সমকাল সুহৃদ সমাবেশ ও আল-খায়ের ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে দেশের বিভিন্ন স্থানে চলছে দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ কর্মসূচি। এরই ধারাবাহিকতায় ১ মে বগুড়া সেন্ট্রাল হাইস্কুল মাঠে এবং ২৮ এপ্রিল সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলায় ৪০০ পরিবারের সদস্যদের হাতে খাদ্যসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়



বগুড়া


মেহেরুন্নেছা ইতি

করোনাকালে লকডাউনের কারণে শিল্পনগরী বগুড়ার শ্রমজীবী পরিবারগুলো কর্মহীন হয়ে পড়েছে। এরই মধ্যে রমজান এসে পড়ায় তাদের দুর্দশা আরও বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে আসছে ঈদ তাদের কাছে যেন নিরানন্দ হয়ে উঠেছে। সহায়তার আশায় যখন তারা দিশাহারা, ঠিক তখনই তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে সমকাল সুহৃদ সমাবেশ ও আল-খায়ের ফাউন্ডেশন।

খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার জন্য সুহৃদ সদস্য নিজেরা এবং বগুড়া পৌরসভার ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের নিয়ে কর্মহীন ২০০ মানুষের তালিকা করেন। এরপর গত ১ মে শনিবার দুপুরে বগুড়া সেন্ট্রাল হাইস্কুল মাঠে কর্মহীন মানুষগুলোর হাতে বগুড়ার জেলা প্রশাসক মো. জিয়াউল হকের মাধ্যমে খাদ্যসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়।

শুধু পুরুষই নয়, সহায়তা নিতে হাজির ছিলেন নারীরাও। সহায়তা নিতে আসা লোকজনের অধিকাংশই ছিলেন দিনমজুর। এ ছাড়া পরিবহন শ্রমিক এবং সংবাদপত্র বিক্রেতারাও ছিলেন। বগুড়ার জেলা প্রশাসক মো. জিয়াউল হক তাদের হাতে খাদ্যসামগ্রীগুলো তুলে দেন। পৃথক দুটি প্যাকেটে ছিল ১৫ কেজি চাল, দুই কেজি আলু, দুই লিটার সয়াবিন তেল, এক কেজি ডাল, এক কেজি চিনি, এক কেজি পেঁয়াজ, এক কেজি ছোলা, এক কেজি আটা, এক কেজি লবণ, ৫০০ গ্রাম গুঁড়ো দুধ, ৫০০ গ্রাম খেজুর এবং আধা কেজি সেমাই।

খাদ্যসামগ্রীগুলো বিতরণ করতে গিয়ে বগুড়ার জেলা প্রশাসক মো. জিয়াউল হক করোনাকালে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়ানোর জন্য সমকাল এবং আল-খায়ের ফাউন্ডেশনকে ধন্যবাদ জানান। তিনি দরিদ্র মানুষদের সহায়তার জন্য সরকারের নেওয়া নানা উদ্যোগের কথা জানিয়ে বলেন, 'সরকারের পাশাপাশি সমাজের বিত্তমান মানুষকেও এগিয়ে আসতে হবে। কেউ যেন না খেয়ে থাকে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।' অন্যদের মধ্যে বক্তৃতা করেন আল-খায়ের ফাউন্ডেশনের কান্ট্রি ডিরেক্টর তারেক মাহমুদ সজীব, বগুড়া সেন্ট্রাল হাইস্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি টি জামান নিকেতা, বগুড়া পৌরসভার প্যানেল মেয়র আলহাজ শেখ, ১০নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আরিফুর রহমান ও বগুড়া সেন্ট্রাল হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম। আর পিঠার দোকানের কর্মচারী পঞ্চাশোর্ধ্ব সখিনা বেওয়া তো কেঁদেই ফেলেন। কথা বলে জানা গেল, বগুড়া সদর উপজেলার পালশা এলাকার বিধবা সখিনা শীতকালে পিঠার দোকানে কাজ করলেও বছরের বাকি সময় ছাত্রাবাসে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। কিন্তু এবার করোনাকালে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সঙ্গে মেসগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কর্মহীন হয়ে পড়েন।

খাদ্য সহায়তা পাওয়ার পর সখিনা বেওয়ার চোখ দিয়ে অশ্রু ঝরতে শুরু করে। দুই হাত দিয়ে তা মুছতে মুছতে তিনি বলেন, 'জীবনে কোনোদিন এত দামি খেজুর খাওয়ার সুযোগ হয়নি। এবার আল্লাহ সেই সুযোগ করে দিছে, যা সাহায্য পাছি (পেয়েছি) তা দিয়ে বাকি রোজায় ভালো করে সেহেরি আর ইফতার খাওয়া যাবি। আবার ঈদের দিনে খাওয়ার জন্য সেমাইও দিচে। সত্যিই ইঙ্কা (এমন) সাহায্য আজ পর্যন্ত কেউ করেনি।'

বগুড়ার ব্যুরোপ্রধান মোহন আখন্দ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে ছিলেন বগুড়া সুহৃদ সভাপতি রাজেদুর রহমান রাজু, সাধারণ সম্পাদক অরূপ রতন শীল, উপদেষ্টা আসাদুল হক কাজল, সুহৃদ আকতারুজ্জামান সোহাগ, আব্দুল আউয়াল, সামিউল হাসিব সম্পদ, তারেক, আদনান, মুন রিপন, নজরুরল ইসলাম ও সমকাল বগুড়া ব্যুরোর স্টাফ রিপোর্টার এসএম কাওসার।

সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সুহৃদ সমাবেশ, বগুড়া



জগন্নাথপুর

তারেক মাহমুদ সজীব

সারাদেশে চলমান লকডাউনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সেহরি ও ইফতার নির্বিঘ্ন করতে সমকাল সুহৃদ সমাবেশ ও আল-খায়ের ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগের ধারাবাহিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে ২৮ এপ্রিল সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলায় ২০০ দরিদ্র পরিবারের মধ্যে উপহার হিসেবে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

বেলা ১১টায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে জগন্নাথপুর উপজেলার পাটলী ইউনিয়নে আরডিএফ মেটারনিটি কেয়ারের মাঠে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়। প্রত্যেক পরিবারের জন্য একটি করে খদ্যসামগ্রীর প্যাকেট বরাদ্দ ছিল। প্রতিটি পরিবারের জন্য উপহারের প্যাকেটে ছিল ১৫ কেজি চাল, ১ কেজি পেঁয়াজ, ২ কেজি আলু, ১ কেজি চিনি, ২ লিটার ভোজ্যতেল, ১ কেজি লবণ, ১ কেজি আটা, ১ কেজি ছোলা, ৫০০ গ্রাম গুঁড়ো দুধ, ৫০০ গ্রাম খেজুর ও ১ প্যাকেট সেমাই।

খাদ্যসামগ্রী পেয়ে পঞ্চাশোর্ধ্ব চানপুর গ্রামের পারুল বেগম বলেন, 'লকডাউনের মধ্যে পরিবারের আয়-উপার্জন নেই। ঘরে বসেই দিন কাটছে। রমজানে কষ্ট আরও বেড়ে গেছে। এই রমজানের দিনে একসঙ্গে এত খাদ্যসামগ্রী পেয়ে ভালো লাগছে।'

ত্রাণ বিতরণকালে উপস্থিত ছিলেন- জগন্নাথপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রিজু, আল-খায়ের ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে কমলজিৎ পাল শাওন, মো. নাজিম, সুনামগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জুনায়েদ আহমদ, জুহের আহমেদ চৌধুরী, মাছুম আহমদ প্রমুখ।

সভাপতি সুহৃদ সমাবেশ, ঢাকা কেন্দ্রীয় কমিটি

মন্তব্য করুন