেবিল চামচ বাদাম তেলের সঙ্গে আধা কাপ টকদই মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। এই পেস্টটি চুলে লাগিয়ে শাওয়ার ক্যাপ পরে নিন। ৩০ মিনিট পর শ্যাম্পু করে ফেলুন। এটি চুলের রুক্ষতা দূর করে চুল করবে উজ্জ্বল। এ ছাড়া টকদই এবং লেবুর রস মিশিয়ে ত্বকে ব্যবহার করুন। ৫ মিনিট পর ত্বক পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

চন্দন গুঁড়া ও কাঁচা দুধ

কাঁচা দুধের সঙ্গে চন্দনের গুঁড়া মিশিয়ে তৈরি করে ফেলুন একটি প্যাক। এটি সারা মুখে লাগিয়ে রাখুন। ২০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। এটি আপনার ত্বককে ভেতর থেকে উজ্জ্বল করবে।

মুলতানি মাটি

মুলতানি মাটির সঙ্গে কিছু পরিমাণ টমেটোর রস মিশিয়ে নিন। এরসঙ্গে এক চিমটি হলুদের গুঁড়া এবং চন্দনের গুঁড়া মেশান। এই মিশ্রণটি ত্বকে ব্যবহার করুন। এ ছাড়া মুলতানি মাটি, টক দই এবং পুদিনা পাতার রস একসঙ্গে মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করতে পারেন। এটি ত্বকে কালো দাগের ওপর ব্যবহার করুন। কুসুম গরম পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। া