শৈলী

শৈলী

ফুলে রঙে নতুন...

প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০

ফ্লোরিডা এস রোজারিও

প্রকৃতির এক অনন্য দান হলো ফুল। ফুলের শোভায় বিমোহিত হয়ে কবি-সাহিত্যিক বা গীতিকাররা লিখে গেছেন কত কবিতা-গান। এই ফুল কখনও ঘর সাজানোর উপকরণ, কখনও উপহার, কখনও প্রিয়ার খোঁপার অলংকার। আর সেই ফুল যখন পোশাকে চলে আসে তখন সৌন্দর্য বেড়ে যায় বহুগুণ। হালের ফ্যাশনে জনপ্রিয় ছাপ নকশা হলো ফ্লোরাল নকশা। পাশ্চাত্য ফ্যাশনে ফ্লোরাল নকশার চল বহু পুরোনো। ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, ষাট-সত্তরের দশকের রেট্রো যুগ থেকেই জায়গা করে নেয় এই ফ্লোরাল নকশা। বিশ্বফ্যাশনের মতো এখন আমাদের দেশি পোশাকেও ফ্লোরাল মোটিফের ছোঁয়া পাওয়া যায়। ছোট-বড়, মাঝারি, গুচ্ছবদ্ধ বিভিন্ন ফুলের সমারোহে ভরে উঠে পোশাক। দেখে মনে হয় যেন আস্ত এক ফুলের বাগান। এখন ফ্যাশনে কুর্তি, লং কামিজ, ম্যাক্সি ড্রেস কিংবা টপস সবকিছুতেই আছে ফ্লোরাল প্রিন্টের বিচরণ।

সব বয়সের মেয়েদের মানিয়ে যায় বেশ। তাই সবকিছু মাথায় রেখে ফ্যাশন ডিজাইনাররা পোশাকে এঁকেছেন বাহারি সব ফুল। ফুলেল নকশার এই কাপড়গুলো এখনকার জনপ্রিয় ট্রেন্ড বলা যায়। তাই নতুন পোশাক কেনার বা বানানোর পরিকল্পনা থাকলে ফ্লোরাল প্রিন্টের কাপড় রাখতে পারেন আপনার তালিকায়। দেশি বিভিন্ন ফ্যাশন হাউসে ঘুরলে দেখা যাবে বিভিন্ন ফুলেল পোশাকের পসরা। এসব ডিজাইন থেকে আপনাকে খুঁজে নিতে হবে আপনার ব্যক্তিত্বের সঙ্গে মানিয়ে যায় এমন ডিজাইন।

ফ্যাশন হাউস ওটুর ডিজাইনার আফসানা আফরিন আনিকা বলেন, এ সময়ের তরুণীরা হাইনেক কলারের ফ্লোরাল প্রিন্টের কুর্তি বেশি পরছে। কাটিং প্যাটার্নে আঙরাখা বেশ চলছে। যেহেতু ফ্লোরাল প্রিন্ট তাই রঙের দিক থেকে উজ্জ্বল রংগুলোকে এই সময় প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। যেন পোশাকটিকে বেশ প্রাণবন্ত ও উজ্জ্বল দেখা যায়। এ ছাড়া জিন্সের সঙ্গে পরার জন্য ফ্লোরাল প্রিন্টের শর্ট টপসগুলোও খুব চলছে। যে কোনো ঋতুতেই ফুলেল নকশার এসব পোশাকের চাহিদা তুঙ্গে।

সারা লাইফস্টাইলের ফ্যাশন ডিজাইনার শামীম রহমান জানান, তরুণরা সব সময় ফ্যাশনসচেতন। ট্রেন্ডের সঙ্গে ফুলেল নকশার পোশাক এখন চলছে। কমলা, হলুদ, পারপেল কিংবা মেজেন্টার মতো রঙের ব্যবহারে পোশাকগুলো তৈরি করা হচ্ছে। টিনএজার থেকে শুরু করে সব বয়সী মেয়ে ফুলেল নকশার পোশাক পছন্দ করে। তাই এর চাহিদা সব ঋতুতেই থাকে।

একসময় পোশাকে ফুলের মেলা দেখা যেত উৎসব-পার্বণে কিংবা বসন্তকালে। কিন্তু ফুলের সাজ এখন শুধু বসন্ত ঋতুতে আটকে নেই। ধারা পাল্টে এখন সব ঋতুর জন্যই তৈরি করা হচ্ছে ফ্লোরাল মোটিফ।

যেহেতু গরম এখনও আছে, তাই সুতি কাপড়ের তৈরি ফ্লোরাল প্রিন্টের কামিজ কিংবা কুর্তির চাহিদা সবচেয়ে বেশি। গরমে স্বস্তি দিতে সুতি অনেক এগিয়ে অন্যান্য কাপড়ের চেয়ে। আবার কিছু পোশাক লিনেন ও সুতির মিশ্রণে মিক্সড ফেব্রিকে বোনা হয়েছে। পোশাকগুলো বেশ আরামদায়ক। অন্যদিকে বিশেষ কোনো পার্টিতে পরার জন্য ফ্লোরাল প্রিন্টের জর্জেট, শিফন বা মখমলের গাউন বা টপস পরতে পারেন। এখনকার টিনএজাররা ফ্লোরাল প্রিন্টের মিনি ড্রেস পরতে খুব পছন্দ করে। যদি মিনি ড্রেসে অস্বস্তি হয় তবে পোশাকের সঙ্গে যায়, এমন একরঙা লেগিংস পরতে পারেন। এ ছাড়া ফ্যাশন হাউসগুলোতে ফ্লোরাল প্রিন্টের ম্যাক্সি ড্রেসও পাওয়া যায়; যা গরমে বেশ আরাম ও স্বস্তি দেয়। চাইলে আপনি সুতির ম্যাক্সি বাসায়ও পরতে পারেন। পোশাকের সঙ্গে মনের রয়েছে এক বিশাল যোগ। পরিধানে যদি থাকে ফুলেল ছাপ, তবে মনও থাকে সতেজ ও প্রাণবন্ত।

স্ট্ক্রিনপ্রিন্ট ছাড়াও ফ্লোরাল প্রিন্টের জামার ওপর এমব্রয়ডারি কিংবা কারচুপির কাজ ফ্যাশনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। নিমন্ত্রণ খেতে গেলে হালকা কারচুপি, এমব্রয়ডারি বা অ্যাপ্লিকের কাজ করা পোশাক বেছে নিতে পারেন। এখন কুর্তি, কামিজ ছাড়া মেয়েদের শার্টেও দেখা যাচ্ছে ফুলেল নকশা। এ ছাড়া দেখা মিলছে পুরোনো ধাঁচের ব্লক, চুমকির মতো কাজও; যা এখনকার ফ্যাশনের সঙ্গে বেশ মানিয়ে যায়।

ব্লক, স্ট্ক্রিনপ্রিন্ট, অ্যাপ্লিক কিংবা এমব্রয়ডারি কাজের পাশাপাশি হ্যান্ডপেইন্ট করা পোশাক এখন বেশ চলছে।

বেশ কিছু অনলাইন শপ এখন হ্যান্ডপেইন্ট নিয়ে কাজ করছে। শিল্পীর হাতের ছোঁয়ায় শাড়ি, ফতুয়া কিংবা কামিজের জমিন হয়ে উঠে ফুলের রাজ্য। শাড়িতে আঁচলজুড়ে কখনও কদম, কখনও চেরিফুল। ওয়ান পিস কুর্তিতে দেখা যায় পুরো জমিনেই ছোট ছোট ফুল। কোনোটায় শুধু হাতাতে ফুলেল ছাপ। তবে শরীরের গড়ন, উচ্চতা সবকিছু মিলিয়ে পোশাক নির্বাচন করা জরুরি।

ফ্লোরাল প্রিন্ট ড্রেসের একটি ভালো দিক হলো এর সঙ্গে একগাদা অ্যাক্সেসরিজ পরা লাগে না। পোশাকে ফুলগুলো যেহেতু রঙিন হয় তাই আলাদা করে বেশি সাজ মানায় না। পোশাকের সঙ্গে হালকা মেকআপ, ছোট্ট কানের দুলেই ভালো লাগে।

কোথায় পাবেন

সারা, এক্সট্যাসি, ওটু, ক্যাটস আই, লা রিভসহ বেশ কিছু ব্র্যান্ডশপে মিলবে এ ধরনের ফুলেল প্রিন্টের পোশাক। তা ছাড়া আড়ং, রঙ বাংলাদেশ, দেশাল, বিশ্ব রঙ, অঞ্জন'স, নগরদোলা, বাংলার মেলা, কে-কদ্ধ্যাফটসহ অন্যান্য দেশীয় ফ্যাশন হাউসেও খোঁজ করতে পারেন। আপনি যদি মনের মতো ডিজাইন দিয়ে পোশাক বানাতে চান তবে সেই উপায়ও রয়েছে। বাজার থেকে ফ্লোরাল প্রিন্টের থান কাপড় কিনে টপস কিংবা কামিজ বানিয়ে ফেলতে পারেন অনায়াসেই।

দরদাম :ওটুতে ওয়ান পিস কুর্তির দাম পড়বে দুই হাজার ৫০০ থেকে তিন হাজার ৫০০ টাকার মধ্যে। টপস এক হাজার ৫০০ থেকে দুই হাজার টাকার মধ্যে। সারাতে দাম ৮০০ থেকে দুই হাজার ৫০০ টাকার মধ্যে। এ ছাড়া অন্য শপগুলোতে ফ্লোরাল প্রিন্টের জামা পেয়ে যাবেন ৮০০ থেকে দুই হাজার টাকার মধ্যে।



মডেল :আবিদা হাসান তোর্ষা, ইমা চৌধুরী, মারিয়া নূর ও অনন্যা সাহা প্রেমা

পোশাক : সারা লাইফস্টাইল, গ্রামীণ ইউনিক্লো

ছবি : রিয়াদ আশরাফ, সিফাত মনোয়ার ও শাহনেওয়াজ শুভ