অনেক সময় অন্দরই হয়ে ওঠে আপনার রুচির পরিচায়ক। নীড় যতই ছোট হোক বা বড়, সবসময় থাকা চাই সুন্দর এবং পরিচ্ছন্ন। সুন্দর, সাজানো বাড়ি দেখলে যে কারও মন ভালো হয়ে যায়। খোলামেলা-পরিপাটি করে গুছিয়ে রাখা, চোখেরও আরাম, মনেরও শান্তি। অনেকেই হয়তো বলবেন, তার জন্য খুব সুন্দর বাড়িও লাগবে। না হলে যতই সাজানো হোক, ছবির মতো বাড়ি হয়ে উঠবে না। এটা কিন্তু ভুল ধারণা। আসলে আপনি কীভাবে বাড়ি সাজাবেন, সেটা একদিকে যেমন আপনার রুচির পরিচয়, তেমনি আপনার শৌখিনতারও। আপনি কীভাবে আপনার বাড়িকে সবার কাছে তুলে ধরতে চাইছেন, সেটা গুরুত্বপূর্ণ। তাই বাড়ি যেমনই হোক, সামান্য কিছু যত্ন, আদরে সাজালেই কিন্তু অনেকটা পার্থক্য হবে। তার জন্যও যে বেশ দামি বা বিশেষ কিছু সামগ্রী বা খুব কেতাদুরস্ত কোনো ডেকোরেটিভ পিস প্রয়োজন, তাও নয়। তবে হ্যাঁ, কালার প্যালেটের এ ক্ষেত্রে একটা বড় ভূমিকা আছে। কিন্তু রং এমনই এক জিনিস, যখন-তখন তো তা পাল্টে ফেলা সম্ভব নয়। তাই কিছুটা নিজের মতো করে আর কিছুটা নিজের ক্রিয়েটিভিটি দিয়ে বাড়ি সাজান। আসল কথা হলো, সুন্দর করে থাকাটা অভ্যাসে পরিণত করা। প্রতিদিনের বাকি কাজগুলোর মধ্যে ঘর সাজিয়ে রাখাটাও অ্যাড করুন। তাহলেই দেখবেন, আলাদা করে বাড়ি সাজানোর কথা ভাবতে হবে না।

সেন্টার টেবিলে একটা ফ্লাওয়ার ভাস সব বাড়িতেই থাকে। এ সাদামাটা দেখতে ফ্লাওয়ার ভাসই কিন্তু বেশ আধুনিক হতে পারে। ইচ্ছা করলে রংতুলি দিয়ে সাজাতে পারেন তাকে। অথবা ফ্লাওয়ার ভাসের বদলে কোনো ছড়ানো পাত্রে জলের ওপর ভাসিয়ে রাখতে পারেন ফুল।

আজকাল বিভিন্ন কালারড গ্লাস বোতলও পাওয়া যায়। ফুল রাখুন বা না রাখুন, ঘরের কোণে সাজিয়ে রাখলে এমনিই সুন্দর দেখাবে। একইভাবে ফুলের বদলে মোমবাতি দিয়েও সাজাতে পারেন। ঘরে একটা ওয়ার্মথ কোশেন্ট অ্যাড হবে।

খাবার টেবিলে সব বাড়িতেই ফল রাখা হয়। আপনি তা সাধারণ কোনো প্লেটে রাখতেই পারেন, তবে সৌন্দর্যের দিক থেকে দেখলে তার কিন্তু আলাদা কোনো জৌলুস নেই। বরং সাধারণ একটা বেতের ঝুড়ি ব্যবহার করতে পারেন, সাজিয়ে রাখা ফুলের থেকে কোনো অংশে কম হবে না।

ঘুরতে যারা ভালোবাসেন, তারা নানা জায়গা থেকে স্যুভেনির সংগ্রহ করতে পারেন। এতে আপনার একটা পরিচয় পাওয়া যাবে। কিউরিওর শখ থাকলে তো কথাই নেই, আনাচে-কানাচে ফাইন টাচ দিতেও কাজে আসবে, আবার একসঙ্গে বেশ কিছু পিস টেবিলে সাজিয়ে ফেলতে পারেন। এ ক্ষেত্রে কিছু অসুবিধা আছে। পাঁচটা জিনিস আলাদা আলাদাভাবে সুন্দর হতেই পারে। কিন্তু তাদের একসঙ্গে রাখলেও যে পুরোটা মিলিয়ে ভালো লাগবে, এমনটা নাও হতে পারে। তাই অ্যারেঞ্জমেন্টের প্রতি গুরুত্ব দিন।

এ ছাড়া পুরো বাড়িতে একটা ব্যালান্স এবং সামঞ্জস্য রাখুন। একই ধাঁচের জিনিস কিনতে বলছি না, তবে প্রতিটা জিনিসে যেন একটা কমন থ্রেড থাকে। নানা ধরনের ছবি রাখলে একই ধাঁচের ফ্রেমিং করাতে পারেন। অথবা অনেকগুলো ছোট ছোট জিনিস এমন একটা শেলফে রাখলেন, যাতে প্রতিটা জিনিসের মধ্যে একটা কানেকশন তৈরি হয়।

আজকাল তো ঘর সাজানোর জন্য সুলভেই প্রচুর জিনিস পাওয়া যায়। কারুকার্য করা ঘড়ি, নানা ধরনের পেন্টিং, ইনোভেটিভ ফটো ফ্রেম, কত কী! দেয়ালের একরঙা পুরোনো ঘড়িটার বদলে কনটেম্পরারি ধাঁচের ঘড়ি রাখতে পারেন। ঘরের রং যদি খুব হালকা হয়, সে ক্ষেত্রে উজ্জ্বলতা আনতে কালারফুল একটা পেন্টিংই কিন্তু যথেষ্ট।

পুরোনো আসবাব বা সাধারণ কোনো জিনিস, তা বোতল থেকে শুরু করে সিডি, কেটলি কিংবা প্লেট, সবই হতে পারে, তাতে দিন রঙের ছোঁয়া। দেখতে তো অন্যরকম হবেই, সঙ্গে ঘরোয়া জিনিসেই ঘরও সেজে উঠবে।এটাও মাথায় রাখতে হবে, শুধু ঘর সাজালেই হবে না, সেগুলো পরিস্কার রাখার দিকেও নজর দিতে হবে। া

মন্তব্য করুন