সামনেই আসছে পহেলা বৈশাখ। গত বছরের এই দিনে কাটানো হয়েছে গৃহবন্দি বিরান সময়। হয়নি উদযাপন এবং হৈচৈয়ের কোনো ঘটা। এবারের পরিস্থিতিটা প্রায় একই রকম হলেও তুলনামূলকভাবে কম জনমানবশূন্য হবে বলেই আশা করা যায়। তবে আর কিছু না হোক, নতুন বছরে নিজের বাড়ি নতুনভাবে সাজানো যেতেই পারে। যদি উৎসবের আয়োজনও করা যায় এর সঙ্গে, তবে তো ষোলোকলা পূর্ণ! ঘরে নতুন বেশভূষা দেওয়ার আগে যে কাজটি করা সবচেয়ে প্রয়োজন, তা হলো ঘর-বাড়ি সব সময় পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা। বাড়ি যত সজ্জিতই হোক না কেন, আসবাবপত্রের ওপর ধুলা জমে থাকা নিতান্তই অবাঞ্ছিত ব্যাপার। এবারের বৈশাখে বাড়ির ভোল বদল করা নিয়ে আর্কিডেন ইন্টেরিয়রের প্রিন্সিপাল ডিজাইনার সাউদ শীতল বলেন, 'উৎসব অনুসারে যেহেতু বাড়ির ফাংশনাল অর্থাৎ আসবাবপত্র সচরাচর পরিবর্তন করা সম্ভব হয় না, বাড়ির ডেকোরেটিভ দিক বা টুকিটাকি সাজসজ্জা যেমন- দেয়ালের রং, জানালার শেড, ফুলদানি, আলোকসজ্জা ইত্যাদি বিষয় বেশি প্রাধান্য পায়। এ ছাড়া পহেলা বৈশাখে আমরা লাল, সাদা, কালো এসব রং বেশি প্রাধান্য দিয়ে থাকি। প্রাধান্য পায় আলপনাসহ বিভিন্ন ধরনের মোটিফ।'

আরও যা যা করতে পারেন

সোফায় কিংবা শোবার ঘরের খাটে উজ্জ্বল রঙের কুশন ব্যবহার করুন। রং উজ্জ্বল হলে দেখবেন ঘরও উজ্জ্বল দেখাচ্ছে। গাঢ় এবং অনুজ্জ্বল রং ঘর অন্ধকার করে রাখে। যেহেতু নববর্ষ লাল-সাদাকে প্রাধান্য দিয়ে, আপনার রুচি অনুসারে সাজিয়ে নিতে পারেন।

আজকাল প্রায় সব বাড়ির মেঝেতেই টাইলস করা থাকে এবং কোনো নকশা বা আলপনা করা সম্ভব হয় না। চাইলে আলপনা নিয়ে আসতে পারেন ঘরের দেয়ালে, জানালার কাচে কিংবা ফুলদানিতে! জানালার কাচে রঙের শেড বাড়িয়ে-কমিয়ে নিয়ে করতে পারেন আরও আঁকিবুঁকি।

আলোকসজ্জা বা লাইটিংকে প্রাধান্য দিন। লণ্ঠনের ব্যবহার গৃহসজ্জায় আনতে পারে বৈচিত্র্য। এ ছাড়া ওয়াল ল্যাম্প এবং সিলিংয়ে মরিচবাতির আলো দিয়ে সাজানোর উপায় তো আছেই।

ঘরের দেয়ালের রং এবং বিছানার চাদরের রংকে প্রাধান্য দিয়ে পর্দার রং বাছাই করুন। একেবারেই একরকম হতে হবে, এমন কথা নেই। তবে মিল থাকলে দেখতে অবশ্যই সুন্দর লাগবে। বাঙালিয়ানার ছোঁয়া আনতে পর্দায়ও আনতে পারেন বৈচিত্র্য। শাড়ির কাপড়ে যদি তৈরি হয় ঘরের পর্দা, তাহলে কদর তার ভালোই হবে। এ ছাড়া গামছার কাপড়, ব্লক-ছাপার পর্দা তো আছেই।

জুতা রাখার জন্য অবশ্যই শু-র‌্যাকের ব্যবস্থা রাখুন। কারণ, বাইরে থেকে জুতা নিয়ে এসে ঘরের যেখানে-সেখানে খুলে রাখলে এর ধুলাবালু ও ময়লা ঘরের সৌন্দর্য ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা অনেকাংশেই কমিয়ে দেয়। অনেক অতিথি যদি নিমন্ত্রিত থাকেন আপনার বাড়িতে, তবে তো এটি ছাড়া চলবে না বললেই চলে।

আসবাবপত্র বা ফাংশনাল ডিজাইন সচরাচর পরিবর্তন করা সম্ভব হয় না। তাই আসবাবপত্রের বিন্যাস এমনভাবে করুন, যেন ঘর দেখতে ঘিঞ্জি এবং বদ্ধ না লাগে। কখনও একই সারিতে অনেক বড় আকারের আসবাব রাখবেন না। আসবাব নতুন, চকচকে রাখতে ঘন ঘন বার্নিশের পেছনে টাকা খরচ করতে হবে, তা কিন্তু নয়। কয়েক ফোঁটা অলিভঅয়েল এবং লেবুর রস মিশিয়ে নিন। চটজলদি একটি পরিস্কার কাপড় মিশ্রণে ডুবিয়ে আসবাবপত্র মুছে ফেলুন। পাঁচ-সাত দিন পরপর করলে পুরোনো আসবাবও দেখতে বেশ সুন্দর লাগবে।

প্লাস্টিক বা কাপড়ের ফুলের চেয়ে তরতাজা কাঁচা ফুল ঘরের সৌন্দর্যবর্ধন করে শতগুণ। আবার স্ট্ক্রিনপ্রিন্ট করা ফুলদানির চেয়ে স্বচ্ছ কাচের ফুলদানিতে ফুল সাজালে তা দেখতে সুদৃশ্য হয়। আপনি আপনার পছন্দ অনুযায়ী ফুল সাজাতেই পারেন। ফুলের অনুরাগী যদি না হয়ে থাকেন কিংবা ফুলের ঘ্রাণ সমস্যার সৃষ্টি করে, সে ক্ষেত্রে মানিপ্লান্ট, ক্যাকটাস, বনসাই এসবও ব্যবহার করতে পারেন।

পহেলা বৈশাখে ঘরে বাঙালিয়ানার ছোঁয়া রাখতে ভুলবেন না। কার্পেটের জায়গায় শীতলপাটি কিংবা শতরঞ্জি ব্যবহার করা যেতেই পারে। দামি শোপিসের স্থানে টেরাকোটা ও টেপা পুতুল, দেয়ালে পটচিত্র বাড়িকে সাজাবে পুরো বাঙালি আমেজে।

মন্তব্য করুন