সুহৃদ সমাবেশ

সুহৃদ সমাবেশ

পদাবলি

প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০১৪

পেয়েছি তারুণ্য
আতিকুর রহমান

নজরুল তুমি চির ভাস্বর, চির তরুণ
তুমি দিয়েছ বাণী চিরন্তন
করেছ এ জাতিরে অরুণ।

তুমি ঝঞ্ঝা, তুমি অগি্ন
তুমি শিখায়েছ মরে
হতে তব তরো নির্ভীক।
তুমি শিখায়েছ হতে বিদ্রোহী
হতে তব তরো চেঙ্গিস
তুমি শিখায়েছ আপনারে ছাড়া
না করিতে কাহারে কুর্নিশ।

তুমি শিখায়েছ সদা উন্নত
রাখিতে মম শির,
তুমি শিখায়েছ শোষকের হাত
কীভাবে ভাঙ্গিবে বীর।

কবি তুমি অপ্রতিবন্ধ
করিয়াছ শোষকেরে
তব লেখা দিয়ে অন্ধ।

তুমি অমর, তুমি মম আদর্শ
কবিতায় তব পেয়েছি জীবন
পেয়েছি আমি তারুণ্য।


এ দেশ আমার
রহমান জীবন

এ দেশ আমার এ দেশ তোমার
দেশটা কারও একার নয়,
কিসে দেশের ভালো হবে
সবাইকে তা ভাবতে হয়।

সত্যি যদি সবাই মিলে
দেশকে ভালোবাসি,
দেশের স্বার্থে এগিয়ে যদি
এক সারিতে আসি_

তবেই দেশের উন্নয়ন আর
অগ্রগতি হবে,
থাকবে না তো হানাহানি
শান্তি বজায় রবে।

দেশের জন্য ভালোবাসা
অটুট সবার থাকুক,
দেশকে নিয়ে সবার মনই
স্বপ্ন রঙিন আঁকুক।


আগুন ঝরা পদাবলি
ওসমান সজীব

সেই সব কাল থেকে দারিদ্র্যের ক্ষুধায় এঁকেছিলে চিহ্ন
তুমি পাথরের বুকে শোকাহত কান্না
সামাজিক অনাচার দানবীয় শৃঙ্খল করেছ ছিন্ন ভিন্ন।
তুমি শানিত কলম শোষণের বিরুদ্ধে সোচ্চার
মেহনতি মানুষের তুমি প্রতিবাদী হাতিয়ার।
অনিয়ম উচ্ছৃঙ্খল তৃমি নৃশংস রণহুঙ্কার
মুছে দিতে চেয়েছিলে সাম্প্রদায়িকতার সনাতন জঞ্জাল
বর্ণ বিভেদ বৈষম্য করেছিলে ভেঙে চুরমার।
মানুষের ভিড়ে দেখি তোমার কণ্ঠে আগুন ঝরা পদাবলি
তুমি বিরহ প্রেমিক কখনও আবার গানের বুলবুলি।
মহাত্রাস সাইক্লোন তুমি যাযাবর বেদুঈন নির্ভীক চঞ্চল
তুমি ঝাঁকা চুলের অজর বিদ্রোহী নজরুল।
তুমি দুরন্ত দুর্বার তাণ্ডব, প্রলয়ের হুঙ্কার
তুমি আলোকবর্তিকা ঘোর-বেঘোর অমানিশায়
তুমি অমর অক্ষয় অম্লান বিদ্রোহী কবিতায়।


বিদ্রোহী নজরুল
এসএম শহীদুল আলম

দুখু মিয়ার দুঃখ ছিল জীবন নদীর বাঁকে,
দুঃখ সাগরে ভেসে ভেসে স্বপ্নছবি আঁকে।
মন পাখিটা সারাবেলা স্বাধীনতায় ওড়ে,
পাহাড় নদী ঝর্ণাধারা সাত সমুদ্দুর ঘোরে।

ডানপিটে আর দুষ্টুমিতে ছিল খুবই পাকা,
'লিচু চোরের' পদ্য শোনে ঘোরে হাসির চাকা।
লেখার মাঝে ডুবে থেকে দুঃখগুলো নাশে,
আকাশ-বাতাস চাঁদ-তারকা তারই লেখায় হাসে।

হৃদয় খাতার সাদা পাতায় আঁকেন শত ছবি,
'বিদ্রোহী' ওই পদ্য লিখে হলেন 'দ্রোহী কবি'।
প্রতিবাদী ঢেউয়ের বেগে চুলের বাবরি দোলে,
'অগি্নবীণা' 'বিষের বাঁশি' হৃদয়ে ঝড় তোলে।

সাহিত্যাকাশে হলেন তিনি ঝলমলানো রবি,
সাম্য-ন্যায়ে হলেন তিনি সবার প্রিয় কবি।
তারুণ্যের কবি প্রকৃতির কবি জাগরণেও তাই,
মনেপ্রাণে আজও আমরা তার গুণগান গাই।


বিপন্ন মানবতা
মতিয়ার রহমান

মানবতা নেই তো আজ-
ভুলেই গেছে লজ্জা-লাজ।
নামেই মানুষ অস্থিসার-
সাজপোশাকে রঙবাহার।

অপহরণ, হত্যা-গুম-
কেড়ে নিলো চোখের ঘুম।
শীতলক্ষ্যায় ভাসে লাশ-
আমজনতার নাভিশ্বাস।

সৃষ্টি-সেরা মানুষ রূপ
হৃদয়বিহীন সুরৎ খুব।
সমাজেতে নেই বিচার-
চলছে কত অনাচার।
করছে ক্ষতি দেশমাতার
এরাই মানুষ বিধাতার!


অনন্ত যৌবনা
এমদাদ হোসেন নয়ন

অপেক্ষার মেঘ হয়ে ভাসিয়ে আমার চোখে কেন রয়েছ তুমি দূরে
অজস্র শ্রাবণে তোমার উঠোন জুড়ে আমার পদচিহ্ন যায় ক্ষয়ে ক্ষয়ে
নীরব রাতের সাথে চাঁদের আলিঙ্গনে বকুলের গন্ধ ভেসে আসে।
আমি দূরের জানালায় তাকিয়ে তোমার স্মৃতিতে শিশির ফোঁটা হয়ে
অবিরাম ঝরছি মাটিতে। ভোরের আলোয় ফোটা ঘাস ফুলগুলো
তোমার পানে আছে হাত বাড়িয়ে। একবার শুধু একবার অলক্ষে
তোমার শুভ্র দেহের পিচ্ছিল বেনারসির পাড়ে আমায় নাও জড়িয়ে।
বিশাল আকাশ দেখ নীলের চাদরে ঢাকা মৌন কল্পনায় অনন্ত যৌবনা
হয়ে হাসছে_ তোমার উষ্ণতা ছোঁয়ার প্রতীক্ষায় দীর্ঘ রাত কাটছে।
আলতা রাঙা পায়ে তোমার নূপুরের ছন্দ বইবে ডাহুক ডাকা ভোরে।