সুহৃদ সমাবেশ

সুহৃদ সমাবেশ

ওদের কণ্ঠে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়

প্রকাশ: ১০ জুন ২০১৪     আপডেট: ১০ জুন ২০১৪

এবিএম মাহমুদুল হাসান রানা

ওদের কণ্ঠে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়

বিতর্ক মঞ্চে প্রতিযোগিতা থাকলেও সবার লক্ষ্য দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। হাতে হাত ধরে সেটাই ব্যক্ত করল চার সেমিফাইনালিস্ট দলের বিতার্কিকরা


'বিজ্ঞান নিয়ে বলি, জীবন গড়ি'_ এ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে বাংলাদেশের ৬৪ জেলার ৫২০টি বিদ্যালয়ের ক্ষুদে তার্কিকদের অংশগ্রহণে সমাপ্ত হলো বিএফএফ-সমকাল দ্বিতীয় জাতীয় স্কুল বিজ্ঞান বিতর্ক। বিতর্ক প্রতিযোগিতার সব ধাপ সাফল্যের সঙ্গে পার হয়ে ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল ও কলেজ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। প্রথম রানার আপ হয় কুষ্টিয়া জিলা স্কুল। যৌথভাবে দ্বিতীয় রানার আপ হয় ভিকারুননিসা নূন স্কুল ও কলেজ, ভোলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়। প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ ও প্রতিযোগিতা নিয়ে কথা হয় তাদের সঙ্গে।

ভিকারুননিসা নূন স্কুলের দশম শ্রেণীর ছাত্রী শামসাদ নভিয়া নভেলীর কথা হলো, 'এ ধরনের উদ্যোগ বেশ ভালো। সার্বিকভাবে দেশের জন্য মঙ্গলজনক। তবে ঢাকার দুটি স্কুল ও ঢাকার বাইরের দুটি স্কুল একসঙ্গে সেমিফাইনাল করানোর ধারণাটা খুবই চমৎকার। নিদ্বর্িধায় প্রশংসার দাবিদার এ আয়োজন।'

একই স্কুলের আরেক প্রতিযোগী অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী সাবিহা ফেরদৌস মিথিলাও এ উদ্যোগের প্রশংসা করে। তার বক্তব্য হলো, 'জাতীয় স্কুল বিতর্ক প্রতিযোগিতা আয়োজনের এ উদ্যোগটি খুবই ভালো লেগেছে।' তাদের দলনেতা মেহেরুন নাহার মৌরী বেশ আক্ষেপ করে বলল, 'খুবই খারাপ লাগে যখন ম্যাচে সেরা বিতার্কিক নির্বাচিত হয়েও দলকে জেতাতে কোনো জোরালো অবদান রাখতে ব্যর্থ হই।' উল্লেখ্য, মৌরী সেমিফাইনালে সেরা বিতার্কিক নির্বাচিত হলেও তার দল খুবই সামান্য ব্যবধানে হেরে যায়।

ভোলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের বিতার্কিক দশম শ্রেণীর ছাত্র ঐশিক-ই-শান ও মোসফেক বিল্লাহর বক্তব্য প্রায় অভিন্ন। তাদের মতে, এ আয়োজন নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। তারা ভবিষ্যতেও এ বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠান অব্যাহত রাখার দাবি জানায়। তাদের দলের অন্য সদস্য ও সহপাঠী অন্তর মজুমদার এ পর্যন্ত আসতে পেরে ভীষণ আনন্দিত। তার দৃষ্টিতে প্রতিযোগিতা সার্বিকভাবে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়েছে। প্রথম রানারআপ ও ফাইনালিস্ট কুষ্টিয়া জিলা স্কুলের দশম শ্রেণীর ছাত্র মুজতবা আকিব খানের মত হলো, 'এ ধরনের প্রতিযোগিতা আমাদের বিজ্ঞান নিয়ে নতুন করে ভাবতে শেখায়। আমি এর সাফল্য কামনা করছি।' অন্য সদস্য মো. আফজাল উদ্দিন খান একটু ভেবে নিয়ে বলল, 'অনুষ্ঠানটি আন্তরিক হয়েছে। খুবই ভালো লেগেছে। বাংলাদেশের তাজা প্রাণের জোয়ার যেন এখানে এসে মিশেছে। যুক্তির কষ্টিপাথরে একটি বিষয়কে ঘষে বিতার্কিকরা যেভাবে উপস্থাপন করেছে প্রকৃত অর্থেই তা প্রশংসার যোগ্য। আমি চাই সমকাল যেন প্রতি বছর এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। এটা কোনো প্রতিযোগিতা নয়, বরং যুক্তিবাদীর মঞ্চ। তাদেরই আরেক সহপাঠী মো. নূহ ইসলাম বেশ মুরুবি্বয়ানা দিয়ে বলে, 'কৃষ্ণ গহ্বর যেমন সবচেয়ে দ্রুতবেগে ধাবমান বর্ণিল আলোকেও পৃষ্ঠচ্যুত হতে বাধা দেয় এবং অলোক ফোটনকে শোষণ করে, ঠিক তেমনই বিতর্ক মনের পঙ্কিলতা, অযুক্তি, কুযুক্তিকে চির বিদায় জানায়। আর সেই বিতর্কের কাণ্ডারি সমকাল পত্রিকাকে আন্তরিক ধন্যবাদ।'

সবার শেষে গিয়েছি বিজয়ী দল ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল ও কলেজের বিতার্কিকদের কাছে। তারা তখনও বিজয় উল্লাসে মত্ত। প্রথমে ডেকে নিলাম দলনেতা শাওন চৌধুরীকে।

সে জানাল তার মতামত, ‘সমকাল বিতর্ক প্রতিযোগিতার আয়োজন করে দুই বছর ধরে।

প্রথম বর্ষের প্রতিযোগিতায় আমরা খুব আগ্রহের সঙ্গে অংশ নিয়েও প্রথম পর্বেই বাদ পড়ে যাই। পরে অনেক বিতর্কে অংশ নিই। নিজেদের ধীরে ধীরে তৈরি করি। আমরা জানতাম না যে বিজয়ী হবো; কিন্তু ভালো কিছু করার মতো আͧবিশ^াস ছিল। গত বছরের ব্যর্থতায় ভালো করার একটা জেদ চেপে গিয়েছিল। আমরাও ছিলাম সেভাবে প্রস্ট‘ত। চ্যা¤িক্সয়ন হতে পেরে খুবই আনন্দিত। এ বিজয় আমার জীবনের এক স্ট§রণীয় ঘটনা হয়ে থাকবে। এ বিজয়ের পেছনে শিক্ষকদের অবদান কোনো অংশে কম নয়। তাদের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধায়ন ও সহায়তা ছাড়া এ অর্জন অসল্ফ¢ব ছিল। বর্তমান সৃজনশীল শিক্ষা প™ব্দতিতে বিতর্ক আমাকে অনেক সমৃ™ব্দ করেছে বলে আমি মনে করি। আমি সমকাল ও সংশিè®দ্ব অন্যদের ধন্যবাদ জানাই এত সুন্দর একটা প্রতিযোগিতা আয়োজন করায়।’ শাওনের পাশেই বসে থাকা দলের কনিষ্ঠ সদস্য নবম শ্রেণীর ছাত্র নাফিজ কাজীর কথা হলো, ‘শাওন ভাই আগেই বলেছেন, গত বছরের ব্যর্থতা আমাদের কঠোর অনুশীলনমুখী করেছে। এবার ভালো করার প্রত্যাশা ছিল কিন্তু জানতাম না যে চ্যা¤িক্সয়ন হব। চ্যা¤িক্সয়ন হয়ে আমরা ভীষণ খুশি। আমরা আশা রাখব, এ বিতর্ক প্রতিযোগিতা যেন চলতে থাকে। তবেই দেশের জন্য, আমাদের জন্য তা মঙ্গলজনক হবে।’     

আরেক সদস্য সেজান মাহমুদ প্রাšø যা বলল, ‘একটা সময় ছিল যখন আমাকে বলা হতো তুমি বিজয়ী হবে। শুধু একমনে পরিশ্রম করে যাও। তবুও সংশয় ছিল এ ধরনের জয় আসবে কি-না, যা আগের সব অপ্রাপ্টিø, ক®দ্ব মুছে দেবে। গত বছর এই সমকাল স্ট‹ুল বিতর্কের প্রথম পর্বে যখন বাদ পড়ে যাই, তখন মনে হয়েছিল সনাতনী বিতর্ক স¤ক্সর্কে আমরা বোধ হয় খুব বেশি জানি না। আমরা আবার শুরু করলাম প্রথম থেকে। নিয়মিত কঠোর অনুশীলন। তাই আমাদের এ সাফল্যের পেছনে দীর্ঘ প্রচে®দ্বা জড়িত। বিতর্ক করতে গিয়ে আমাকে অনেক ¯দ্ব্যাডি করতে হয়েছে, যা পরবর্তী জীবনে অনেক সহায়ক হবে। দেশের প্রত্যšø অঞ্চল থেকে যেসব মেধাবী আজ উঠে এসেছে আমি আশা করি, তারা একদিন আমাদের দেশকে অনেক সমৃ™ব্দ করবে। সমকালকে অসংখ্য ধন্যবাদ।’