সুহৃদ সমাবেশ

সুহৃদ সমাবেশ


প্রিয়লেখা

প্রকাশ: ২১ জানুয়ারি ২০২০      

সাখাওয়াত আলী

একদিনের ব্যবধানে প্রিয়লেখা পাল্টেছে। পাল্টেছে তার বাচনভঙ্গি। এখন আর তার কথার মাঝে মায়া ঝরে না। গা সারাভাবে যতটুকু বলা দরকার তার চেয়েও কিঞ্চিৎ কমেই বলে সে। অথচ কে বলবে, একদিন আগেই কতটাই না আপন ভাবত আমায়! আসলেই কী ভাবত? নাকি সবটাই ছিল তার একটা মানুষ জোটানোর ভাবনা। যার সঙ্গে সে সময়ে-অসময়ে কথা বলবে, নিজের আবেগগুলো উতলে দেবে আবার সময় শেষে এই প্রিয় মানুষটিকেই ছুড়ে ফেলে দেবে। এসবই কি ছিল তার ভাবনায়? হয়তো হ্যাঁ। আর তা না হলে হুট করেই বা কেন যোগাযোগ বন্ধ করে দিল। নিজের বিয়ের সংবাদটা খুব গোপন করল আমার কাছে। পাঁচদিন বহু কল মেসেজ করার পর একটা রিপলাই পেলাম তখন, 'আমার বিয়ে হয়ে গিয়েছে।' এতটাই সস্তাভাবে বলেছিল আমার কাছে যে ফোনটা পর্যন্ত রিসিভ করল না সে। আমিই তখন আপন মানুষ থেকে ভদ্র মানুষ হয়ে তাকে দুটো প্রশ্ন করলাম। বিনিময়ে পেলাম শব্দের চেয়েও খানিক ছোট কিছু শব্দ। আর কিছু জিজ্ঞেস করার সাহসটুকু পেয়ে ওঠেনি। তখন শুধু একটা কথাই মনে বারবার দানা বুনছিল, এই প্রিয়লেখার সঙ্গেই কি আমি ঘণ্টার পর ঘণ্টা কথা বলেছি। রাত পেরিয়ে ভোর পর্যন্ত তার সঙ্গেই মনের মধ্যে স্বপ্ন বুনেছি। আমি পারিনি, পারিনি তার সঙ্গে একটু খারাপ ব্যবহার করতে। প্রশ্ন করেনি তাকে একটি বারও আমার সম্পর্কে। শুধু বলেছিলাম 'ভালো থাকো'। আমার এই ছোট্ট মেসেজটি সে আর দেখতে পায়নি। কারণ আমার নামটা ব্লক লিস্টে চলে যায় সঙ্গে সঙ্গে। সে জানত মোবাইলে নম্বর থাকা সত্ত্বেও আমি তাকে কল দেব না। একটি বারও জিজ্ঞেস করব না, কেন এমনটা করলে? কারণ আমি যে ভদ্র হয়ে জন্মেছি। পরিবার আমাকে শিখিয়েছে মানুষকে সম্মান করতে, সাহায্য করতে। আমিও তাই করেছি। নিজের বুক খালি করে খুব সুন্দর করে ভরে দিয়েছি অন্যের সংসার। আজ আমি স্বার্থক, আজ আমি শূন্য। আর ঠিক এভাবেই প্রিয়লেখার অধ্যায় মুছে যায় আমার জীবন থেকে।া