সুহৃদ সমাবেশ

সুহৃদ সমাবেশ


মনের মন্দিরে...

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০১৯      

শওকত আলী

সূর্যের দেখা নেই! যেন অভিমান করে মুখ গোমড়া করে রেখেছ। মাঝে মধ্যে বিকট শব্দ হচ্ছে, যেন কোথাও যুদ্ধ হচ্ছে। শিশুরা ভয়ে বাইরে আসছে না। সকাল পেরিয়ে দুপুর। তখনও আকাশের অবস্থা ভালো নয়, কালো মেঘে অন্ধকার হয়ে গেছে চারদিক...

এখনও তাপ কমেনি, কাঠফাটা রোদ চারদিকে। আবার কখনও হঠাৎ আকাশ ছেয়ে যায় কালো কালো মেঘে। কোনো দিন সকালে সূর্যের দেখা নেই। যেন অভিমানে মুখ গোমড়া করে রেখেছে। মাঝে মধ্যে বিকট শব্দ, যেন কোথাও যুদ্ধ শুরু হয়েছে। শিশুরা ভয়ে বাইরে আসছে না। সকাল পেরিয়ে দুপুর। তখনও আকাশের অবস্থা তেমন ভালো নয়, কালো মেঘে অন্ধকার হয়ে গেছে চারদিক।

হঠাৎ সেই দিনগুলোর কথা মনে এলো। যখন ঝরছিল অঝোর ধারায় বৃষ্টি। আমাদের বাড়ির বারান্দায় মা এবং দাদু গান করতে করতে নকশিকাঁথা সেলাই করছেন, বাবা দরজার কাছে চেয়ারে বসে বসে খবরের কাগজ দেখছেন, আর মাঝে মাঝে চায়ের কাপটি মুখে দিয়ে এক চুমুক করে পান করছেন।

শিমুল এবং তার চাচাতো ভাই সজীব এবং আরও দু-একজন বন্ধু মিলে বৃষ্টিতে ভিজছে, কারণ সে দিনের বৃষ্টিতে আলাদা রহস্য ছিল। সাধারণত মা কখনও বৃষ্টিতে ভিজতে দেন না। আজ বৃষ্টিতে ভিজতে দেওয়ার কারণ হলো, বৃষ্টির সঙ্গে আকাশ থেকে ছোট ছোট বরফের দানার মতো ঝরছে। সেই বরফের দানাগুলো মাটিতে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে মাটিতে মিশে যাচ্ছে। সে দানাগুলো প্রচুর ঠাণ্ডা। আমরা সবাই সে দানাগুলো পড়ার সঙ্গে সঙ্গে কুড়িয়ে নিয়ে খাচ্ছি, একরকম আনন্দ লাগছে শিমুলদের। এভাবে প্রায় অনেকক্ষণ বৃষ্টি হলো। বৃষ্টি শেষ না হওয়া পর্যন্ত ওই ছোট ছোট বরফের দানাগুলোও ঝরেছে। আমরা খুব কৌতূহল নিয়ে খাচ্ছি কারণ এগুলো খেলে নাকি কোনো ধরনের রোগ হয় না। কার না মন চায় সারাজীবন রোগমুক্ত থাকতে! কিন্তু হলো ঠিক তার উল্টো। সন্ধ্যায় বৃষ্টি থামে। এর আগে ঘণ্টাখানেক গ্রামের বড় পুকুরটিতে সাঁতার কেটে চোখ-মুখ লাল করে ফেলেছি আমরা ক'জন। দেখতে মনে হচ্ছে ভূত সেজে মানুষকে ভয় দেখাচ্ছি। মা হাতে বেত নিয়ে পুকুর থেকে নিয়ে এসেছেন। কিছুক্ষণ সূর্য পশ্চিম আকাশে ঢুকে পড়েছে, মেঘের কারণে আকাশ একেবারে কুচকুচে কালো হয়ে গেছে। রাতে ভাইবোন সবাই বই নিয়ে পড়তে বসেছে, শিমুলও বসল; কিছুক্ষণ পড়ার পর শরীরে নেমে এলো ক্লান্তির ঘুম। ভাত না খেয়ে, পড়ার টেবিলে গা'টা এলিয়ে দিয়েই ঘুমিয়ে গেল শিমুল। ভাত খাবই বা কী করে মা যে এখনও রান্নাই করেননি। শিমুল পড়ার টেবিলে ঘুমিয়ে গেলে অন্য দিন মা বকাবকি করেন। কিন্তু কেন জানি আজ কিছুই বললেন না মা। তিনি হয়তো জানতেন আমার শরীর খারাপ। শিমুল বুঝতেই পারেনি তার শরীর কেঁপে কেঁপে জ্বর আসছে। শরীর প্রচণ্ড গরম হয়ে গেছে, মা কিছু খাওয়াতে চাইল, কিন্তু ইচ্ছে থাকলেও খেতে পারছি না, তবুও অল্প কিছু খেয়ে মা ওষুধ খাইয়ে দেন। শিমুলের সেদিন বৃষ্টিতে ভেজার সেই স্মৃতি ভোলার নয়

সেই বৃষ্টিতে ভিজে অনেকদিন ভুগতে হয়েছিল শিমুলকে। তবে বৃষ্টিতে ভেজার সেই আনন্দ ছিল অনন্য। সেই সময় এখন বারবার স্মৃতি হয়ে ফিরে আসে।