সুহৃদ সমাবেশ

সুহৃদ সমাবেশ


আসুন ঘুরে দাঁড়াই

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০১৯      

সিরাজুল ইসলাম আবেদ

সকালে ফেসবুকে এক বন্ধুর স্ট্যাটাস দেখে মনটা আরও খারাপ হয়ে গেল। তিনি লিখেছেন, 'যাদের সম্প্রতি অন্য দেশে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ হয়েছে, তাদের অভিনন্দন। বাংলাদেশ কন্যাশিশু আর তাদের অভিভাবকদের জন্য ভয়াবহ একটি দেশে পরিণত হয়েছে। সুযোগ থাকলে দেশত্যাগ করুন। পলায়নপরতা আমার মতো মানুষের একমাত্র সারভাইভাল স্ট্র্যাটেজি। বেশিরভাগ মানুষের সেই সুযোগও নেই।' ব্যক্তিগতভাবেও আমি এই ফেসবুক বন্ধুকে জানি। এক মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। দেশপ্রেমে বলীয়ান একজন ইতিবাচক মানুষ। পড়াশোনা করেছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে। পিএইচডি করতে অস্ট্রেলিয়ার আরএমআইটিতে গিয়েছিলেন এবং শেষ করে চলেও এসেছেন। চাইলে সেখানেই থেকে যেতে পারতেন। কিন্তু তা না করে ফিরে এসেছেন দেশে, মাতৃভূমির টানে। নানা প্রতিষ্ঠান ঘুরে এখন কাজ করছেন একটি বেসরকারি সংস্থায়। সেই ব্যক্তিটি যখন এমন হতাশা ব্যক্ত করেন, তখন সত্যিই আমাদের দাঁড়ানোর জায়গাটি খুব সংকীর্ণ হয়ে যায়।

মন ভালো নেই। কয়েক দিন ধরেই মনটা খারাপ। ফেনীর সোনাগাজীতে নুসরাত নৃশংসতার রেশ কাটতে না কাটতেই বরগুনার বর্বরতায় ক্ষত-বিক্ষত হৃদয়। এরই মধ্যে খবর আসে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে আশরাফুল ইসলাম আশরাফ নামে এক স্কুলশিক্ষকের দ্বারা ২০ স্কুলছাত্রী ধর্ষণের শিকার। এখানেই শেষ নয়, ধর্ষণদৃশ্য ভিডিও করে রেখে তাদের নিয়মিত ব্ল্যাকমেইল করা হতো। আর ৫ জুলাই সমকালেই খবর পাই- সেই নারায়ণগঞ্জেই ১২ ছাত্রীকে ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের অভিযোগে মাদ্রাসা অধ্যক্ষ গ্রেফতার। রাজধানী ঢাকাতেই ছয় বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা। কোথায় যাচ্ছি আমরা! এ দৃশ্য দেখার জন্যই কি ৩০ লাখ শহীদ বুকের রক্ত দিয়েছিলেন? লাখো মা-বোন দিয়েছিলেন সল্ফ্ভ্রম?

টিভি অন করলেই ধর্ষণ আর নির্যাতনের খবর। টিভিতে দিনভর ট্রিকার চলতে থাকে ওমুক স্থানে গণধর্ষণ, তমুক স্থানে হত্যা। এসব যদি সারাদিন দেখতে থাকলে আমার ঘরের শিশুটিও তো মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়বে। আর সাম্প্রতিক সময়ে পত্রিকার পাতা উল্টালে এমন কোনো দিন বোধহয় পাওয়া যাবে না, যেদিন ধর্ষণের কোনো খবর নেই। সন্দেহ দূর করতে ১ জুলাই থেকে সমকালের পাতা উল্টাতে থাকি। ১ তারিখ তিনটি, ২ তারিখ একটি, ৩ তারিখ ছয়টি, ৪ তারিখ আটটি ধর্ষণের খবর পাই। যার অধিকাংশই শিশু। এরপর আর এগোতে ইচ্ছা করে না। দু'চোখ ঝাপসা হয়ে আসে। এদের অধিকাংশই শিশু। কাউকে কাউকে হত্যা করা হয়েছে প্রমাণ লোপাটে। কেউ আবার অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছে পশুদের পাশবিকতায়।

কথায় কথায় গর্ব করে বলি, আমারা দুর্বার গতিতে এগিয়ে চলেছি। এগিয়ে চলেছি শিক্ষায়। ক্রিকেটে বিশ্বজয়ের স্বপ্ন দেখি আমরা। লাখো রোহিঙ্গাকে থাকার সুযোগ দিয়ে হয়েছি মানবতার অনন্য উদাহরণ। কিন্তু একবার ভেবে দেখুন তো, কোথাও কোনো শূন্যতা রয়ে যাচ্ছে না তো। যদি না-ই হবে তবে প্রতিদিন কেন এই ধর্ষণকাণ্ড? কেন নারী-শিশু নির্যাতন? নির্বিকার হয়ে আর বসে থাকা নয়, আসুন আরেকবার ঘুরে দাঁড়াই। প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা নিই। নিজেকে যতই নিরাপদে রাখুন, সমাজে বিষ ছড়িয়ে পড়ছে, প্রতিরোধ দেয়াল তুলতে না পারলে একদিন আপনাকেও বিষে নীল হতে হবে।