শৈলী

শৈলী

শাড়ির সাতকাহন

প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০

নীরা সরকার

মায়ের শাড়ির আঁচলে মেখে থাকে মমতা, বোনের শাড়িতে থাকে মায়া আর প্রিয়ার শাড়িতে উঁকি দেয় দুর্নিবার প্রেম। বাঙালির মানসপটে শাড়ি যেন এভাবেই এক আজন্ম অবিকল্প মোহময়তা সৃষ্টি করে।

ভার্চুয়াল রিয়েলিটির বর্তমান সময় আমাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার পালে ব্যাপক পরিবর্তন আনলেও বাঙালি নারীর পরিধেয় রূপে শাড়ি তার অনন্যতা ধরে রেখেছে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বর্ণিত 'ফ্যাশন' ও 'স্টাইল'-এর ভিন্নতা বিবেচনায় রেখে 'সাতকাহন' বর্তমান সময়ের ফ্যাশন সচেতন নারীদের জন্য নিয়ে এসেছে শাড়ির বিপুল সম্ভার।

বসুন্ধরা সিটি ও উত্তরায় 'সাতকাহন'-এর আউটলেট দুটিতে দেখা মেলে বৈচিত্র্যময় রং ও ডিজাইনের হ্যান্ডপেইন্ট, ডিজিটাল প্রিন্ট, ব্লক-বাটিক, স্ট্ক্রিনপ্রিন্ট, ভেজিটেবল ডাই, অ্যাপ্লিক, এমব্রয়ডারি ও সুতার নকশা করা বাহারি সব শাড়ি। রঙের ব্যবহার, অনবদ্য থিম ও ডিজাইনের অনন্যতার কারণে অন্য যে কোনো ব্র্যান্ড থেকে সাতকাহনকে সহজেই আলাদা করা যায়।

২০১৫ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে সাতকাহন শাড়ির বিভিন্ন থিম নিয়ে কাজ করছে এবং বৈচিত্র্যময় নানা থিমের শাড়ি বাজারে এনেছে। সাতকাহনের এসব থিমভিত্তিক শাড়ির মাঝে ২০১৭ সালে 'পাখি', 'নীল আকাশ' ও 'ঘুড়ি' থিমের শাড়ি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। কটন কাপড়ের ওপরে হ্যান্ডপেইন্টের মাধ্যমে 'ফুল' থিমের ওপরে শিমুল, পলাশ, কৃষ্ণচূড়া, মাধবীলতা, জিনিয়া, নীল অপরাজিতা, চেরি ফুলের নান্দনিক সব হ্যান্ডপেইন্ট শাড়ি তরুণীদের ব্যাপক আগ্রহের সূচনা করে। ঢাকাই নাগরিক জীবনকে শিল্পিত রূপে শাড়িতে ফুটিয়ে তোলার চিন্তা মাথায় রেখে 'রিগ্ধা' থিমকে সামনে নিয়ে আসে তারা। ১২ হাত দৈর্ঘ্যের সেলাইবিহীন কাপড়ে দেশীয় ঐতিহ্যের উত্তরাধিকার ও পুনরাবিস্কার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে 'সাতকাহন' পুরো পানাম সিটিকে তার ক্রেতাদের সামনে তুলে ধরে পানাম সিটি সিরিজের শাড়ির মাধ্যমে।

খ্রিষ্টপূর্ব ২৪৫০ থেকে ২০০০ পর্যন্ত রেশম বোনার সূচনাকাল থেকেই পোশাকশিল্প উপস্থাপনের এক নবতর মাত্রার সংযোজন করে। শৈল্পিক প্যারাডক্স ও ভিজ্যুয়াল আর্ট নির্মাণের বিষয় মাথায় রেখে 'সাতকাহন' নিয়ে আসে 'ক্যামেরা', 'গ্রামোফোন' 'পুতুলনাচ', 'স্বাধীনতা' ও 'মিউজিক নোড' সিরিজের শাড়ি। কিশোরী, তরুণী কিংবা মধ্যবয়স্ক করপোরেট কালচারে অভ্যস্ত নারীদের মাঝে থিমভিত্তিক শাড়ির ব্যাপক চাহিদার কথা মাথায় রেখে ২০২০ সালের দুর্গাপূজা উপলক্ষে 'সাতকাহন' বাজারে নিয়ে এসেছে 'রাধাকৃষ্ণ', 'দুর্গা', 'গণেশ', 'ময়ূর', 'প্যাঁচা' ও 'শারদীয়া' থিমের শাড়ি।

'সাতকাহন'-এর বৈচিত্র্যময় ডিজাইন ও থিমের শাড়ি প্রসঙ্গে স্বত্বাধিকারী নূরুন্নাহার নীলা বলেন, 'বর্তমান প্রজন্মের নারীরা আজকাল শুধু একটি ১২ হাত শাড়িতে তৃপ্ত নন। তারা শাড়িতে আর্ট-কালচারের একটি রিফ্লেকশন দেখতে চান। বর্তমান সময়ের নারীদের যেমন রয়েছে একটি করপোরেট রুচিবোধ, ঠিক তেমনি রয়েছে একটি লিটারেরি রুচি। এই প্রজন্মের নারীরা শাড়িতে একজন বনলতা সেন, একজন পার্বতী, একজন দীপাবলিকে খুঁজে ফেরেন। তাই সাতকাহন যে কোনো প্রোডাক্ট লঞ্চ করার আগে একটি লম্বা সময় হোমওয়ার্ক করে। সেখানে গুরুত্ব পায় নারীর রুচিবোধ, নারীর সামাজিক মর্যাদা, নারীর শিল্পমনস্কতা এবং অবশ্যই বিদ্যমান সমাজ বাস্তবতা।'

'সাতকাহন'-এর স্বত্বাধিকারী আমাদের আরও জানান, তারা খুব শিগগির বাজারে আনতে যাচ্ছে সাহিত্যের নানা জনপ্রিয় চরিত্রের থিম নিয়ে সাজানো একটি সিরিজ। যেখানে প্রাধান্য পাবে জীবনানন্দের 'বনলতা সেন', রবীন্দ্রনাথের 'লাবণ্য', শরৎচন্দ্রের 'পার্বতী' এবং অবশ্যই সমরেশ মজুমদারের সাতকাহনের 'দীপাবলি'। া