আঙুলের ডগায় স্মার্টফোন, ইন্টারনেট আর সোশ্যাল মিডিয়ার বৈচিত্র্যময় হাতছানি। বহুরৈখিক ফ্যাশনের রঙিন উপস্থাপনায় তরুণ প্রজন্মের ঝোঁক এখন পাশ্চাত্য ফিউশন ফ্যাশনের দিকে। এ কারণে তারুণ্যের বেশ খানিকটা অংশ উৎসবেও নিজেদের ঐতিহ্যবাহী কাপড়ের ব্যবহার থেকে সরে যাচ্ছে। তবুও উৎসব এবং প্রতিদিন আউটগোয়িং তরুণীদের মাঝে কুর্তি কামিজের চাহিদা বেশি।

কুর্তি বা সিঙ্গেল কামিজে এসেছে ব্যাপক পরিবর্তন। লং কুর্তি, প্রিন্ট কুর্তি, পকেট দেওয়া কুর্তি নানা রূপে হাজির করছেন ডিজাইনারা। একদিকে যেমন সময়োপযোগী, তেমনি টিন থেকে ত্রিশ- সবাই সব পরিবেশে পরতে পারেন এই জনপ্রিয় পোশাকটি। কুর্তা বা কামিজে নেকলাইন, বটমলাইন ও হাতা সবটাতেই বৈচিত্র্য এসেছে। এসেসট্রিক কাট অর্থাৎ পোশাকের পেছনে লম্বা এবং সামনের খাটো কাট চলবে আরও কিছু দিন। আবহাওয়ার কারণে এবারও উৎসবে প্রিন্টের প্রাধান্য বেশি দেখা যাবে। বৃষ্টির একটা আবহ থাকবে বলে এবার পোশাকের রঙে নীল ও সবুজের প্রাধান্য থাকবে। লিনেন, কটন, শামু সিল্ক্কের সঙ্গে সঙ্গে জর্জেট কাপড় বেশি ব্যবহার করা হয়েছে পোশাকের ফেব্রিক হিসেবে।

নদীর মতো বহমান ফ্যাশন স্রোতে কালের আবহে ঘুরেফিরে আসছে সব ধরনের স্টাইল। যেখানে সব ধরনের ফ্যাশনই 'অন'। নিজের স্টাইলের সঙ্গে মিলিয়ে যে কোনো একটা পছন্দ করে নিচ্ছেন ফ্যাশন সচেতনরা। তাই শুধু ফ্যাশন হাউস নয়, নিজেরাও গবেষণা করে যোগ করছেন ভিন্ন কোনো ডিজাইন বা অন্য কোনো ঢং। নিজেকে আলাদা এবং স্টাইলিশ করে উপস্থাপনের এই প্রচেষ্টাও কিন্তু চলে আসছে যুগ যুগ ধরে। এখনই সময় নিজের ব্যক্তিত্বের সঙ্গে মিলিয়ে সঠিক কুর্তা-কামিজ বেছে নেওয়ার।

একই কাটছাঁট বেশিদিন অনুসরণ করে না ফ্যাশন ট্রেন্ডসেটাররা। তবে কুর্তার ব্যবহারিক বৈচিত্র্যের কারণে তরুণীদের কাছে সিঙ্গেল কামিজ বা কুর্তার ব্যবহার বাড়ছেই। কুর্তা যে কোনো সালোয়ারের সঙ্গে মিলিয়ে পরা সম্ভব। এতে একেক রকম সালোয়ারের ক্ষেত্রে একেক লুক আসে।

বডিতে ফিটিং প্যাটার্নেই বছরজুড়ে চলছে অধিকাংশ কামিজের ডিজাইন। কাটিংয়ে অনেকটা ক্ল্যাসিক জায়গাই ধরে রেখেছে। তবে ফ্যাশনে সময়টা যেহেতু গ্রীষ্ফ্মকাল, সেহেতু বডি কাটিংয়ে দু-চারটা নতুনত্ব তো চোখে পড়েই। তাও পূর্ব ফ্যাশনের বাইরে নয়। তেমনি কিছু ডিজাইনের মধ্যে ঢোলা, কার্ভ স্লিভ, বেল স্লিভ উল্লেখ্য। সেমি বোট নেক, পোর্ট্রেট, জুয়েল, স্কোয়ার, গেদার্ড নেক, সেট ইন স্লিভ নেকের মতো প্যাটার্নেও উন্নত ডিজাইন দেশীয় কামিজে চোখে পড়ে বেশ আগে থেকেই। কুর্তায় এমব্রয়ডারি, প্রিন্টের কাজ খুব বেশি জমকালো হলে তা বেমানান। তবে বডিতে হালকা কাজ ট্রেন্ডের মধ্যেই। কুর্তায় সবচেয়ে বেশি নতুনত্ব এসেছে ড্রেসের বটমে। অনেকটা সময় দেশীয় কামিজে প্রায় একই রকম কাটিং দেখা গেছে।

বর্তমান ফ্যাশন ট্রেন্ড অনুযায়ী কামিজগুলোকে লম্বা করা হচ্ছে। এগুলো লম্বা হাতারও হয় আবার স্লিভলেসও পাওয়া যায়। তবে কার্ভ স্লোডার এখন ট্রেন্ডে ইন! আর কাপড়ের ক্ষেত্রে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে ভয়েল, লিনেন, ডুপিয়ান, ডবি ফেব্রিক্স। হালকা রঙের সুতি, লিনেন, খাদি আর তাঁত কাপড়ে তৈরি হচ্ছে নকশাদার স্লিভলেস বা কম দৈর্ঘ্যের হাতার কামিজ আর কুর্তা স্টাইলের লম্বা কামিজ। সিঙ্গেল কামিজের ক্ষেত্রে থ্রি কোয়ার্টার বেশি মানানসই।

মেয়েদের টপস ডিজাইনে এখন জনপ্রিয় নাম ফ্রিল স্টাইল। ফ্রিল হচ্ছে কুচি। মানে কুচির বিভিন্ন ব্যবহার এখন মেয়েদের টপসে লক্ষ্য করা যায়। আজকাল ঢিলেঢালা টপসের চল বেশ চোখে পড়ছে। ঢিলেঢালা টপসেও ফ্রিলের ব্যাপকতা দেখা যায়। বডিতে ফিটিং প্যাটার্নই গত কয়েক বছর অধিকাংশ ডিজাইনে দেখা গেছে। যার সঙ্গে পুরোপুরি ভিন্নমাত্রা এনেছে ফ্রিল। টপসের নেকের অংশে দেখা যায় বেশি ফ্রিলের কাজ। ফ্রিল টপসের নেকে সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম মাত্রা এনে দিয়েছে, যা এখন বেশ জনপ্রিয়। নেক থেকে নরমাল গেদার বা ফ্রিল নিচে নেমে আসার ডিজাইন কমবেশি সব সময়ই পরিলক্ষিত। আবার টপস বা টিউনিকের ক্ষেত্রে স্লিভেও থাকবে বৈচিত্র্য। প্রিন্সেস স্লিভ, ফ্লেয়ার্ড স্লিভ, সার্কুলার স্লিভ, স্লিট স্লিভ, কেপ স্লিভ, ফ্লস স্লিভ প্রাধান্য পাবে ঈদ ফ্যাশনে। এ ক্ষেত্রে পোশাকের প্যাটার্ন হবে সাদামাটা। এ বছরের শুরু থেকেই টার্সেল এবং ফ্রিলের ব্যাপক ব্যবহার দৃশ্যমান এবং এবার ঈদেও খুব একটা ব্যতিক্রম হবে না। পাশাপাশি লম্বা ঝুলের সিঙ্গেল কামিজ এখনও ফ্যাশনে ইন।

লেখক : চেয়ারম্যান, জেন্টল পার্ক

মন্তব্য করুন