সুহৃদ সমাবেশ

সুহৃদ সমাবেশ

যুক্তিতর্কের মহোৎসব

প্রকাশ: ১০ জুন ২০১৪

সিরাজুল ইসলাম আবেদ

যুক্তিতর্কের মহোৎসব

তরুণ বিতার্কিকদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখছেন প্রধান অতিথি শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ

বিজ্ঞান নিয়ে বলি, জীবন গড়ি_ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বাংলাদেশ ফ্রিডম ফাউন্ডেশন ও সমকালের উদ্যোগে ৬৪ জেলার ৫২০টি স্কুলের বিতার্কিক দলের অংশগ্রহনের শুরু হয়েছিল বিএফএফ-সমকাল দ্বিতীয় জাতীয় স্কুল বিজ্ঞান বিতর্ক প্রতিযোগিতা। ৬ ও ৭ জুন ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজে বসেছিল এর চূড়ান্ত আসর। আয়োজনে সহযোগিতায় ছিল কোকোলা ফুড, ব্যাংক এশিয়া, প্র্যাকটিক্যাল অ্যাকশন, লোটো। পুরো আয়োজনের ব্যবস্থাপনা করেছে কিংবদন্তী মিডিয়া


আলো ঝলমলে দুটি দিন ছিল ৬ ও ৭ জুন। অন্যদিনের তুলনায় রাজধানীতে সূর্যের আলো এবং তাপের স্ফুরণ বোধ করি একটু বেশিই ছিল। কিন্তু সেটা কোনো বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি বাংলাদেশ ফ্রিডম ফাউন্ডেশন (বিএফএফ)-সমকাল দ্বিতীয় জাতীয় বিজ্ঞান বিতর্ক প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত আসরের জন্য। বরং ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজের সবুজ চত্বর যেন আরও জ্বলে উঠে ছিল সারাদেশ থেকে আসা বিতার্কিকদের বুদ্ধিদীপ্ত উচ্চারণে। যুক্তিতর্কের মহোৎসব যে এখানেই বসেছে। আর তরুণ বিতার্কিকদের প্রেরণা দিতে এসেছিলেন দেশের আলোকোজ্জ্বল মানুষেরা।
এ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজ দল নিজেদের ভেন্যুতে দেশসেরা পুরস্কার হিসেবে জিতে নেয় একটি করে ল্যাপটপ, মেডেল, সনদপত্র এবং দলগত চ্যাম্পিয়ন ট্রফি এটি এখন সবারই জানা। কিন্তু দেশসেরাদের দু'দিনব্যাপী চূড়ান্তপর্বের এ লড়াই কতটা হাড্ডাহাড্ডি, কতটা উপভোগ্য ছিল তা কেবল উপস্থিত দর্শকশ্রোতাই জেনেছেন। আর বুঝেছেন যারা ছিলেন বিচার কাজে। কোনো কোনো বিতর্কে তো জয়-পরাজয় নির্ধারণ হয়ে মাত্র ০.২৫ নম্বরের ব্যবধানে। এতে করেই বুঝে নেওয়া যায় কত শক্ত ছিল বিচারকদের বিচার কাজটি।
এর আগে সমকালের নির্বাহী সম্পাদক মুস্তাফিজ শফির সভাপতিত্বে দুই দিনের প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন_ বরেণ্য বিজ্ঞানী আবেদ চৌধুরী, ব্যাংক এশিয়ার উপ-মহাব্যবস্থাপক মো. আরফান আলী, প্র্যাকটিক্যাল অ্যাকশনের কান্ট্রি ডিরেক্টর, বীণা খালেক, ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজের অধ্যক্ষ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান সুবহানী, কোকোলা ফুড প্রোডাক্টসের জেনারেল ম্যানেজার সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং ওবায়দুল হক ও বিএফএফের নির্বাহী পরিচালক সাজ্জাদুর রহমান চৌধুরী।
সমাপনী অনুষ্ঠানটি হয়ে ওঠে যেন তারায় তারায় খচিত। প্রধান অতিথি শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ তো নির্ধারিত সময়ের আধাঘণ্টা আগেই চলে আসেন প্রতিযোগিতাস্থলে। কথা বলেন বিভিন্ন দলের বিতার্কিক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে। ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজের অধ্যক্ষ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান সুবহানীর সভাপতিত্বে সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও বাংলাদেশ ফ্রিডম ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ মঞ্জুর এলাহী, ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম, সমকাল সম্পাদক গোলাম সারওয়ার, সমকালের নির্বাহী পরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) এস এম শাহাব উদ্দিন, ব্যাংক এশিয়ার প্রেসিডেন্ট ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মেহমুদ হোসেন, কোকোলা ফুড প্রোডাক্টসের জেনারেল ম্যানেজার সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং ওবায়দুল হক।
যুক্তির শাণিত তীর ছুড়ে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার তীব্র প্রতিযোগিতায় মেতেছিল ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজ ও কুষ্টিয়া জিলা স্কুল দলের মেধাবী বিতার্কিকরা। 'বাংলাদেশের বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা বিজ্ঞানমনস্ক জাতি গঠনে সহায়ক নয়' শীর্ষক প্রস্তাবের পক্ষে ও বিপক্ষে দলগুলোর যুক্তি-পাল্টা যুক্তির রসাস্বাদনে মুগ্ধ দর্শকের মুহুর্মুহু করতালিতে মিলনায়তনজুড়ে তখন তীব্র উত্তেজনা। মঞ্চের সামনে বসা বিশিষ্টজনের হাতগুলোও বারবার করতালিতে ব্যস্ত হয়ে পড়ছিল। নতুন প্রজন্মের মধ্য দিয়েই তারা দেখছিলেন আগামী দিনের যুক্তিনির্ভর, গণতান্ত্রিক, মননশীল ও সৃজনশীল জাতি গড়ে ওঠার প্রচেষ্টা। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আলোচনায়ও ঘুরেফিরে আসে একই প্রসঙ্গ। বক্তারা বলেন, আমাদের একটাই প্রত্যাশা, বিজ্ঞানমনস্ক বাংলাদেশ। আর সেটা নিশ্চিত করবে নতুন প্রজন্ম। শেষ দিনের তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ বিতর্ক প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়েই পর্দা নামল বাংলাদেশ ফ্রিডম ফাউন্ডেশন-সমকাল আয়োজিত 'জাতীয় স্কুল বিজ্ঞান বিতর্ক প্রতিযোগিতা-২০১৪'-এর চূড়ান্ত আসরের। এবার সারাদেশের ৫২০টি স্কুলের মধ্যে অনুষ্ঠিত এ প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হয়ে চ্যাম্পিয়ন হিসেবে শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট মাথায় পরেছে ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজ দলের বিতার্কিকরা। এ দলের দলনেতা শাওন চৌধুরী অর্জন করেছে শ্রেষ্ঠ বক্তার সম্মান। প্রথম রানার্সআপ হয়েছে কুষ্টিয়া জিলা স্কুল দল। আর দ্বিতীয় রানার্সআপ হয়েছে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও ভোলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় দল। তারা গতকাল অতিথিদের হাত থেকে পুরস্কার গ্রহণ করে। সারাদেশের ৬৪টি জেলার এক হাজার ৫৬০ ছাত্রছাত্রী এবারের এ প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়।