সুহৃদ সমাবেশ

সুহৃদ সমাবেশ

নীল ওড়না...

প্রকাশ: ০১ সেপ্টেম্বর ২০১৫

লিটন ঘোষ জয়

তোমার মেঘ অরণ্য চুলে দাঁত কামড়ে থাকা লাল ক্লিপটা যেন শেষ বিকেলের রক্তিম সূর্য হয়ে আমাদের স্বপ্নতুর সময়টা বড্ড ছোট করে দিচ্ছিল। টিপটিপ বৃষ্টি, উড়ূ মেঘের ব্যস্ততা, মৃদু বাতাসের গুঁড়ি গুঁড়ি হাওয়া যখন আমাদের ছুঁয়ে সামনের দীঘিটা পাড় হচ্ছিল; আমরা তখন কেবলই একে অপরের দিকে অবুঝের মতো তাকিয়ে ছিলাম। তুমি-আমি হাতে হাত রেখে একটা নীল ওড়না দেখছিলাম, দেখছিলাম_ তার নীল রঙ কীভাবে আমাদেরকে জড়িয়ে আছে। এই যে ঘর ছেড়ে চেনা পথঘাট মাড়িয়ে আজ এই এতদূর আসা তাও ভুলে গেছি এক নিমিষে। আমার সারা দিনের সব ক্লান্তি উলাশি মির্জাপুর নাভারনের নীলকুঠির দীঘির জল তরঙ্গের মতো শান্ত হয়ে গেছে। আমি জানি না কোথায় হারিয়ে গেছি মেঘের ডানায় ভেসে ভেসে। নীলকুঠির ভেতরে প্রবেশ করেই আমি গেয়ে উঠলাম_ 'ওই দূরের আকাশ আজ রঙিন হলো বদলে যাওয়া নিয়মে, তাই বদলে গেছে সব ইচ্ছাগুলো সঙ্গী করে তোমাকে।' নীল তুমি আর ঊর্মি তখনও দু'জনে কী যেন বলাবলি করছিলে। আর আড় চোখে বারবার আমাকে দেখছিলে। তোমাদের দু'জনের হাসির হিড়িক শেষ পর্যন্ত আমাকে হাসিয়ে ছেড়েছে।
আমরা কাছাকাছি বসে আছি, চোখের ভাষায় চলেছে নীরব কথার কর্মশালা। হঠাৎ ঊর্মির কথায় ধ্যানমগ্ন তুমি আমি কিছু না বুঝেই দু'জন দু'জনার দিকে আর একবার তাকিয়ে মুচকি হেসে উঠলাম। আমাদের খুব কাছাকাছি বসেছিল ঊর্মি। একটা বটবৃক্ষের মতো ও সারাক্ষণ আমাদেরকে পাহারা দিয়ে রেখেছিল। মানুষ যে প্রথম দেখাতেই মানুষকে এত আপন করে নেয়; এটা ঊর্মির সঙ্গে পরিচয় না হলে জানা হতো না। ঊর্মির সরলতা সত্যিই! আমাকে মুগ্ধ করেছে। ওর সেই সরলতাকে কোনো উপমায় বর্ণনা করা যাবে না। নীল আমি যখন তোমাকে কিছু একটা বলব বলে ভাবছিলাম তখন_ তোমার কপালের নীল টিপটা আমার দিকে তাকিয়ে মিটিমিটি করে হাসছি। আর এটা দেখে আমাদের চারপাশে থাকা সবুজ সজীব পাতাগুলো তারাও কী যেন বলাবলি করছিল! রঙিন ফুলের কানে কানে। আচ্ছা! তুমি তখন রঙিন ফুল জড়িয়ে ধরে অবুঝের মতো আমার দিকে তাকিয়ে ছিলে কেন নীল। তোমার সেই মায়াবি চোখের অবুঝ ভালোবাসার মাখামাখি আমার প্রাণে প্রাণে গেয়ে উঠছিল_ 'আহা আজি এ বসন্তে এত ফুল ফুটে, এত বাঁশি বাজে, এত পাখি গায়, সখীর হৃদয় কুসুম কোমল_ কার অনাদরে আজি ঝরে যায়! কেন কাছে আসো, কেন মিছে হাসো, কাছে যে আসিত সে তো আসিতে না চায়।'
তোমার অবুঝ সেই মুখের মায়া হয় তো আমাকে আজ এত দূর টেনে নিয়ে এসেছে। এই ভালো লাগাই এতদিন আমার জন্য অপেক্ষা করছিল। হয় তো এই পথের বাঁকেই আমাদের দেখা হবে বলে ঠিক ছিল। তোমার সেদিনের সেই নীল ওড়নাটা আমার চোখে আকাশ হয়ে সারাক্ষণ ঝুলে আছে। আর সেই আকাশে একঝাঁক শঙ্খচিল সোনালি রোদ্দুর মেখে চাঁদের দেশে উড়ে যাচ্ছে স্বপ্নগুলো ছড়িয়ে দিতে। চাঁদ তুমি তোমার জোছনা জলে ধুয়ে দিও স্বপ্নগুলো। নীল জোনাকি তুমি পথ-প্রান্তে ছড়িয়ে দিও আমাদের স্বপ্নগুলো। তাহলেই ঊর্মির সরলতা, নীলকুঠির রঙিনফুল, নীল ওড়না আকাশ হয়ে বেঁচে থাকবে।
হসাধারণ সম্পাদক সুহৃদ সমাবেশ, মাগুরা