নীল অপরাজিতা

প্রকাশ: ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮      

ফরিদুল ইসলাম নির্জন

কুমুদিনী উইমেন্স মেডিকেল কলেজের ছাত্রী অপরাজিতা। সারাক্ষণ পড়ার টেবিলে পড়ে থাকে। মেডিকেলের ছাত্রীদের পড়তে হয়। তাই বলে তারাও তো মানুষ। তাদের আবেগ থাকতে পারে। রোমান্স থাকতে পারে। তারা তো রোবট নয়। নিজেকে কী মনে করে সে। তা সে জানে না। সে অন্যরকম।

তার অবশ্য একজন বন্ধু আছে। সে কখনও প্রেমিক ভাবে না। তবে মনে মনে পছন্দ করে। তার নাম নীল।

সেদিনের ঘটনা, নীল ঢাকা থেকে মির্জাপুর দেখা করতে যায়। অপরাজিতার সঙ্গে একটা বই। বইয়ের পাতা উল্টায়। পড়ে আর বলে, এই সরি। তুমি বেশি অপেক্ষা করে ফেলছ।

অপরাজিতা তুমি বই রাখবে। না আমি চলে যাব।

ও আচ্ছা। সরি। ভুল হয়ে গেছে। চলো কিছু খাবে। এভাবেই অপরাজিতা ও নীল চলে যায়।

নীল ও অপরাজিতা দু'জন দু'জনকে কতটা ভালোবেসেছে। কেউ জানে না। কতটা কাছে এসেছে কেউ জানে না। কীভাবে এসেছে কেউ জানে না। কেউ তো কখনও কাউকে ভালোবাসি বলেনি। তারপরও কেমন কেমন যেন তাদের ভেতর একে অপরের টান। এই টানের নামই হয়তো ভালোবাসা। ভালোবাসা একে অপরের বলাবলি করে হয় না। এটা একটা হৃদয়ের টান। এই টানের নামই কাছে পাওয়া।

অপরাজিতার মাথায় মাঝে মধ্যেই ব্যথা ওঠে। এই ব্যথা উঠলে সে সেন্সলেস হয়ে যায়। রুমমেট বা পাশে যে থাকে তাকে পানি ছিটিয়ে জাগিয়ে তোলে। আজও তার একই অবস্থা। কিছুক্ষণ পর তার জ্ঞান ফেরে। চোখ মেলে দেখে ফাতিমা ম্যাডাম পাশে বসা। শম্পাসহ আরও অনেকেই মুখের ওপর চোখ দিয়ে রয়েছে। সে নিজেকে কী ভাববে বুঝতে পারছে না। ম্যাডাম রেগে গেয়ে বলল, অপরাজিতা নিজের প্রতি এতটা বেখেয়ালি হলে হয়। এখন তোমার পরিবারের কাউকে ফোন দিলে তারা চিন্তায় পড়বে। তুমি কালকেই তোমার মাথা পরীক্ষা করবে।' আরও অনেকেই বেশ কথা শুনিয়ে চলে গেল।

অপরাজিতা এবার নিজেকে অপরাধী ভাবছে। নিজের প্রতি একটু কেয়ার নেওয়া উচিত ছিল। সে ফোনটি বের করে। একবার মনে করে বাড়িতে বলবে। পরে ভাবে সবাই চিন্তায় পড়ে যাবে। তার থেকে কাল নীলকে আসতে বলি। পরে সে নীলকে ফোন দেয়। সব শোনার পর নীল রাতেই চলে আসে।

সকাল বেলা। বিভিন্ন টেস্ট করে। রিপোর্টের যে সময় তার অনেক আগেই অপরাজিতা আসে। তড়িঘড়ি করে রিপোর্ট নিয়ে সে দেখে। রিপোর্ট দেখেই চোখের জল আটকাতে পারল না। নীল বলে, কী হয়েছে তোমার।

অপরাজিতা কোনো কথা বলে না। নীরব হয়ে যায়। থমকে যায়। কলেজের পাশেই একটা মাঠ আছে। মাঠের এক পাশে বসে পড়ে অপরাজিতা। এবার নীলের হাত ধরে সে।

নীল আমাকে ভুলে যাও। আমার ব্রেইন ক্যান্সার। আমি আর বাঁচব না নীল- বলেই হাউমাউ করে কান্না করতে থাকে। নীল কিছুতেই এই কথা বিশ্বাস করতে পারছে না। সে আকাশের দিকে তাকায়। কিছু পাখি উড়ছে। মনে হয় নীলকে তুলে নিতে এসেছে। এর মাঝেই অপরাজিতার ফোনটি বেজে উঠল। ওপাশ থেকে বলল, ম্যাডাম আপনি অন্যজনের রিপোর্ট নিয়ে গেছেন। প্লিজ আপনার রিপোর্ট এসে নিয়ে যান। এবার অপরাজিতার চোখে জল, মুখে হাসি। চিৎকার দিয়ে নীল, আমি অন্যজনের রিপোর্ট নিয়ে এসেছি। দ্রুত রিপোর্টটি পরিবর্তন করে আনে।

অপরাজিতার রিপোর্টে তেমন সমস্যা নেই। তার মাইগ্রেনের প্রবলেম। রেস্ট নিতে হবে কয়েকদিন। সব ঠিক হয়ে যাবে। এই খবর শুনতে পেরে নীল অপরাজিতার হাত ধরে হাউমাউ করে কেঁদে উঠল। খুশিতে নীল-অপরাজিতার চোখে অশ্রু ঝরতে লাগল। বেঁচে থাকার স্বপ্নে তারা আবার বিভোর হলো।

হ দপ্তর সম্পাদক

সুহৃদ সমাবেশ, ঢাকা কেন্দ্রীয় কমিটি

অন্যান্য