আজ স্কুল থেকে ফিরেই মিতুলের মন খারাপ। মায়ের সঙ্গে একটা কথাও বলেনি। চুপচাপ বসে আছে।

যে ছেলের বকবকানিতে কান ঝালাফালা হয়ে যেত আজ সে শান্ত হয়ে বসে আছে। কারণটা ঠিক শায়লা রহমানের বোধগম্য হলো না। শায়লা রহমান মিতুলের মা। প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষিকা। মিতুল তার একমাত্র সন্তান, দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ে। তার এই শান্ত ভাব দেখে ছেলের যে কোনো কারণে মন খারাপ, এটা সে অনুমান করতে পারলেন। তাই ছেলের পছন্দের খাবার নুডলস রান্না করে নিয়ে তার কাছে গেলেন।

আমার মিতুল সোনার কী হয়েছে, মন খারাপ নাকি? মিতুল কিছুই বলছে না। শায়লা রহমান ছেলেকে কোলের কাছে এনে মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে বললেন, দেখ তোমার প্রিয় খাবার এনেছি।

না, আমি খাব না। আজ কিছুই খাব না।

আহারে! আমার বাবাইটা এত রাগল কেন আজ? পড়া ভুলে গিয়েছিলে? স্যার বকেছে?

মিতুল বারবার মাথা নাড়িয়ে না বোধক জবাব দিল।

তাহলে বন্ধুদের সঙ্গে ঝগড়া করেছ?

এবারও না জবাব দিল সে।

তবে কী হয়েছে তোমার?

আমি আজ আনতে যাইনি তাই অভিমান হয়েছে বুঝি?

এবারও মিতুল না জবাব দিল।

তবে কী হয়েছে তোমার আমার সোনা বাবাই? আম্মুকে বলতে হবে তো, না বললে আমি কেমনে বুঝব?

এত রাগতে নেই বাবাই, আম্মুকে বল কী হয়েছে তোমার? আমাকে বল আমি সব ঠিক করে দেব।

মিতুলের চোখ দুটো জলে ছলছল করছে।

তুমি কাঁদছ কেন মিতুল? আমাকে বল কী হয়েছে তোমার?

মিতুল মাকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে উঠল। আর বলতে লাগল, আমার বাবা কোথায় থাকে? আমার বাবা কেন দূরে থাকে? আমাকে কেন স্কুল থেকে আনতে যায় না? প্রতিদিন তো সবার বাবা আনতে যায়, তাহলে আমার বাবা কেন যায় না?

শায়লা রহমান ছেলের কথায় থ হয়ে গেলেন। অতীত স্মৃতিতে ডুবে গেলেন তিনিও, তার চোখেও জল। স্বামীহারা বেদনা তাকেও কুরে কুরে খায়। অল্প বয়সেই স্বামী হারাতে হয়েছে তাকে। হয়তো এটাই তার নিয়তি।

চুপ করে আছ কেন? বল আম্মু, বাবা কি তারার দেশ থেকে আর আসবে না?

আসবে সোনা আসবে।

রাতুল আরও জোরে কেঁদে কেঁদে বলতে লাগল, জান আম্মু আমার খুব কষ্ট হয়। যখন দেখি সবার বাবা আসছে, তখন না আমার বাবাকে দেখতে খুব ইচ্ছে হয়। এক লাফে দৌড়ে গিয়ে বাবার কোলে উঠতে মন চায়।

শায়লা রহমান চোখের জল মুছে ফেললেন। তিনিও যে কেঁদেছেন মিতুলকে বুঝতে দিলেন না।

মিতুলকে বুকে জড়িয়ে শাড়ির আঁচল দিয়ে চোখের জল মুছে দিলেন। আর একটুও কাঁদবে না তুমি। তোমার বাবা আসবে, আমরাও একদিন তারার দেশে যাব। া

মন্তব্য করুন