ফ্যাশন শিল্পে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন ট্রেন্ড যোগ হয়। ঋতু বদলের সঙ্গে বদলায় ফ্যাশনের ধরনও। এ ক্ষেত্রে অন্যান্য পোশাকের মতো মেয়েদের প্যান্টের প্যাটার্নেও দেখা যাচ্ছে নানা বৈচিত্র্য। স্টাইলিশ প্যান্টের প্যাটার্ন নিয়ে লিখেছেন- ফ্লোরিডা এস রোজারিও

ফ্যাশন সচেতন তরুণীরা ঋতুভিত্তিক পোশাকে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন বেশি। পোশাকের সঙ্গে এ সময় এমন ধরনের প্যান্ট বেছে নিন যা মানানসই, একইসঙ্গে আরামদায়কও। যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্যান্টের জগতে এসেছে নানা পরিবর্তন। ডিজাইন, প্যাটার্ন ও রঙের ক্ষেত্রেও এসেছে নতুনত্ব। ফলে প্যান্টগুলো আরও আকর্ষণীয় আর ফ্যাশনেবল হয়েছে। পালাজো, জেগিংস, লেগিংস, কুলট, হারেম, ক্যাপ্রি ইত্যাদি নানা ধরনের প্যান্টের চল চলছে এখন ফ্যাশন দুনিয়ায়।

ফ্যাশন হাউস কে কদ্ধ্যাফটের স্বত্বাধিকারী খালিদ মাহমুদ খান বলেন, 'এই সময়ে নানা ধরনের টপস, কুর্তি, লং ড্রেস, লং কামিজ, শার্টের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ প্যান্ট পরে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে থাকেন বিভিন্ন বয়সী মেয়েরা। ফলে প্যান্টের প্যাটার্নে এসেছে বৈচিত্র্য। তরুণ ক্রেতাদের কথা ভেবে আমরা নানা ডিজাইনের বটমের কালেকশন সাজিয়েছি।'

এই গরমে আরামদায়ক প্যান্ট হিসেবে চলছে পালাজোর দাপট। জনপ্রিয়তার মাপকাঠি বিচার করলে পালাজো এখন সবার শীর্ষে। ঢিলেঢালা আর আরামদায়ক বলে এই গরমে পালাজোর দিকেই আগ্রহ বেশি সব বয়সী মেয়ের। ওপরের দিকটা কিছুটা চাপানো এবং নিচের দিকটা বেশ ছড়ানো থাকে; যা কুর্তি, কামিজ, টপ, টি-শার্ট সবকিছুর সঙ্গেই মানানসই। একরঙা পালাজো হলে পোশাকটি বেছে নিন প্রিন্টেড। আবার পোশাকটি যদি প্রিন্টেড হয় তবে পালাজো একরঙা পরুন। এতে পালাজোটি ফুটে উঠবে সুন্দরভাবে। টপস কিংবা টি-শার্ট ইন করেও পালাজো পরতে পারেন। লম্বা গড়নের মেয়েদের পালাজোতে বেশ মানায়। তবে উচ্চতায় কম হলেও সমস্যা নেই, সে ক্ষেত্রে হিলযুক্ত জুতা পরলে ভালো লাগবে।

পালাজোর মধ্যে বেশকিছু প্যাটার্ন রয়েছে। এর মধ্যে বক্স প্লিটেড পালাজো বেছে নিচ্ছেন অনেক তরুণী। এটি বেশ ট্রেন্ডি বটম ওয়্যার। বক্স প্লিট থাকায় এই প্যান্টটি বেশ ঢিলেঢালা ও ঘেরওয়ালা হয়; যা এই গরমের উত্তম সঙ্গী বলা যায়। তবে কোন ছাঁটের পালাজো আপনাকে মানাবে তা বুঝে কিনতে হবে। কাপড়ের ক্ষেত্রে এই গরমে সফট কটন বেছে নিন। আরাম পাবেন।

অনেকে ট্রাউজার ও স্কার্টের মধ্যে বেছে নিতে পারছেন না কোনটা পরবেন। এর জন্যও রয়েছে সমাধান। কুলট ট্রেন্ড ফিরে এসেছে আবার; যা বিভিন্ন ঋতুতেই ম্যাচিং করে নিতে পারবেন অনায়াসে। হাঁটু লেন্থের এই প্যান্টটি স্টাইল ও আরাম দুটোই দেবে একসঙ্গে। টাইআপ বেল্টের ব্যবহারে প্যান্টটি পরলে আরও ফ্যাশনেবল ও ট্রেন্ডি লাগবে। যে কোনো লং স্লিভ বা স্লিভলেস টপসের সঙ্গে এটি পরা যায়।

এ সময়ের আরেকটি জনপ্রিয় প্যান্ট হলো টিউলিপ প্যান্ট। হাঁটু বরাবর ওভার লেপিং প্যাটার্ন থাকায় স্টাইলের সঙ্গে চলাফেরাও আরামদায়ক হয়। স্লিমফিট টিউলিপ প্যান্টটি শার্ট বা টপসের সঙ্গে ভালো মানাবে।

এ ছাড়া ক্যাপ্রি প্যান্ট জনপ্রিয়তা ধরে রেখেছে এখনও। এটি গরমের জন্য বেশ উপযোগী। থ্রি কোয়ার্টার নামেও এর পরিচিতি আছে। কোনো ঝামেলা ছাড়াই টি-শার্টের সঙ্গে পরে নেওয়া যায়। টিনএজদের কাছে এ প্যান্টটি বেশ জনপ্রিয়।

জেগিন্সের প্রচলন বেশ অনেক বছর ধরেই লক্ষণীয়। দেখতে জিন্স কাপড়ের মতো লাগলেও এটি জিন্স নয়। তবে জনপ্রিয়তা জিন্সের চেয়েও কম নয়। এ স্লিম ফিট প্যান্টটি হালকা গড়নের মেয়েদের কাছে বেশ পছন্দের। বাজারে বিভিন্ন রঙের জেগিন্স পাওয়া যায়। পোশাকের সঙ্গে মানানসই এমন প্যান্ট বেছে নিতে হবে শুধু।

স্পিল্গট হেম প্যান্টে গোড়ালির পাশে ফারা এবং বাটন থাকে, যা বর্তমানে আরেকটি জনপ্রিয় প্যান্ট। স্লিমফিট এই প্যান্ট লং ও শর্ট কুর্তির সঙ্গে মানানসই হবে। এ ছাড়া ট্রেন্ডে রয়েছে স্ট্রেইট প্যান্ট। যে কোনো ধরনের টপস কিংবা টি-শার্টের সঙ্গে যা অনায়াসেই মানিয়ে যায়। অনেক বছরের পুরোনো ট্রেন্ড হলেও এই প্যান্ট সবসময় ফ্যাশনের শীর্ষে। তাই স্ট্রেইট প্যান্টকে বলা যেতে পারে ক্ল্যাসিক প্যান্ট। ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রিতে অনেক বছর ধরে আরেকটি পরিচিত ট্রেন্ডি প্যান্টের নাম হারেম প্যান্ট। সুতি, সিল্ক্ক বা লিনেন কাপড়ের তৈরি এই প্যান্টগুলো টি-শার্ট, শর্ট টপ বা ফতুয়ার সঙ্গে মানাবে। হারেম প্যান্ট লম্বা গড়নের মেয়েদের বেশি ভালো লাগবে।

আগে মেয়েরা কয়েকটি রঙে আটকে থাকলেও এখন বেছে নিচ্ছেন বাহারি রঙ। এর মধ্যে লাল, সবুজ, সাদা, নীল, কালো, বেগুনিসহ অন্যান্য রঙের প্যান্টও কিনছেন। একেকজনের পছন্দ একেকরকম। তবে সময়, স্থান ও সমসাময়িক ট্রেন্ড বুঝে বেছে নিতে হবে পছন্দের প্যান্টটি; যা একইসঙ্গে পোশাক ও বয়সের সঙ্গেও মানানসই।

পোশাক ও ছবি :কে কদ্ধ্যাফট

মন্তব্য করুন