সুহৃদ সমাবেশ

সুহৃদ সমাবেশ


শীতকালের ঝগড়া

প্রকাশ: ২১ জানুয়ারি ২০২০      

ইরফান তানভীর

শীতকাল এলে লেপ নিয়ে ঝগড়া হবেই। শ্বশুরবাড়ি থেকে লেপ পেয়েছিলেন আবদুল হামিদ। দু'বছর ভালো সার্ভিস দিল, তারপর থেকেই লেপ নিয়ে গণ্ডগোল। লেপের ওয়াড়ে বড় একটা ফুটো হয়ে গেছে। সেই ফুটো দিয়ে স্ত্রী ঘুমের ঘোরে ভেতরে চালান হয়ে গিয়েছিলেন। মমতাজ বেগমের দম আটকে যাচ্ছিল। গভীর ঘুম ভেঙে জেগে উঠে মমতাজ চেঁচিয়ে উঠলেন। ওগো, আমি কোথায়? আমাকে খুঁজে বের করো। ধড়মড়িয়ে আবদুল হামিদ জেগে উঠলেন। লেপ উল্টেপাল্টে দেখলেন। কিন্তু স্ত্রীকে খুঁজে পেলেন না। স্বামী আতঙ্কিত হয়ে বললেন, তুমি কোথায়? স্ত্রী লেপের ভেতরে থেকে বললেন, আমি ওয়াড়ের ভেতরে ঢুকে গেছি। স্বামী লেপ নেড়ে চেড়ে বললেন, আমি ফুটো খুঁজে পাচ্ছি না। তুমি যেভাবে ঢুকেছিলে সেভাবে বেরিয়ে এসো। তোমার পথ তুমিই খুঁজে নাও। স্ত্রী কাঁদো কাঁদো হয়ে বললেন, তুমি দাড়ি কাটার কাচি নিয়ে এসো। ওয়াড় ফেঁড়ে আমাকে উদ্ধার করো। শেষমেশ সেই রফাই হলো। স্বামী দক্ষ দর্জির মতো ওয়াড় এফোঁড়-ওফোঁড় করে দিলেন। লাল লেপ বেরিয়ে পড়ল। তার নিচ থেকে বেরিয়ে এলেন মমতাজ বেগম, হাঁসফাঁস করতে করতে বললেন, আর একটু হলে পটল তুলতাম। তুমি তো তাই চাও। পাঁচ বছরের পুরোনো হয়ে গেছি। মরে গেলে তরতাজা বউ আনতে পারতে। আবদুল হামিদ বিরক্ত হয়ে বললেন, সিজারিয়ান অপারেশন করে তোমাকে বের করে আনলাম। আর তুমি কিনা আমাকে গালমন্দ করছ। তুমি হলে দুর্নীতির স্ত্রী। তোমাকে সিজার করাই আমার ভুল হয়েছে। স্ত্রী দমলেন না। বরং যুদ্ধংদেহী ভঙ্গিতে বললেন, তোমাকে কতবার বলেছি লেপটি পাল্টাতে। পরের দিনই একটি নতুন লেপ কিনে আনলেন। আগেই বলে দিচ্ছি আজ রাতে কোনো দুষ্টুমি বরদাশত করব না। লম্বা চওড়া লেপ ছোট হয়ে গেছে। স্বামীর দিকে টানলে স্ত্রীর দিকে আলগা হয়ে যায়, আর স্ত্রীর দিকে টানলে স্বামীর শরীর আলগা হয়ে যায়। সারারাত কারও ঘুম হলো না। লেপ টানাটানিতেই রাত কাবার হয়ে গেল। স্ত্রী চটে বলল, তুমি কোনো কাজের না। এই বলে স্ত্রী কাশলেন। স্বামী নাক টানতে টানতে বললেন, আমার অবস্থাও কাহিল। ঠান্ডায় গলা বসে গেছে। তোমার বুদ্ধিতে লেপ কিনতে গিয়ে এই দশা। স্ত্রী কাশতে কাশতে বললেন, বিক্রীত মাল দোকানদাররা ফেরত নেয় না। এই লেপ নিয়ে সারা শীত ভুগতে হবে। একে বলে স্ত্রী-বুদ্ধি। সকাল বেলাতেই স্বামী-স্ত্রী অসুস্থ হয়ে পড়লেন। দু'জনেই কাশতে লাগলেন। স্ত্রী স্বামীকে বললেন, তোমার সকালের নাশতা বন্ধ, তুমি হোটেলে গিয়ে খেয়ে নাও। আমি ডাক্তার দেখাতে যাচ্ছি। যে রকম নাকের পানি ঝড়ছে। এক রুমালে কুলাচ্ছে না। ডাক্তারের কাছে আমি গামছা নিয়ে যাচ্ছি। মমতাজ বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়লেন। আবদুল হামিদ গরম পানির কুলকুচি করতে লাগলেন। সাংঘাতিক গলা ব্যথা হয়ে গেছে। ঢোক গিলতে গেলে রোজ হাশরের কথা মনে পড়ে যাচ্ছে। আজ অনেক কাজ জমে যাচ্ছে। একটু পর দোকানে লেপ পাল্টাতে যেতে হবে। সে কথা ভাবতেই গায়ে জ্বর চলে আসছে। বিক্রির সময় দোকানদারের এক মূর্তি, মাল বদলানোর সময় আরেক মূর্তি। যাকে বলে অগ্নিমূর্তি। দু'ঘণ্টা পর স্ত্রী হাসতে হাসতে বাড়ি ফিরে এলেন। হাতে মিষ্টির বাক্স, স্বামীর দিকে এগিয়ে দিয়ে বললেন, নাও মিষ্টিমুখ কর। সুখবর আছে। ওদের বিয়ে হয়েছে পাঁচ বছর, বাচ্চা কাচ্চা হচ্ছিল না। স্বামী খুশি হয়ে বললেন, নিশ্চয়ই তোমার বাচ্চা হবে। ডাক্তার বলে দিয়েছেন, আমি ধরে ফেলেছি। তোমার মতো বউ হয় না। মমতাজ ওষুধ খেতে খেতে বললেন, আমাদের নতুন বাবু আসছে। আজ আমাদের বড় সুখের দিন। ওগো এই লেপ আর পাল্টানোর দরকার নেই। এটা আমাদের নতুন বাবুর জন্য রেখে দেই। তুমি আমাদের জন্য একটা নতুন ডাবল লেপ কিনে আনো। ঘাম দিয়ে স্বামীর জ্বর সেরে গেল। দোকানদারদের মুখ খিঁচুনি আর দেখতে হবে না। বরং আরেকটা নতুন লেপ নিতে গেলে জামাই আদর পাওয়া যাবে। নতুন লেপ কেনার জন্য স্বামী খুশি মনে বেরিয়ে পড়লেন।