সুহৃদ সমাবেশ

সুহৃদ সমাবেশ


কবিতা

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০১৯      
তুমি সূর্যস্নানে গেলে

এমদাদ হোসেন নয়ন



তোমাকে ছোঁয়ার সাধ আমার কখনও হবে না জানি

তবুও আমার মনের আকাশে চাই তোমার ওড়াউড়ি,

বিক্ষিপ্ত ভাবনার জালে বন্দি আমার অপেক্ষার রাঙারাখি

তুমি সূর্যস্নানে গেলে আমি আজো পথ চেয়ে বসে থাকি।



কখনও তোমায় কাঠঠোকরা বলি, কখনও মৌমাছি

আমার শরীরে তখন হুল ফোটানোর সাধ জাগে জানি,

তোমার ভেজা ঠোঁটের হাসিতে ভরে যায় আমার সুখের নদী

ইচ্ছেরা পাখনা মেলে উড়ে অথৈ জলে সাঁতার কাটবে বলে।



তুমি এতটা বোকা না যে আমার হৃদয়ের ভাষা বুঝবে না

আমি হারাতে চাই না নির্মল ভালোবাসার মোহনা;

আকাশ কাঁদাও, আনমনে তুমি সুখের বৃষ্টি ঝরাও

আমার হৃদয়ে যে প্রেম জেগেছে হিসাব করে তাতে হাত বাড়াও।



অলীক সময়

শামীমা সুলতানা



তুমি ছিলে খুব খুব কাছে স্পর্শের সীমায়,

তবুও কেনো যেনো একটা অলীক সময়!

যোজন নয় ক্রোশ দূরত্বে থাকা অভিলাষ?

অস্তিত্ব যেনো অমাবস্যার জ্যোৎস্না বিলাস।



অতিক্রান্ত মধুময়, বেলা শেষে হয় অসময়

কিছু অপেক্ষার স্মৃতি স্মরণ করে সে সময়।

সে আর তোমার কেউ নয়! অন্যের আশ্রয়?

কিছু স্মৃতি তবুও চোখের কোণে ঝরনা ঝরায়।



কিছু রাত তালকাটা ঘুড়ির মতো নির্ঘুম হয়।

পূর্ণিমার চাঁদ, তবু বৈরিতার স্পর্শে এ হৃদয়।





লুকোচুরি

মিলটন হোসেন



চোখ বুজে সংখ্যা গণনারত একজন।

বাকি সব খেলুড়ের দ্রুত পলায়ন।

কল্লোলিত মেছোহাট হঠাৎ নিশ্চুপ।

বর্ণচোরা হয়ে ঝোপের গায়ে সংগূঢ়।

ক্ষণিক দর্শনামিত্তে কত খোঁজাখুঁজি,

ক্ষণপ্রভার ঝলকে বিচলিত শিহরিত,

সাড়াশূন্য গিরিপথে হেঁটে চলা একা

হয়ে সদা সতর্ক আর সদা সাবধানী।

ব্যগ্রভরে ফুটোনো চোখে হাতড়ানো

আড়ালে সরে পড়া সব অভিযাত্রী।





রাজকুমারী

এমএম সোহানুর হোসেন



ভোর বেলা ঘুম ভাঙে, পক্ষী ধ্বনি শুনে,

নিত্যদিন গান গায়, মিষ্টি সুরে সুরে।

সেই ডাকে আমি জাগি, ঘুমশয্যা থেকে,

মনে হয় কত কথা, বলে মোরে সনে।

পুষ্পরাশি ফুটে রয়, মোর দিকি চাহি,

মুগ্ধ মনে ছুটে যাই, প্রেম মাঝে ভাসি।

দিশে দিশে নব রম্য, নব চোখে দেখি,

যেন মোরে ডাকে ওরা, হূষ্টা মনে হাসি।

তাই দেখে ছুটে যাই, কাঁচা মাঠ দিশে,

হর্ষ মনে ভরে যায়, প্রাতঃবেলা কালে।

রবি রশ্মি বিলি করে, ঊষা বেলা কালে,

ঝলা ঝলা ভরে যায়, সর্ব সর্গে গায়ে।

হিম ভেজা তৃণলতা, ভূমি ছোঁয়া পায়ে,

যেন মোর হাসি পায়, মন ছোঁয়া পেয়ে।



আষাঢ়ের মেঘ

প্রজীৎ ঘোষ



আষাঢ়ের মেঘগুলো এলোমেলো হয়ে

সুনীল আকাশটা জুড়ে গেছে সে যে রয়ে

কী এক অন্তর যাতনা তার ও মনের উঠোনে

কী এক বিরহের প্রহর সে সারাক্ষণ গোনে

একটু পরেই কেঁদে-কেটে ভাসাবে খাল-বিল-নদী

আষাঢ়ের এই ক্ষণে তার দুটি চোখ ঝরবে নিরবধি।



বৃষ্টিভেজা কদম বকুল কৃষ্ণচূড়ার বনে

সে এক সুখের হাসি দোলা দিয়ে যায় গুঞ্জরণে।

সবুজ ঘাসের বুকে বিন্দু বিন্দু জল

যেন মুক্ত দানার মতো দুটি চোখ অশ্রু সজল।

কাদা মাখা পথ পিচ্ছিল স্যাঁতসেঁতে হয়ে

আষাঢ়ের কোনায় কোনায় গেছে আজও রয়ে।





বন্দনা

শাহাজাদা বসুনিয়া



সেই নারীর ভেতরে আমি

খুঁজি কালোতে আলো

সেই কালো কেশ

সেই কালো চোখ

সেই চোখে কাজল কালো

সেই বেণু কালো

সেই টিপ কালো

কালোর ভেতর ভালো ছিল তার কেশ।

সোনালি রোদ্দুরে হেঁটে চলে সেই নারী

মাথার উপর কালো ছাতা

ছাতার ওপর বৃষ্টির ফোঁটা

ছাতার ওপর বৃষ্টি পড়ে রিমঝিম।

এখন পৃথিবীর আঁধারে

ছুটে চলে সেই নারী

ওই আঁধারে আমি দেখেছি

তার কালো হরিণ চোখ।

হোক না সে কালো

আমি দেখেছি তার অবয়ব

সে কৃষ্ণকলি।

আলোতে সে কালো

কালো তার রূপ

আমার বিজন ঘরে সে অপূর্ব-অপরূপ।



মূর্ত-বিমূর্ত

দুলারফিন তাপস



ধুলোমাখা টেবিলে পড়ে আছে

বিমূর্ত ছবিগুলো

নৈসর্গিক চোখ সৌন্দর্যে মুগ্ধ

তাকিয়ে আছে অপলক

মূর্ত বিমূর্তর মায়াজালে আঁকড়ে আছে জীবন

ধুলোমাখা ছবিগুলোর মতন।