সুহৃদ সমাবেশ

সুহৃদ সমাবেশ


কাশ্মীরের পথে পথে

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০১৯      

মো. জাহাঙ্গীর আলম

ভূ-স্বর্গ বা পৃথিবীর স্বর্গ যাই বলি না কেন, নিজ চোখে না দেখলে বোঝার উপায় নেই এর অপরূপ সৌন্দর্য। সৃষ্টির সব রূপের প্রতিচ্ছবিই যেন কাশ্মীর। কাশ্মীরের অপরূপ সৌন্দর্যের কথা শুনে পুরান ঢাকা সুহৃদরা সিদ্ধান্ত নেন কাশ্মীর ভ্রমণের। যেই সিদ্ধান্ত সেই কাজ। সবার পাসপোর্টে ভারতের ভিসা নিশ্চিত করে পুরান ঢাকার ৮ জন সুহৃদ জাহাঙ্গীর আলম, পলাশ, জাহিদ, শাহা আলম, ইয়াসিন ও মিন্টু একসঙ্গে ঢাকার যাত্রাবাড়ী থেকে মাওয়া ঘাট পৌঁছে নাশতা করি। সেখান থেকে স্পিড বোটে পদ্মা পার হয়ে বেনাপোলে যাই। এরপর দুই বাংলার ইমিগ্রেশনের কাজ শেষ করে বনগাঁও রেলস্টেশন থেকে ট্রেনে দমদম এলাকায় পৌঁছালে অপর সুহৃদ ফিরোজ ও নুরে আলম বিকল্প পথে আমাদের সঙ্গে যোগ দেয়।

রাতে সুহৃদদের আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু কেবলই কাশ্মীর। দীর্ঘ ভ্রমণ যাত্রার আগে একটু বিশ্রাম নিয়ে কলকাতা শহরে ঘোরাঘুরি, কেনাকাটা করে পরদিন সকাল হতেই ফের ছুটে চলার প্রস্তুতি। দুপুর ২টায় শিয়ালদহ রেলস্টেশন থেকে জম্মু তাওয়াই এক্সপ্রেসে চড়ে ৩৮ ঘণ্টার যাত্রা বিরতিতে জম্মু রেলস্টেশনে পৌঁছি। অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতে রাস্তায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হওয়ায় সেখান থেকে বাসে ১৮ ঘণ্টায় শ্রীনগর।

দুই বাহনে ৫৬ ঘণ্টার যাত্রা শেষে সবাই অনেকটা ক্লান্ত। ওই দিন শ্রীনগর পাহাড়ের কোলে দাঁড়িয়ে থাকা মনোমুগ্ধকর বিখ্যাত ডাল লেকের হাউস বোটে (ভাসমান বাড়ি) রাত যাপন করে সবারই ঘুম ভাঙে অন্য সময়ের চেয়ে একটু দেরিতে। কী নেই এই ভাসমান বাড়িতে? সবাই নাশতা শেষে লেকের অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করি। একই সঙ্গে তিন দিনের জন্য স্থায়ী বসত গড়ি ওই হাউস বোটেই। শুরু হয় অন্যরকম ছুটে চলা। স্রষ্টার অপরূপ সৃষ্টির সব রূপের প্রতিচ্ছবি কাশ্মীরের নৈসর্গিক অপরূপ দৃশ্য অবলোকন করা। দৃষ্টি কেড়ে নেয় যেদিকে তাকাই। সেখান থেকে রিজার্ভ জিপ গাড়িতে চড়ে ৩ ঘণ্টার যাত্রা শেষে কাশ্মীর উপত্যকার সবচেয়ে বড় পর্যটনকেন্দ্র পেহেলগামে পৌঁছাই। প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য এক নৈসর্গিক স্থান এটি। এখানে গিয়ে ঘোড়ায় চড়ে লিডার নদী, পেহেলগাম ভ্যালি, বেতাব ভ্যালি, আরু ভ্যালি, চন্দনওয়ারী, পেহেলগাম ভিউপয়েন্ট, মিনি সুইজারল্যান্ডখ্যাত বাইসারান, ধাবিয়ান, কাশ্মীর ভ্যালি ভিউপয়েন্ট, কানিমার্গ, ওয়াটারফল, তুলিয়ান ভ্যালি, মামলেশ্বর মন্দির, কোলাহাই হিমবার সৌন্দর্য উপভোগ করি। সুন্দর মুহূর্তগুলো সময়-সুযোগ বুঝে ক্যামেরাবন্দি করতে ভুল করিনি।

এবার লাদাখের উদ্দেশে যাত্রা করে প্রতিকূল অবস্থার কারণে পৃথিবীর স্বর্গখ্যাত সোনমার্গে কিছুক্ষণ অবস্থান করতে হয়। পরে সেখানে দুপুরের খাবার শেষে জিরো পয়েন্টে যাওয়ার পথটি ছিল খুবই রোমাঞ্চকর। পাহাড়ি আঁকাবাঁকা পথে যখন আমাদের বহনকারী জিপগাড়ি হেলে-দুলে চলছিল তখন আমরা বেশ ভয়ে ছিলাম। জিরো পয়েন্ট অতিক্রম করতেই আমাদের মধ্যে অনেকেই অসুস্থ বোধ করি। ড্রাস নামক স্থানে তাপমাত্রা ছিল মাইনাস টু। এককথায় বরফের মধ্যে বসবাস। পরদিন লাদাখের উদ্দেশে আবার যাত্রা করলেও কারগিল যাওয়ার পর প্রায় সবাই অসুস্থ হয়ে পড়ি। বিশেষ করে ভ্রমণের দলনেতা পলাশ বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ায় সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে শ্রীনগরে ফিরে আসি। সেখানে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সুব্রত কুমার ভট্টাচার্য নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে পরিচয়। তিনি আমাদের পরিচয় জানতে পেরেই তার তত্ত্বাবধানে থাকা রয়েল বাহার হোটেলে থাকার ব্যবস্থা করে আমাদের সঙ্গে গল্প জুড়ে দেন। হোটেলের খাবারও ছিল মজাদার। ভালোই কেটেছিল ওই মুহূর্তগুলো। মন চাচ্ছিল না কাশ্মীর ছেড়ে আসতে।

যাই হোক পরদিন বিমানের টিকিট কেটে দিল্লি চলে আসি। পরে দিল্লির কিছু দর্শনীয় স্থান পরিদর্শন শেষে ট্রেনে কলকাতা এসেই দেখা হয় সমকাল কেন্দ্রীয় সুহৃদের সভাপতি সজীব ভাইয়ের সঙ্গে। তাদের একটি দল মানালি হয়ে ওইদিনই কলকাতায় আসে। এরই মধ্যে কয়েকজন সুহৃদ বেশি অসুস্থ হয়ে পড়লে যার যার সুবিধামতো ট্রেন, বাস ও বিমানে চড়ে বাংলাদেশে আসি। এভাবেই পুরান ঢাকা সুহৃদের কাঙ্ক্ষিত কাশ্মীর ভ্রমণের সমাপ্তি ঘটে।

হ সহসভাপতি ঢাকা কেন্দ্রীয় কমিটি