কনক্রিটে যেন বন্দি হয়ে গেছে জীবন। শহুরে হাইরাইজ দালান এবং ধুলাবালির মাঝে যেন হারিয়ে গেছে সবুজের অস্তিত্ব। রাস্তাঘাটে সবুজের ছোঁয়া পাওয়া না গেলেও বাড়িকেই করে তুলতে পারেন সবুজের ঠিকানা। তা হতে পারে ইনডোর পল্গান্টের মাধ্যমে। কিন্তু অনেকেই জানেন না, কী ধরনের গাছ ঘরে রাখা যায়। আবার কোনো নার্সারিতে গেলে বিক্রি বাড়ানোর আশায় বেশ কিছু গাছ ধরিয়ে দিতে পারে; যা কয়েকদিনের মধ্যেই নষ্ট হয়ে যেতে পারে। অন্দরসাজে বৈচিত্র্য আনতে ঘরে এনে রাখতেই পারেন নানা ইনডোর পল্গান্ট। এগুলোর মধ্যে কিছু আছে, যা বাতাসকে দূষণমুক্ত করে তুলতে পারে। আবার কোনোটির অপরূপ সৌন্দর্য আপনাকে মুগ্ধ করে রাখবে।

স্নেক পল্গান্ট : লম্বা, দীর্ঘ সতেজ পাতাগুলো দেখলে অনেকেই সাপের সঙ্গে সাদৃশ্য খুঁজে পাবেন। তাই নাম তার স্নেক পল্গান্ট। নাম শুনে ঘাবড়ানোর কোনো কারণ নেই। এর আসল নাম সানসেভিয়েরিয়া। এর পরিচর্যার জন্য আপনাকে খুব একটা বেগ পেতে হবে না। সুদূর আফ্রিকায় জন্ম নেওয়া এই গাছ, দীর্ঘ সময় ধরে আলো এবং পানি ছাড়া থাকতে পারে। শুধু তাই নয়, নাসা ক্লিন এয়ার স্টাডির একটি গবেষণা অনুযায়ী বেনজিন বা ফরমালডিহাইডের মতো ক্ষতিকারক পদার্থ থেকে বাতাসকে রক্ষা করে এই গাছ। রোপণ করার সময় ভালো ড্রেনেজের ব্যবস্থা রাখতে হবে। সরাসরি সূর্যরশ্মির সংস্পর্শে একে রাখবেন না। দেশের বিভিন্ন নার্সারিতে স্নেক প্লান্ট নামে পেয়ে যাবেন গাছটি।

লেডিস স্লিপার অর্কিড : হলুদ বা গাঢ় বেগুনি রঙের এই অর্কিড ফুলের গাছটি আপনার ঘরের যে কোনো কোনায় রাখলে মানিয়ে যাবে। গাছের পাতার সংখ্যা দুটি। ঘন সবুজ পাতার মাঝ থেকে হলুদ বা বেগুনি রঙের এক চিলতে সুন্দর ফুল উঁকিঝুঁকি মারে। একে ঈষৎ স্যাঁতসেঁতে মাটিতে রোপণ করলেই ভালো। পানি দেওয়ার সময় খেয়াল রাখবেন, যেন তাতে কোনো রকম কেমিক্যাল না থাকে। বৃষ্টির পানি অথবা ডিস্টিলড ওয়াটারের জন্য আদর্শ। বসন্ত এবং গ্রীষ্ফ্মের শুরুর দিকে দু'বার সার দিলেই হলো। সূর্যরশ্মির সঙ্গে সরাসরি সংস্পর্শে না আনাই ভালো।

জারবেরা ডেইজি : যদি অন্দরে আরেকটু রঙের আভাস দিতে চান। তাহলে এই গাছটি আপনার জন্য উত্তম। জনপ্রিয়তার দিক দিয়ে সারাবিশ্বে পঞ্চম স্থান অধিকার করেছে এই গাছের ফুল। এই পদক যে একেবারে সার্থক তা এর অপূর্ব সুন্দর বড় বড় কমলা বা গোলাপি রঙের ফুলগুলো দেখলেই ঠাহর হয়। তারা অল্পস্বল্প রোদ পছন্দ করে। এর পাতাকে শুকনো রেখে শিকড়ে পানি দেওয়ার ব্যবস্থা করুন। শীতের সময় জলের পরিমাণ ধীরে ধীরে কমিয়ে আনুন। প্রতি দুই সপ্তাহে সার দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।

এ ছাড়া ঘরদোরে বৈচিত্র্য আনতে চাইলে রকমারি ইনডোর প্লান্ট বাড়িতে আনতে পারেন। আপনার সংসারের সবুজের ছোঁয়া এবং রঙের পরশ, দুই-ই নিয়ে আসবে সুন্দর এই ইনডোর পল্গান্টের সম্ভার। চেনাজানা গাছগুলোর মধ্য পাবেন বিভিন্ন রকম অর্কিড, ক্যাকটাস এবং পাথরকুচিসহ রকমারি গাছ।

মন্তব্য করুন