সুহৃদ সমাবেশ

সুহৃদ সমাবেশ

শিহরে প্রদীপ নিবে যাচ্ছিল

প্রকাশ: ০১ সেপ্টেম্বর ২০১৫

কামাল পাশা

সেদিনও ছিল আজ সকালের মতো কোনো এক সকাল, প্রকৃতি নীরবে কাঁদছিল ঝিমিয়ে পরিবেশে।
শিহরে প্রদীপ নিবে যাচ্ছিল বারবার, মনটা কেমন
উশখুশ করছিল। দূরে কুকুরের নিদ্রাহীন কান্না, থেমে থেমে আকাশে কালো মেঘের আনাগোনা। নীরব হতে নীরবতায় পৃথিবী, জলপাই রঙের সামরিক গাড়ির দ্রুত ছোটাছুটি। ওদের মনে কী কে জানে!! মসজিদে আজান, সঙ্গে বিকট শব্দ কামানের। কী হলো, হলো কী? উদ্বিগ্ন মানুষ ব্যাকুলতায়! আহারে কারও নাড়িছেঁড়া ধনের পাঁজর থেকে রক্তের বন্যা। আলো ফুটিয়ে পুবের আকাশ, বলাবলি করছে মানুষ এক কান থেকে ও কানে। বত্রিশের সিঁড়ি বেয়ে রক্তের বন্যায় লাশ হয়ে হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালা। আহা কি যে বিস্ময়! একি বিস্ময়? এক তর্জনীতে এক জাতি, এক কণ্ঠে এক কথার স্বাধীনতা। রূপসা থেকে পাথুরিয়া, টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া অনাহার আর অর্ধপেটে, হেঁটে কিংবা নৌকায়। সামনে অথবা পুলিশের চোখ এড়িয়ে কাটানো সাতাশ
বছর, মৃত্যু থেকে ফেরা
বাঁশিওয়ালার স্বজাতির কাছে পরাজয়। হায়রে স্বদেশপ্রেম!! লুকিয়ে কোথায় নেংটি ইঁদুর? মায়া-মমতায় জড়াজড়ি ধরি, কোথাও কোনো খাদ ছিল বুঝি? পল্লী থেকে শহর, গঞ্জ ছেড়ে নগর ঘুমিয়ে থাকা যক্ষ্মার মুমূর্ষু রোগী। প্রাণ পেয়েছিল শুনে বাঁশির রাগিণী। সফেদ রঙের পাঞ্জাবি পায়জামা, সঙ্গে চিরচেনা পাইপ লাল রঙ ছড়িয়ে শান্ত নিথর হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালা।