শৈলী

শৈলী

ফরমালে ফিটফাট

প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০

আসাদুজ্জামান

ব্যক্তিত্ব ও রুচির বহিঃপ্রকাশ ঘটে পোশাকের মাধ্যমে। স্থান কাল পাত্র ভেদে পোশাকে আসে ভিন্নতা। নিত্যনতুন হালের ফ্যাশন আমাদের গায়ে শোভা পায়। তবে সাধারণ জীবনযাপনে আমরা যা-ই পরি না কেন, অফিসের পোশাক নির্বাচনে আমাদের একটু সাবধান হতে হয়। এখন প্রশ্ন হচ্ছে কী ধরনের পোশাক পরবেন অফিসে? অধিকাংশই বলবে ফরমাল পোশাকের কথা। অফিসের পোশাক যেন সবসময় পরিপটি হয় সেদিকে খেয়াল রাখা দরকার

নিজেকে সুন্দর ও পরিপাটি রাখার অন্যতম অনুষঙ্গ পোশাক। ব্যক্তিত্ব ও রুচির বহিঃপ্রকাশ ঘটে পোশাকের মাধ্যমে। সব ছাপিয়ে পোশাক আমাদের নিত্যদিনের সঙ্গী। স্থান-কালভেদে পোশাকে ভিন্ন ছোঁয়া লাগে। ঐতিহ্যবাহী পোশাকের সঙ্গে নিত্যনতুন হাল ফ্যাশন আমাদের গায়ে শোভা পায়। তবে সাধারণ জীবনযাপনে যে পোশাক আমাদের পছন্দ তাই ব্যবহার করতে পারি; কিন্তু অফিসের পোশাক নির্বাচনে আমাদের একটু সাবধানী হতে হয়। চাকরির সাক্ষাৎকার থেকে অফিসের কর্মকর্তা পর্যন্ত সব জায়গায় চাই ফরমাল লুক। পার্টি, মিটিংয়েও কদর আছে এর। সেমিফরমাল কিংবা ফুল ফরমাল যেটাই হোক, অফিসিয়াল মিটিং এবং পার্টি ফাংশনাল ড্রেস হিসেবে ফরমাল বেশ জনপ্রিয় এবং গ্রহণযোগ্য লুক। ক্ল্যাসিক ফ্যাশন সচেতনদের কথা মাথায় রেখে ফ্যাশন হাউসগুলোতে এমন আয়োজন দেখা যায়।

অনেক করপোরেট অফিসে নির্দিষ্ট কিছু পোশাক বা ইউনিফর্ম থাকলেও বেশিরভাগ অফিসে কোনো ড্রেসকোড বেঁধে দেওয়া হয় না। তখনই অনেকে দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়ে যান অফিসের পোশাক নিয়ে। অনেকেই এমন পোশাক পরে আসেন, যাতে অফিসের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়, অনেকেই বুঝতে না পেরে খুব বেশি ক্যাজুয়াল পোশাক পরে চলে আসেন। আবার অধিক সতর্ক হয়ে অধিক ফরমাল হয়ে অনেকে বিপাকে পড়েন। তাহলে এখন প্রশ্ন হচ্ছে কী ধরনের পোশাক পরবেন অফিসে? অবশ্যই অধিকাংশ মানুষই বলবেন ফরমাল পোশাকের কথা।



এমন প্রশ্নের উত্তরে পোশাকের একটি ধরনের কথা মেনে নেওয়া হলেও ফরমাল পোশাক বাছাইয়ের ক্ষেত্রেও বৈচিত্র্য লক্ষ্য করা যায়। তবে অফিসের পোশাক যাই হোক না কেন, তা যেন হয় সবসময় পরিপাটি, সেদিকে খেয়াল রাখা দরকার।

দর্জিবাড়ির প্রধান ফ্যাশন ডিজাইনার তেহসিফ অপু বলেন, ফরমালের ক্ষেত্রে রেগুলার ফিট, সেমি ফিট ও স্লিম ফিটের চাহিদা বয়সভেদে আলাদা। যারা একটু শারীরিকভাবে স্থূল তাদের রেগুলার ফিটটা বেছে নেওয়া ভালো। তরুণরা সেমি ফিট পছন্দ করেন বেশি। তরুণদের জন্য আমারও একই পরামর্শ। স্লিম ফিটটা সবার জন্য নয়। যাদের শারীরিক গঠন ভালো তাদেরই মানায় এটি। অন্যদিকে ছেলেদের ফরমাল পোশাকের ক্ষেত্রে কালারের বৈচিত্র্য কম। তবে সাদা, কালো, ব্রাউন বেজ, রয়েল ব্লু, কফি, পিচ, নীল, ক্রিম, আকাশি বা বেগুনি রঙের ডিপ ও হালকা রঙের ফুল হাতার শার্ট বাছাই করতে পারেন। ফরমালের ক্ষেত্রে প্রচলিত ধারণা বদলেছে। গৎবাঁধা পোশাকের বিপরীতে ফরমাল পোশাকে বৈচিত্র্য এসেছে অনেক। তবে ফরমাল লুকটা ঠিক রাখতে হবে।

সেইলরের ফ্যাশন ডিজাইনার রাজীব কুমার ভাওয়াল বলেন, বর্তমানে ফরমাল ট্রেন্ডে চেক শার্টের প্রাধান্য দেখা যাচ্ছে। ফরমাল পোশাকের ক্ষেত্রে সব সময় প্রাধান্য দিই ফেব্রিকেশন। গত বছর গিজা কটন, এবার আমরা প্রিমা কটন নিয়ে কাজ করছি। এতে অ্যালুমিনিয়াম ফিনিশিং থাকায় আরামদায়ক ও গ্লোসিনেস ধরে রাখে। প্যান্টের ক্ষেত্রে আমরা কটন প্লাস ডিসকোর্সকে প্রাধান্য দিয়ে থাকি। গ্রাহকের ভেরিয়েশনের জন্য আমরা বিজনেস ফরমাল, ফ্যাশন এক্সপ্রেস ও স্মার্ট ক্যাজুয়াল এই তিন ভাগে ফরমাল পোশাককে ভাগ করেছি। সর্বোপরি ফরমাল পোশাক যেহেতু দীর্ঘ সময় পরা হয় তাই ফেব্রিকের ওপর বেশি মনোযোগী হওয়া উচিত। ফেব্রিক ভালো হলে পোশাক আরামদায়ক হয়।

করপোরেট যুগে দক্ষতার পাশাপাশি চাই স্মার্টনেস। এ ক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে হবে ফরমাল পোশাক যেন রঙচঙে না হয়। সব সময় মার্জিত রঙের পোশাক বাছাই করা শ্রেয়। দেশের অধিকাংশ অফিসেই ড্রেসকোড মেনে অফিসে যেতে হয়, বিশেষ করে ছেলেদের। সে বিষয় ও চাহিদার কথা মাথায় রেখেই দেশীয় ফ্যাশনে রেডি টু ওয়্যার ব্র্যান্ডগুলোয় অফিস উপযোগী ফরমাল পোশাক তৈরি করা হয়ে থাকে। শার্ট, প্যান্ট থেকে ব্লেজার কোনো কিছুরই অভাব নেই। মানানসই বটমের সঙ্গে জুতা অথবা লোফারের মতো ট্রেন্ডি কিছু চাই। সব আছে হাউসগুলোতে। বিজনেস ফরমাল কিংবা বিজনেস ক্যাজুয়াল যা-ই পরেন না কেন, ফরমাল পোশাকের প্রয়োজনীয় কয়েকটি জিনিস দরকার হবে। শার্ট, প্যান্ট, শু ও বেল্টের সঙ্গে চাই মানানসই টাই।

শার্টে শান্তি

ফরমাল পোশাকের ক্ষেত্রে শার্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শার্টের আবেদন সব সময়ই বেশি। শার্টের ব্যাপারে আপনাকে ভালো রুচির পরিচয় দিতে হবে। মিটিং বা প্রেজেন্টেশনে পুরোপুরি ফরমাল লুক এবং বাড়তি আত্মবিশ্বাস পেতে বেছে নিন মানানসই শার্ট। আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে ফরমাল ও সেমিফরমাল শার্ট আপনাকে আকর্ষণীয় এবং শান্তি দেবে। আপনার সংগ্রহে ফরমাল, সেমিফরমাল আর ক্যাজুয়াল সব রকমের শার্টই রাখুন। ভালো হয় ক্যাটাগরি ধরে আলাদাভাবে সংগ্রহ করে রাখলে।

প্যান্টে পরিপাটি

শার্টের পাশাপাশি প্যান্ট পছন্দের বিষয়েও সচেতন হতে হবে। জিন্স আর গ্যাবার্ডিন প্যান্টগুলো এখন অনেকেই পছন্দ করেন কিন্তু ফরমাল পোশাকের জন্য বেছে নিন ফরমাল কিংবা সেমিফরমাল প্যান্ট। এখন ফরমাল শার্ট ও প্যান্টের কাপড়ও হয়ে থাকে অনেক বেশি কালারফুল এবং চোখে পড়ার মতো। এসব শার্টের সেলাই এবং ডিজাইনও হয় আধুনিক, রুচিসম্মত, যা শুধু চাকরিজীবীদেরই নয়, অন্যদেরও সেমিফরমাল পোশাক ব্যবহার করার ব্যাপারে উৎসাহী করে তুলছে। প্যান্টের মধ্যে লিনেন বা গ্যাবার্ডিন কাপড়ের প্যান্ট পরতে পারেন। প্যান্টের রং বাদামি, ছাই বা খাকি হতে পারে। হতে পারে কালার কম্বিনেশনেরও। এজন্য সচরাচর সবাই সুতি কাপড়কেই প্রাধান্য দিয়ে থাকেন। রাজীব কুমার ভাওয়াল বলেন, প্যান্টের ক্ষেত্রে ডার্ক এবং শার্টের ক্ষেত্রে লাইট কালার ব্যবহার করাই ভালো।

স্যুটে সুন্দর

সাধারণত ফরমাল পোশাক বলতে আমরা যা বুঝি সেটাই হলো বিজনেস ফরমাল, যাকে অফিসিয়াল পোশাক বলা হয়। একটি সম্পূর্ণ ব্লেজার সেট বা স্যুট আপনাকে ফুল ফরমাল করে তুলবে। এ জন্য স্যুট অনন্য। আবার ঋতুভেদে স্যুট বাদ রেখে শার্ট-প্যান্ট এবং টাই পরলেও ফরমাল লুক ধরে রাখা যায়। তবে অফিসিয়াল চাকরিতে স্যুট আপনার অবশ্যই প্রয়োজন। যে চাকরিই করুন না কেন, কমপক্ষে একটি কমপ্লিট স্যুট বানিয়ে রাখুন। যদি অফিসে স্যুট পরা বাধ্যতামূলক না হয় তাও রাখুন, কারণ বিভিন্ন ফাংশন বা মিটিংয়ে স্যুটের প্রয়োজন পড়বে।

মানানসই জুতা

ফরমালের ক্ষেত্রে অক্সফোর্ড জুতা বেশি মানানসই হলেও ব্যবহারে একটু অসুবিধাজনক হওয়ায় সাধারণ ফরমাল জুতা পছন্দের তালিকার শীর্ষে। কেননা পুরোপুরি ফরমাল জুতার চেয়ে ক্যাজুয়াল লুকের জুতা বেশি মানানসই ও আরামদায়ক হয়। অফিসের ধরন বুঝে সব রকমের জুতাই পরতে পারেন। তবে অবশ্যই ফরমাল আর ক্যাজুয়াল উভয় জুতাই অফিসে রাখুন। ফরমাল জুতা নিয়মিত ব্যবহার করলে ভেতরে লাইনিংয়ের মধ্যে ময়লা জমতে পারে, পা ভালো রাখতে নিয়মিত জুতা পরিস্কার করুন।

টাইয়ের বন্ধন

টাই বা গলাবন্ধনী আপনাকে সত্যিকারের ফরমাল লুক এনে দেবে। আসলে টাই ছাড়া যেন করপোরেট দুনিয়া কল্পনা করাই দায়। শুধু অফিসিয়াল পোশাকেই নয়, টাই যে কোনো ফরমাল লুকে এনে দেয় সৌন্দর্য। বিজনেস ক্যাজুয়াল ফ্যাশনে ক্যাজুয়াল লুকের ভেতর একটু ফরমাল ছোঁয়া এনে দেয় টাই। অফিসে সাধারণ কাজে শার্ট বা তার সঙ্গে সিঙ্গেল টাই পরে কাটিয়ে দিতে পারেন সারা দিন। স্যুট ছাড়াও এখন টাই পরে ফরমাল লুক বেশ জনপ্রিয়। টাই পছন্দের ক্ষেত্রে কালার কম্বিনেশন জরুরি।

প্রয়োজনীয় আরও কিছু

শুধু পোশাক-আশাকে ফিটফাট হলেই হবে না, বেল্ট, হাতঘড়ি, সুগন্ধি, মোজা, ব্রিফকেস, ব্যাগ প্রভৃতির ব্যবহারেও রুচিশীল হতে হবে। তবে ফরমাল লুক আনতে যা-ই ব্যবহার করুন না কেন, তা যেন আপনার ব্যক্তিত্বের সঙ্গে মানানসই হয় সে দিকে খেয়াল রাখা জরুরি।

কেনাকাটা, দাম-দর

১ হাজার থেকে ৪ হাজার টাকার মধ্যে যে কোনো ব্র্যান্ডের কাপড় পেতে পারেন। আবার নন-ব্র্যান্ডের কাপড় পাবেন ৩০০ থেকে ১ হাজার টাকার মধ্যে।

কোথায় পাবেন

ক্যাটস আই, ইয়েলো, দর্জিবাড়ি, সেইলর, আর্টিস্টি, ম্যানজ ক্লাব, মনসুন রেইন, ট্রেন্ডস, ইজি, ওয়েস্টেকস, রেক্স, লার্ক, প্লাস পয়েন্ট, জেন্টল পার্ক, রিচম্যানসহ যে কোনো ফ্যাশন হাউসে কাপড়ের ধরন, কাটিং, প্যাটার্ন, বৈচিত্র্য, নকশা অনুযায়ী পাওয়া যাবে ফরমাল পোশাকের নানা অনুষঙ্গ। এ ছাড়া ঘুরে ঘুরে কিনতে চাইলে বসুন্ধরা, যমুনা ফিউচার পার্ক, নিউমার্কেট, এলিফ্যান্ট রোড, শাহবাগ আজিজ সুপারমার্কেট, নূরজাহান মার্কেটসহ পলওয়েল, গুলিস্তান ও চকবাজারে পাবেন ফরমাল শার্ট-প্যান্টের বাহারি কালেকশন।