ছেলেদের ঈদের সকালটাই শুরু হয় পাঞ্জাবি দিয়ে। ঘুম থেকে উঠে গোসল করেই নতুন পাঞ্জাবি পরে ঈদগাহের দিকে ছুটতে হবে। এটা যেন একদম বাঁধাধরা নিয়ম। তাই পাঞ্জাবি না হলে কি আর চলে! করোনাকালে যদিও এবারের ঈদটা অন্যবারের থেকে আলাদা। পাঞ্জাবির জায়গা অন্যকিছুই দখল করতে পারবে না। তাই সীমিত পরিসরে মার্কেট খোলা থাকলেও এর মাঝেই জমে উঠেছে বিকিকিনি। মার্কেটগুলো ঘুরে দেখা গেল দেশি পোশাকের শোরুমে ছেলেদের পোশাকে সবচেয়ে বেশি নজর পাঞ্জাবিতেই। যমুনা ফিউচার পার্কের আর্টিসান, টপটেন, ইস্টাসি, ব্যাঙ, ইজি, সেইলর এবং জেন্টাল পার্কের মতো শোরুমগুলোতে ক্রেতা সমাগম একটু বেশি। যদিও শোরুমগুলোর সামনে ক্রেতা প্রবেশের সংখ্যা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। আবার অনলাইনে রয়েছে সব শোরুমের ভার্চুয়াল স্টোর। তাই বলে কি একটু না দেখে নিলে হয়!

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পাল্টায় পোশাক-আশাকের ধরন। করোনায় নতুন পোশাক পরে ঈদকে আরও রঙিন করতে পারেন। এবারও পাঞ্জাবির ধরন অনেকটা লম্বা ধরনের। তবে সেমি লং পাঞ্জাবিও চলছে। চেনাজানা প্রায় সব ফ্যাশন হাউসে রয়েছে অনলাইন স্টোর। আবার যাদের নেই, তারাও ফেসবুকের মাধ্যমে অর্ডার নিচ্ছেন। সেখানে অন্যসব পোশাকের সঙ্গে রয়েছে পাঞ্জাবিও। তরুণরা একটু বেশি কালারফুল পাঞ্জাবি পছন্দ করছেন। আবার অনেকে বেছে নিচ্ছেন সফেদ জমিন। গলার কাছে কিছু কারুকাজ। অনেকে সেকেলে মনে করলেও যায় আসে না। এসব পাঞ্জাবির কাটতি আগেও ছিল, এখনও আছে আর ভবিষ্যতেও থাকবে। আবার অনেকে শখ করে ঈদের খাদি কাপড়ের পাঞ্জাবি পরে থাকেন। একরঙা পাঞ্জাবির মধ্যে সাদা, অফহোয়াইট, হলুদ, নীল এবং হালকা রংগুলোর বিক্রি বেশি। হ্যাঁ, এখন আর ভারি কাজের তেমন চাহিদা নেই। তবে হাতের কাজের কদর অনেক। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের নারীদের নিপুণ হাতে কাজ করা পাঞ্জাবিগুলো স্থান পাচ্ছে নামিদামি ব্র্যান্ডশপে।

ছেলেদের ফ্যাশনেও যে বড় পরিবর্তন এসেছে তা বোঝা যায় পাঞ্জাবির দিকে তাকালেই। ঈদের সকালে বাবার পছন্দ করা ঢিলেঢালা সফেদ পাঞ্জাবির সঙ্গে চুড়িদার পায়জামা। এটা না পরলে যেন ঈদই হবে না। সেই যুগ থেকে স্টাইলিশন রঙিন পাঞ্জাবির সঙ্গে পায়জামা। চুড়িদার নয়, একদম এ কালের স্টাইলে। পাঞ্জাবির সঙ্গে মিলিয়ে কিনতে পারেন পায়জামা অথবা জিন্সও পরে নিতে পারেন। তবে সঙ্গে সেই চামড়ার স্যান্ডেল রাখতেই হবে। এত কিছুতে কিন্তু মন্দ লাগে না। রঙিন এসব পাঞ্জাবিতে সবচেয়ে বেশি নজর কাড়ছে ফুলেল আবহ। ফুলসহ লতাপাতার ব্যবহার দেখা যাবে পাঞ্জাবির বাটন প্লেট, কলার ও হাতার ওপর-নিচে। সেই সঙ্গে তরুণরা পছন্দ করছেন ত্রিমাত্রিক ছাপার কাজ। ঈদে দুই ধরনের পাঞ্জাবি দেখা যাচ্ছে। কিছু একদমই সাদামাটা। আর কিছু পাঞ্জাবিতে থাকবে ভারি কাজ। মূলত পাঞ্জাবিতে জমকালো ভাব আনতে নানা রকম হাতের কাজ, এমব্রয়ডারি, সুতার নকশা, বাটিক ও কাতান কাপড়ের নকশা থাকছে। তবে একটি ভালো দিক হলো, প্রায় সব পাঞ্জাবিতে ব্যবহার হচ্ছে সুতি কাপড়। এই গরমে সত্যিই এটি হতে পারে একমাত্র আরামদায়ক পোশাক। তবে কিছু পাঞ্জাবিতে আছে সুতির সঙ্গে সিল্ক্কের মিশেল। ফলে পাঞ্জাবি হচ্ছে আরও বেশি মোলায়েম। পাঞ্জাবির সঙ্গে মানিয়ে কিনতে পারেন পায়জামা, প্যান্ট কাটের পায়জামা ও স্ট্যাকট প্যান্ট।

ফ্যাশন হাউস আড়ং, ওটু, লুবনান, ইনফিনিটি, জেন্টেল পার্ক, মেনজ ক্লাব, ক্যাটস আই, লা রিভ, টুয়েলভ, যাত্রা, স্মার্টেক্স, অরণ্য, দেশীদশ, তাগা ম্যান ও কোড, প্লাস পয়েন্ট, ইজি, ব্যাং, র নেশন, অক্সিজেন, সেইলর, ইয়েলোসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের পাঞ্জাবি পাওয়া যাবে। এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন মার্কেট এবং দোকানে মিলবে পছন্দের পাঞ্জাবি। প্রিন্টের পাঞ্জাবি কেনা যাবে এক হাজার ২০০ টাকা থেকে পাঁচ হাজার টাকায়। একরঙা কাজ করা পাঞ্জাবি পাবেন দুই হাজার থেকে ১০ হাজার টাকার মধ্যে। এ ছাড়া বিভিন্ন শোরুমে মিলবে কাবলি সেট। এসব সেটের দাম দুই হাজার ৫০০ টাকা থেকে আট হাজার টাকা।

ছবি ও পোশাক :ইজি

মন্তব্য করুন