সুহৃদ সমাবেশ

সুহৃদ সমাবেশ

কবিতা

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০১৯

আবছা মিছিল

মাহফুজা মতি জেরিন



অলিখিত নেশায় বুঁদ হয়ে হাঁটছে পৃথিবী-

কপটতার খামে পড়েনি আঠা

বারবার ঘুরে অসারতা মিলেছে যখন,

প্রতিবাদের ঘণ্টায় তখনই ঘেঁষেছে কঠিন মাধ্যম।



ঐ কোমল জলের তলে ঘোলাটে আসর,

আর নিষ্পাপ শরীরে ধুতুরার লুকানো বিষ গেঁথে দেওয়া

হায়রে!

আয়েশি পাপী গড়নওয়ালারা

রকিং চেয়ারে কফির কাপের সাথে দোল খায়

ওদের ভেজায় গরলের জল,

ভাবে না এ দোলের গতি থামবে, সেও নামবে, হাতড়াবে

একটা পালোয়ান বাতাসের তোড়ে

ঐসব কালো রুহ মুহূর্তে যাবে উড়ে



শ্রাবণের আহ্বান

জাহিদ হোসেন



আকাশ হবার সাধ ছিল বহুদিন

লজ্জাহীন মেঘ তা হতে দেয়নি;

ছাতাওয়ালা ঋতু পাখি সাঁতার জানে না

শ্রাবণের ডাক নাম শাওন তবুও

শ্রাবণ বলে ডাকাডাকি করে হয়রান হই।

আকাশ হবার ছলে একদিন

পৃথিবী দেখে আসবো-

ঝিনুকপানির দাওয়া আর জলীয় বাষ্পের চশমা

পরে ঢেউয়ে ঢেউয়ে গুনি রাত

ঢেউয়ে ঢেউয়ে হয় ভোর, ঢেউ ঢেউ দেখি পথ

আকাশ হবার সাধ ছিল বহুদিন।



ব্যাকুল শব্দেরা

জারিফ এ আলম



ঘনিয়ে আসা রাতের বুকে মেঘ জমেছে আজ

মোহটুকু জ্বালিয়ে রাখা অবাক কারুকাজ!

হয়তো এখন ঘুমিয়ে গেছো রাত্রি যখন খুব

আমি তখন ভাবছি অনেক, তোমার বুকের

মাঝ সাগরে দিচ্ছি তখন ডুব।



ভোর বুঝি না ঘোর বুঝি না আছো চতুর্দিকে

হয়তো তুমি বলতে পারো,

মিছে এসব অলীক এবং ফিকে।

প্রলাপ যদি গোলাপ হয়ে ফুটলো অবাক হেসে

বলতে পারো ছল করে তাও, তুই যে সর্বনেশে!

চৈত্র নয় বোশেখে নয় থাকবে বারোমাস

তুমি এখন আমার মাঝে আনন্দ উচ্ছ্বাস।



খোয়াব

জসিম মারুফ



সাবালিকা, আজো আমার নিঃসঙ্গতা তোমায় ডাকে

যেদিন ফোঁপরা হৃদয়ে প্রথম প্রেম জেগেছিল, বোবা কান্নায়

সেদিন ফাগুন এসেছিল সন্ধ্যার মিতালি বাতাসের বন্যায়

পাওয়া-না পাওয়ার এক নির্ভুল হিসেব কষেছিলে তুমি

বলেছিলে, যোগফল-ভাগফল শূন্যতায় রয়ে যাবে অবিচল।



অবশেষে তাই হলো সাবালিকা, আজ আমি বড্ড একা

নির্ঘুম রাত গুমরে কাঁদে বিষণ্ণতার আবর্তনে, শূন্য ঘরে

একাকিত্বের উগ্রতা আমাকে রোজ ডাকে ফেরারি ঝড়ে,

কী নির্বোধ আমি! আজো তোমার শূন্যতায় জোছনা দেখি

অজস্র তারার সাথে, হিসেব কষা সেই খোয়ব ভাঙা রাতে।



স্নিগব্দ ভেজা পরশ

মাসুদ বিহঙ্গ



তুমি ফিরে এলে বলেই

আমার তপ্ত বুক ভিজে গেলো অনাবিল ভালোবাসায়।

তুমি ফিরে এলে বলেই

সেই মধুর স্মৃতিগুলো জেগে উঠলো রংধনু রঙিন হয়ে।

তুমি ফিরে এলে বলেই

আমার উদ্বাস্তু মন ফিরে পেলো তার স্বরূপ ঠিকানা।

তুমি ফিরে এলে বলেই

আমার অস্থির মন স্থিরতা খুঁজে পেলো নীরব মমতায়।

তুমি ফিরে এলে বলেই

আমার অবিন্যস্ত আকাশ সেজে উঠলো ফুলে ফুলে।

তুমি ফিরে এলে বলেই

কিশোর মনের দুরন্তপনা নেচে উঠলো সুরের ব্যঞ্জনায়।

তুমি ফিরে এলে বলেই

বৃক্ষরাজি ফুলে ফুলে তোমার ধারায় সিক্ত হলো পুরোদস্তুর।

তুমি ফিরে এলে বলেই

কবিকুল ভালোবাসার কবিতা লিখতে শুরু করলো অবিচল-অবিরত।

তুমি ফিরে এলে বলেই

নদী-নালা, খাল-বিল হারানো যৌবন ফিরে পেলো চঞ্চলা হরিণীর মতো।

তোমার স্নিগ্ধ ভেজা আদরের পরশ পেয়ে

আবারও আমি স্বচ্ছ-সুন্দর-অকৃত্রিম প্রেমিক হয়ে উঠলাম



ভুইচাঁপালি

রাহেলা শরীফ ফারহানা



দীঘির পাড়ের ঝোপে দেখো,

বুইচা ফুলের মেলা।

এরই মাঝে বসছে আবার,

ঝিঁঝিঁ পোকার খেলা।



সাদা রঙের বাড়ি তাহার,

কচি পাতার ঘর।

প্রজাপতির আবাস সেথা,

নয়তো সেও পর।



ভুইচাঁপালি, কলমি লতা,

সই বানাতে আসে।

তাই না দেখে মাছরাঙাটা,

ঠোঁট মেলিয়ে হাসে।



মন-কাননে মেঘের সনে,

জমছে খেলা ওই।

পবন তোড়ে দুলছে দেখো,

সাদা ফুলের সই।



বুনো ফুলের ঘ্রাণ শুঁকে যে,

আসে পাখির ঢল।

গন্ধবিহীন বুইচা ফুলে,

করছে কত ছল!!

প্রকৃতির ওই ঢং দেখে গো

কেমনে ঘরে রই?

আজ থেকে বুইচা ফুলও

হলো আমার সই।