সুহৃদ সমাবেশ

সুহৃদ সমাবেশ

কবিতা

প্রকাশ: ০১ সেপ্টেম্বর ২০১৫

ভ্রান্তি
রাগিব বেকিশ

অনেক দিন যাবত কিছু লিখছি না
ভ্রান্তি এসে ভর করেছে মাথায়
কাগজের অন্ধিসন্ধিতে গলি ঘুপচিতে
মাঝে মধ্যে উঁকি দেয় কিছু লেখ-সূত্র
কিন্তু সেসব হারিয়ে যায়
ভ্রান্তি এসে ভুল পথে ডেকে নেয়

শান্তির খোঁজে পরমানন্দের পথে হাঁটছে মানুষ
কতশত মত পথ
কে কাকে গ্রাহ্য করছে!
রাতে যখন ঘুম এসে
অধিকারে নেয় আমাকে
তখন মৃত্যু!
প্রতিটি ঘুম প্রতিটি মৃত্যু
প্রতি রাতে নবায়ন করে
আমাকে, আমার অহমকে

গতকাল যে আমি ছিলাম
আজ আর সে নেই
মৃত্যু এসে নিয়ে গেছে তাকে
পড়ে আছে এক নতুন মানুষ!

প্রতিটি দিন প্রতিটি রাত
নতুন সৃষ্টির আনন্দে উল্লাসমুখর
অথচ আমি বুঝতে পারছি না
ভ্রান্তি এসে ভর করছে মাথায়
নতুন এবং পুরাতনের পার্থক্যটা
গুলিয়ে যাচ্ছে
আমি তবে
কোন পথে যাচ্ছি
অথবা আছি!!
হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালা

জ্যোৎস্না প্লাবনে কাশফুল
এসএম শহীদুল আলম

কাশফুল দিনে ঘাসফুলের সোনালি সংসারে আগ্রহী শাদা কাশফুলও
তুলতুলে কাশফুলের মায়াবী হাসি বুকে রুপালি স্বপ্ন চোখে বর্ণিল ভাষা।
সি্নগ্ধ সকালে শিশিরের ঝিলমিল দর্শন শর্তহীন গোপনীয় কথামালা
রঙিন ওড়নায় স্বপি্নল পারফিউম নিঝুম দুপুরে অমায়িক আবেদন।

হলুদ বিকেলের হাতছানি বাহারি পুষ্প ফোটার পূর্বাভাস
স্বর্ণালি রাতে শুধু কাশফুল-ঘাসফুল ফোটে।
মৃদু হাওয়ায় ছন্দে আনন্দে কাশফুলের দোলাদুলি
ভাঁজে ভাঁজে জাদুর পাহাড় স্বর্গীয় নাহার সুবর্ণ নদী।

জ্যোৎস্না প্লাবনে আলিঙ্গন কাশফুল ও ঘাসফুল
অতঃপর ...

ক্ষুধায় গা জ্বলে
আবু সাহেদ সরকার

উঠল ভরে প্রাণ যেন মোর
আগুন ভরা সুধায়,
অন্তরে হায় বাদ্য বাজে
পেট যে মরে ক্ষুধায়।
বাহিরে যখন যাইরে ছুটে
পেট পুরানোর জন্য,
জ্বালা তখন বাড়ে হঠাৎ
পেট যেন হয় শূন্য।
খাবার পেলাম ঘণ্টা দু'পর
শরীরটা নাজেহাল,
পেলামনা খুঁজে মজার খাবার
পুঁইশাক আর ডাল।
ক্ষুধায় আসলে গা জ্বলে ভাই
কথাটি পরম সত্য,
ক্ষুধা সবার আছেই ভবে
লাগবে সদা নিত্য।

ছবি আঁকা
মণিকাঞ্চন ঘোষ প্রজীৎ

আমার হৃদয়ের হৃদয় গালিচায় তাঁর ছবি আঁকা।
ছবি আঁকা নির্বাক কল্পের
ছবি আঁকা মেহনতি মানুষের গল্পের
ছবি আঁকা শোষিত-বঞ্চিত মানুষের
ছবি আঁকা দুরন্ত ফানুসের
ছবি আঁকা প্রতিবাদী বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বরের
ছবি আঁকা খড় ছনে ছাওয়া কুঁড়েঘরের
ছবি আঁকা শ্রাবণ ধারায় উত্তাল তরঙ্গের
ছবি আঁকা প্রেম-সাধনা আর সাম্যের।

আমার হৃদয়ের হৃদয় গালিচায় তাঁর ছবি আঁকা।
যার হৃদয়ে প্রেমের বসবাস
পেটে আহারের যন্ত্রণা
তবু দেশপ্রেমিক সৈনিকের মত
হামাগুড়ি দিয়ে দিয়ে দিনাতিপাত করে
আমার হৃদয়ে সেই সৈনিকের ছবি আঁকা
আমার হৃদয়ে প্রিয় কবি নজরুলের ছবি আঁকা।

চলে গেলে বন্ধু
ফখরুল ইসলাম

কথা আছে, বন্ধু!
চলে যেও না_
এভাবে যাওয়ারতো
কথা ছিল না।
পৌষের শিশির মাখা
ভোরে কতটা পথ হেঁটেছি এক সাথে।
হেমন্তের ধবল মেঘের ভেলায়
কতইনা ভেসেছি সেই কৌশরে।
তুমি বলেছিলে আবার আসবে
চৈত্রের পাতা ঝরার উৎসবে।

কথা ছিল
দেখবো আসোয়ান বাঁধের ফেনিল জলরাশি।
তাইগ্রিসের পাড় ধরে হেঁটে যাব
মেসোপটেমিয়াম সভ্যতায়।
দেখতে দেখতে পাড়ি দেব
আদম পাহাড়।
কতো বলেছিলে-
মাঘী পূর্ণিমায় জোৎস্না স্নান করবে,
ধোপ বিলে শালুক তুলবে,
মাঘের ভোরে।

ওপারের মায়া কি
এতই প্রবল তোমার?
চারদিকে স্তব্ধ শোকার্ত মুখরাশি,
যেন তোমার স্তব্ধতার বিমূর্ত প্রকাশ।
শুভ্র বসন ভেদ করে বাতাসে কর্পূরের মর্মন্তুদ গন্ধ
ভারী বাতাসে আমার শ্বাস আটকে যাচ্ছে।
শোকের মাতম উঠেছে, বন্ধু!
তুমিই নীরব এই জনারণ্যে।
ফিরে এসো জীবনের স্লোগানে।
আনন্দের মেঠোপথে পাড়ি দেব।

শব্দ চয়ন
মবরুর আহমদ সাজু

সারাক্ষণ শুধু একটি শব্দের অপেক্ষা খুঁজি!
নতুন কিছু আবিষ্কার হবে বলে?
কিন্তু নব শব্দের খোঁজ মেলে না!
বর্ণের খোঁজে অর্থ হবে।
শর্ত থেকে থেকে লক্ষ হবে
এই নাকি কল্পনার চয়ন।
শব্দ চয়ন কি হবে, নাকি?
শব্দের জন্য আর কিছু অপেক্ষা করতে হবে!!
কী কাণ্ড ভবিষ্যতের এই ভণ্ড!


অনুভব
ফারহানা হক

তুমি একবার ডাক দাও
করো বেহিসাবি ভুল
ভুলে যাবো সবকিছু
নিকষ আঁধারে ফোটাবো
অমল জ্যোৎস্না ফুল।