উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে সমকাল সুহৃদ সমাবেশের আয়োজনে ও বাংলাদেশ ফ্রিডম ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত বিএফএফ-সমকাল জাতীয় বিজ্ঞান বিতর্ক উৎসব ২০২১-এর চূড়ান্ত আসরের শেষ পর্ব ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান ৮ অক্টোবর রাজধানীর তেজগাঁও-এর টাইমস মিডিয়া ভবনের মাল্টিপারপাস হলে অনুষ্ঠিত হয়। দেশের ৬৪ জেলার ৫২০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রায় দুই হাজার বিতার্কিক সরাসরি অংশ নেয় এ উৎসবে। উৎসবের সেমিফাইনাল ও ফাইনাল বির্তক প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে নির্ধারণ হয় দেশসেরা বিতার্কিক দল।  আয়োজনের বিশেষ সহযোগী হিসেবে রয়েছে প্রফেসর'স কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স

দিনের শুরুতেই 'শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়, পরিবারই সাম্প্রদায়িক চিন্তা বিস্তারের বড় কারণ'- এমন একটি বিষয় নিয়ে সেমিফাইনালের মঞ্চে যখন যুক্তি আর পাল্টা যুক্তিতে চাঁদপুরের আল-আমিন স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং বরিশাল সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের বিতার্কিকরা মুখর করে তোলে টাইমস মিডিয়ার মাল্টিপারপাস হল, তখনই বেশ বোঝা যাচ্ছিল বিতর্ক উৎসবের বিচারকদের জন্য দিনটি কতটা কঠিন হতে যাচ্ছে। দ্বিতীয় ভেন্যুতে নবাব ফয়জুন্নেছা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, কুমিল্লা এবং বগুড়ার বিয়াম মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের মধ্যকার সেমিফাইনালেও চলছিল একই অবস্থা। এ যেন 'বিনা যুদ্ধে নাহি দেব সূচ্যগ্র মেদেনী।' সেখানে বিতর্কের বিষয় ছিল, 'অবকাঠামোগত উন্নয়নই দেশের সমৃদ্ধির মাপকাঠি নয়'। শুধু যুক্তি উপস্থাপন বা খণ্ডনই নয়- সেই সঙ্গে বিতার্কিকদের শব্দ চয়ন, বাক্য গঠন, উচ্চারণ উপস্থিত সবার মন ছুঁয়ে যায়। বরিশাল সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও নবাব ফয়জুন্নেছা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের মধ্যে 'বিজ্ঞানমুখী শিক্ষাই পারে সাম্প্রদায়িকতামুক্ত সমাজ গড়তে' বিষয়ে অনুষ্ঠিত ফাইনালে বিতর্কের সময় অনলাইনে যুক্ত থেকে বিতর্কটি উপভোগ করেন এক সময়ের কৃতী বিতার্কিক এবং বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। তিনি যথার্থই বলেন, বিতার্কিকরা বিচারকদের কঠিন পরীক্ষায় ফেলে দিয়েছে। তা যাই হোক দিন শেষে বিতর্কের এ লড়াইয়ে সবার কণ্ঠেই বাজে বিজ্ঞানের জয়গান।

বলছিলাম ৮ অক্টোবর অনুষ্ঠিত 'বিএফএফ-সমকাল জাতীয় বিজ্ঞান বিতর্ক উৎসব ২০২১'-এর চূড়ান্ত আসরের কথা। তেজগাঁওয়ের টাইমস মিডিয়া ভবনের মাল্টিপারপাস হলে শুক্রবার যুক্তির শানিত তীর ছুড়ে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার তীব্র প্রতিযোগিতায় মেতেছিল দেশসেরা বিতার্কিকরা। পক্ষে-বিপক্ষে দলগুলোর যুক্তি ও পাল্টা যুক্তি মুগ্ধতা ছড়ায় উপস্থিত দর্শকদের মাঝে। মুহুর্মুহু করতালিতে মিলনায়তনজুড়ে তখন আনন্দের ঝিলিক। মঞ্চের সামনে বসা বিশিষ্টজন দেখছিলেন নতুন প্রজন্মের মধ্য দিয়ে আগামী দিনের যুক্তিনির্ভর, গণতান্ত্রিক, মননশীল ও সৃজনশীল জাতি গড়ে ওঠার প্রচেষ্টা। শেষ দিনের তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এ বিতর্কের মধ্য দিয়েই পর্দা নামে 'বিএফএফ-সমকাল জাতীয় বিজ্ঞান বিতর্ক উৎসব-২০২১'-এর চূড়ান্ত আসরের। সমকাল ও বাংলাদেশ ফ্রিডম ফাউন্ডেশনের (বিএফএফ) উদ্যোগ ও সমকাল সুহৃদ সমাবেশের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ উৎসবের অংশ নেয় দেশের ৬৪টি জেলার ৫২০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় দুই হাজার শিক্ষার্থী। জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের উৎসব শেষে শুরু হয় চূড়ান্ত আসরের। এর আগেই করোনা এসে বাদ সাধে। করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে কিছুদিন বিরতি দিতেই হয়। পরিস্থিতি কিছুটা অনুকূলে এলে, চূড়ান্ত আসরের প্রথম পর্ব অনলাইন প্ল্যাটফর্মে অনুষ্ঠিত হয়। যেখানে অংশ নেয় বিভাগীয় পর্যায়ে বিজয়ী হয়ে আসা ১৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। দ্বিতীয় পর্বে সেমিফাইনাল ও ফাইনালে চারটি দল আবারও ভেন্যুতে এসে মুখোমুখি হয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে। তাতে দিনের শেষে চ্যাম্পিয়ন হয়ে শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট মাথায় পরে কুমিল্লার নবাব ফয়জুন্নেছা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের বিতার্কিক দল। বিজয়ী দলের দলনেতা সালফিয়া তানহিয়াত নুজাইমা সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে অর্জন করেছে শ্রেষ্ঠ বক্তার সম্মান। রানার্সআপ হয়েছে বরিশাল সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় দল। দুই সেমিফাইনালিস্ট হয়েছে বগুড়ার বিয়াম মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ দল এবং চাঁদপুর আল আমিন স্কুল অ্যান্ড কলেজ দল। উৎসবে প্রধান অতিথি হিসেবে অনলাইনে যুক্ত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। সমকালের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মুস্তাফিজ শফির সভাপতিত্বে আয়োজনে বিশেষ অতিথি ছিলেন- শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শহীদুর রশীদ ভূঁইয়া, বরেণ্য বিজ্ঞানী ও বিজ্ঞান লেখক বিএফএফের ট্রাস্টি ড. রেজাউর রহমান, প্রফেসর'স কারেন্ট অ্যাফেয়ার্সের সম্পাদক ও কথাপ্রকাশের প্রকাশক জসিম উদ্দিন, বিএফএফের নির্বাহী পরিচালক সাজ্জাদুর রহমান চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য দেন সমকালের ফিচার সম্পাদক মাহবুব আজীজ। উৎসবের সমন্বয়ক ও সমকালের সহকারী সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম আবেদের সঞ্চালনায় সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে চূড়ান্ত ফল ঘোষণা করেন বিতর্ক আয়োজনের মডারেটর সাবেক বিতার্কিক সমকালের সিনিয়র সহসম্পাদক হাসান জাকির। আরও উপস্থিত ছিলেন সমকালের সহকারী সম্পাদক ইমতিয়ার শামীম, বিশেষ প্রতিনিধি সাব্বির নেওয়াজ প্রমুখ। চূড়ান্ত আসরের চ্যাম্পিয়ন দল পুরস্কার হিসেবে পায় চ্যাম্পিয়ন সম্মাননা স্মারক। এ দলের প্রত্যেক বিতার্কিক পেয়েছে ল্যাপটপ, বই, ক্রেস্ট আর সনদপত্র। রানার্সআপ দলের তার্কিকরাও দলীয় সম্মাননা স্মারক ছাড়াও পায় নেটবুক, বই, ক্রেস্ট আর সনদপত্র। দুই সেমিফাইনালিস্ট দলের প্রত্যেকে পেয়েছে স্মার্টফোন, বই, ক্রেস্ট আর সনদপত্র। বিতর্কের চূড়ান্ত আসরের বিচারক ছিলেন- দেবাশিস রঞ্জন সরকার, মাজেদ আজাদ, নাজমুল হুদা সুমন, নিশাত সুলতানা, আবদুল্লাহ চৌধুরী মামুন, মুকসিমূল আহসান অপু, ইমরান এইচ তালুকদার, জাফর কৌশিক আজাদ প্রণয়, শাকিল আহমেদ, দ্বীন ইসলাম এবং সাফওয়াত সায়মা অর্পি। দিনব্যাপী আয়োজনে সক্রিয়ভাবে উপস্থিত ঢাকার বিভিন্ন ইউনিটের সুহৃদরা হলেন- ফরিদুল ইসলাম নির্জন, তরিকুল ইসলাম, শাহি আলম শাওন, আহসানুল হক আরিফ, ফজলুল ফাহিম, আব্দুর রহিম, আতিক মাহমুদ, জামান শাকিল, মুনতাকীম তিহান, মির্জা জীম, হাসিব-উল-আরেফিন, সাজ্জাদ জামিউর রহমান, আহছানুল আলীম প্লাবন, ফাহাদ আনোয়ার, তাসীন হোসেন, তাহসান, সাজিয়া আফরিন, নুসরাত জাহান, রওজা ইসলাম, রায়হান খান, সুমন, মিলন, ইমন, আয়মান সাদিক নাফিস, ইরফান হক আনান, মাইশা ইসলাম পূর্ণা, হাবিবা সুলতানা গৌধূলী, আফিফা ইয়াসতারীন, আনসা, শিখা, রাবীবুর রহমান, তোয়া, আর্থি, লাবণ্য, জাতরা, তুষার, আব্দুল্লাহ, ফারদিন, আয়মান, তানভীর সাদমান, সাইফ, আসিফ, ফুয়াদ, নোমান, সম্রাট, সান, মারুফ, তানভীর, ইতু, আরেফিন, আফনান, মুতিউল ইসলাম, লেদুর রহমান, জহিরুল ইসলাম, রিজভী হাসান প্রমুখ।

সহসম্পাদক সমকাল সুহৃদ সমাবেশ

মন্তব্য করুন