যতদূর মনে পড়ে তখন ক্লাস সিক্সে পড়ি। বাসায় টিভিতে 'লেডি অ্যান্ড দ্য ট্র্যাম্প' দেখার পর থেকে মাথায় ভূত চাপল পোষ্য হিসেবে আমার কুকুর লাগবেই। বাসায় অনবরত ঘ্যান ঘ্যান চলছে। বাবা রাজি হলেও মা একেবারেই নারাজ। আমি তো কেঁদেই চলেছি। অবশেষে বাবা নিয়েও এলেন বাচ্চা ব্রিড একটা কুকুর। আমি আহদ্মাদে আটখানা। যদিও পোষ্য নিয়ে আমার কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা ছিল না। তখন কে বুঝবে পোষ্য নিয়ে এ তো চ্যালেঞ্জের মধ্যে পড়তে হবে! রাতে হুটহাট ডাক দেওয়া, হাতের সামনে যা পায় তাই ধরে কামড় দেওয়া। এর চেয়েও বড় সমস্যা হলো যেখানে সেখানে টয়লেট করে দিত। একবার বাসার গেট খোলা পেয়ে বাইরে দৌড় দিল। রাস্তায় অন্য কুকুরের আক্রমণে ভীষণ আহত হলো। পশু হাসপাতাল কাছেই ছিল, পরে বাবা আর আমি হাসপাতালে নিয়ে এলাম। ঘাড়ের দিকটায় ভালোই ক্ষত হয়েছিল। ভ্যাকসিন দেওয়া, আরও কিছু ্‌ওষুধ সময়মতো খাওয়ানো ছিল অনেক সমস্যা বা চ্যালেঞ্জের বিষয়। যদিও পরে বড় হওয়ার পর সমস্যা অতটা থাকে না। তবুও বাড়িতে পোষ্যকে সময় দেওয়াটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। একসময় ভেবে দেখলাম বাড়িতে পোষ্য নিয়ে আসাটা হয়তো সহজ, কিন্তু সম্পূর্ণ দায়িত্ব নেওয়াটা অনেক ধৈর্যের কাজ। আপনি কি বাড়িতে পোষ্য আনার কথা ভাবছেন? তাহলে এই লেখাটি পড়ূন, বাড়িতে পোষ্য আনার আগে কিছু বিষয় জেনে রাখা ভালো।

পোষ্যের সারা জীবনের দায়িত্ব নিতে তৈরি?

কুকুর বা বিড়ালের সাধারণ গড় বয়সসীমা ১২ বছর। যদিও কুকুর বা বিড়াল ১৫ থেকে ২০ বছরও বাঁচতে পারে যদি তারা পরিবারের খুব আদরের এবং সম্পর্ক দীর্ঘদিনের থাকে। তাই তাদের প্রতি দায়িত্ব নেওয়াটা জরুরি। শুধু খেলা করার উদ্দেশ্যের জন্য নয়, সময়মতো খাবার খাওয়ানো, হাঁটতে নিয়ে যাওয়া, ওষুধ খাওয়ানো, আরও অনেক কিছু। পরিবারের কারোর পক্ষেই এই কাজ করা সম্ভব না হলে বাড়িতে পোষ্য আনা একদমই সঠিক সিদ্ধান্ত নয়।

পোষ্য কি আপনার লাইফস্টাইলের সঙ্গে খাপ খাচ্ছে?

শুধু দেখতে সুন্দর বা কতটা জনপ্রিয় এর ওপর ভিত্তি করে পোষ্য নেওয়াটা একদমই ঠিক নয়। কারণ পোষ্য অবহেলার শিকার বা যন্ত্রণা দেওয়ার ঘটনা অহরহই আমরা শুনি। প্রথমত জানা উচিত কোন পোষ্যকে আপনি পছন্দ করেন, বা আপনার সঙ্গে সম্পর্কটা সুন্দর হবে কিনা। যেমন, কিছু বিড়ালের প্রতি আপনার উপস্থিতি অনেকবার দেখাতে হবে, যেন তারা বুঝতে পারে আপনি তাদের এড়িয়ে যাচ্ছেন না। আবার কিছু বিড়াল একটু স্বাধীনভাবে চলতে পছন্দ করে। তাই অবশ্যই এর জন্য গবেষণা বা পড়াশোনা করাটাও অনেক গুরুত্বপূর্ণ।

পোষ্যের প্রতি পর্যাপ্ত সময় দেওয়া

পোষ্যেকে প্রতিদিনই পর্যাপ্ত সময় দিতে হবে। যাতে তারা আপনার সঙ্গে থাকতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। এক্ষেত্রে প্রতিদিনই নির্দিষ্ট সময় তাদের জন্য বরাদ্দ রাখতে হবে।

পোষ্য আনার আগে চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করা

পেটশপ থেকে কুকুর বা বিড়ালছানা অ্যাডপ্ট করার আগে অবশ্যই পশু চিকিৎসকের সঙ্গে ভালোভাবে আলোচনা করে নেওয়া উচিত। কারণ সব পোষ্য সমান নয়, সুতরাং একজন পশু চিকিৎসক ভালো বলতে পারবেন পোষ্য হিসেবে কোন কোন প্রাণী উপযুক্ত। কারণ ওই পোষ্য সারা জীবন আপনার সঙ্গেই থাকবে সুতরাং পোষ্য আনার আগে বেছে নেওয়াটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ।

পোষ্যের খাবার সম্বন্ধে জানা

বাড়িতে পোষ্য আনার ক্ষেত্রে খাবারের বিষয়টা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। তাদের কিন্তু বারবারই খাবার দিতে হবে। তাই পর্যাপ্ত খাবার মজুদ রাখাটা জরুরি, কিছু কিছু পোষ্যকে খাবার খাওয়ানোটা অনেক ধৈর্যের বিষয়। তাছাড়া বাজার থেকে কোনো অ্যানিমেল ফুড আনার আগে পোষ্যের বয়সের যোগ্য কিনা দেখতে হবে। কোন পোষ্যের জন্য কোন খাবার- এ বিষয়ে জ্ঞান রাখা দরকার। এক্ষেত্রে ভেটের সঙ্গেও আলোচনা করতে হবে।

নিচের কিছু বিষয় অবশ্যই মাথায় রাখবেন

যেখানে সেখানে সিগারেটের বাঁট, চুইংগাম- এসব জিনিস ফেলা উচিত নয়, এগুলো পোষ্যের পেটে গেলে অনেক ক্ষতি হতে পারে। মানুষের চুল পোষ্যের জন্য ক্ষতিকর, বাড়িতে ইলেকট্রিক তার যেখানে সেখানে ঝুলিয়ে না রাখা, তাছাড়া বাড়িতে বিষাক্ত ফল বা ফুলের গাছ রাখা একদমই উচিত না, বাসার মেঝেতে ফিনাইল বা ডেটলের বদলে লবণ ব্যবহার করে ঘর মুছুন, এগুলো কুকুর বা বিড়ালের পেটে গেলে ভীষণ ক্ষতি হতে পারে। তাছাড়া পোষ্যের শরীরে উকুন বা বিভিন্ন পোকা না হয়, এর জন্য সময়মতো গোসল করানো এবং পাখি, পশুর মল যেন কোনোভাবেই পোষ্যর পেটে না যায় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। া

মন্তব্য করুন