সমৃদ্ধি

সমৃদ্ধি

সা ক্ষা ৎ কা র

ঋণের সুদ কমায় চাহিদা বেড়েছে

প্রকাশ: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১

ঋণের সুদ কমায় চাহিদা বেড়েছে

নাসিমুল বাতেন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, ডিবিএইচ

সমকাল :করোনার কারণে ২০২০ সালে সব খাতেই মন্দা গেছে। আবাসন খাতে অর্থায়ন পরিস্থিতি কেমন ছিল?

নাসিমুল বাতেন :গত বছরের প্রথম ভাগটা ভালো যায়নি। মার্চ থেকে মে পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ছিল। এরপর কার্যক্রম শুরু হলে ফ্ল্যাট বা প্লট কেনার ঋণের চাহিদা বাড়তে থাকে। এমনকি ২০১৮ ও ২০১৯ সালের তুলনায় বেশি চাহিদা তৈরি হয়েছে, যা এখনও রয়েছে। এর অন্যতম কারণ সুদহার কমে যাওয়া। এ ছাড়া সরকার চলতি অর্থবছরের বাজেটে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগে বিশেষ সুবিধা দিয়েছে। ফ্ল্যাট ও প্লটের নিবন্ধন খরচ কমিয়েছে। এসবেরও প্রভাব পড়েছে আবাসন খাতে। অনেকে ফ্ল্যাট ও প্লট কিনছেন। আবার অনেকে বাড়তি আয়ের কথা চিন্তা করে নতুন বাড়ি নির্মাণ করছেন।

সমকাল :বাজেটে নীতি সহায়তা ছাড়া অন্য আর কী ধরনের উদ্যোগ নিলে আবাসন খাত আরও গতিশীল হবে বলে মনে করেন?

নাসিমুল বাতেন :২০০৭ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত আবাসন খাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একটি পুনঃঅর্থায়ন তহবিল ছিল। এর সুদহার ছিল বাজারের তুলনায় কম। বিশেষ জনগোষ্ঠীর জন্য অর্থাৎ যাদের মাসিক আয় ৫০ হাজার টাকার মধ্যে, নিজস্ব ফ্ল্যাট বা প্লট নেই এবং যারা ১২৫০ বর্গফুটের ফ্ল্যাট কিনতে চান, তাদের জন্য এ তহবিল থেকে ঋণ দেওয়া হতো। এমন গ্রাহক শ্রেণির জন্য একটি বিশেষ তহবিলের চাহিদা এখনও রয়েছে। সরকার বা বাংলাদেশ ব্যাংক এ ধরনের একটি তহবিল গঠন করতে পারে, যার সুদহার বাজারের চেয়ে কম হবে। এতে মধ্যবিত্ত বা নিম্ন মধ্যবিত্তরা যেমন উপকৃত হবেন, তেমনি পুরো আবাসন খাতের উপকার হবে।

সমকাল :নতুন চাহিদা বিবেচনায় ডেল্টা ব্র্যাক হাউজিং ফাইন্যান্স কোম্পানি লিমিটেড (ডিবিএইচ) কি নতুন কোনো ঋণ প্রডাক্ট চালু করতে যাচ্ছে?

নাসিমুল বাতেন :আপাতত নতুন কোনো প্রডাক্ট চালুর পরিকল্পনা নেই। চলমান ঋণ কার্যক্রমের মাধ্যমেই গ্রাহকদের চাহিদা মেটানো সম্ভব হচ্ছে। আমাদের মূল লক্ষ্য গ্রাহককে যথাসম্ভব কম সুদে ঋণ দেওয়া। কারণ সুদহারই প্রধান বিষয়। ডিবিএইচের গ্রাহকপ্রতি গড় ঋণ ৩২ লাখ টাকা। বর্তমানে ছোট আকারের ফ্ল্যাট বেচাকেনা বেশি হচ্ছে। ৬০ থেকে ৮০ লাখ টাকায় ঢাকা ও চট্টগ্রাম শহরের বিভিন্ন এলাকায় ফ্ল্যাট পাওয়া যাচ্ছে। তবে গ্রাহকদের অতিরিক্ত চাহিদার কথা বিবেচনা করে পার্সোনাল লোন চালু করা হয়েছে। পরিশোধ সক্ষমতা অনুযায়ী পাঁচ বছর মেয়াদে সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত এ ঋণ দেওয়া হচ্ছে।

সমকাল :ফ্ল্যাটের দাম কমানোর ক্ষেত্রে ডেভেলপার কোম্পানিগুলো কী ধরনের উদ্যোগ নিতে পারে বলে মনে করেন?

নাসিমুল বাতেন :ফ্ল্যাটের দামে হেরফের হয় প্রধানত জমির দামের কারণে। নির্মাণ উপকরণের দাম মোটামুটি একই। ফলে জমির দাম যেখানে বেশি, ফ্ল্যাটের দামও সেখানে বেশি। এখন কম দামের জমির সরবরাহ বাড়ানো দরকার। এজন্য যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি করতে হবে। গাজীপুর, মাওয়া, কুমিল্লা থেকে যাতে মানুষ ঢাকায় অফিস করতে পারে সে ব্যবস্থা করতে হবে। এক কথায়, শহরকে ছড়িয়ে দিতে হবে। এতে ফ্ল্যাটের দাম কমতে পারে।

সমকাল :আপনাদের নতুন শাখা খোলার পরিকল্পনার বিষয়ে বলুন।

নাসিমুল বাতেন :বর্তমানে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, সাভার, গাজীপুর, সিলেট, কুমিল্লা ও চট্টগ্রামে ডিবিএইচের শাখা রয়েছে। আরও শাখা করার পরিকল্পনা রয়েছে। এজন্য পদ্মা সেতুকে কেন্দ্র করে সম্ভাবনা পর্যালোচনা করা হচ্ছে। আগামীতে খুলনা ও যশোরে কার্যক্রম বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

সমকাল :একজন গ্রাহকের বাড়ি নির্মাণ বা ফ্ল্যাট কেনার জন্য সহজে ঋণ পেতে করণীয় কী?

নাসিমুল বাতেন :সবার আগে গ্রাহকের পরিশোধ সক্ষমতা। ডিবিএইচ সব সময় গ্রাহকের পরিশোধ সক্ষমতার ওপর জোর দেয়। একজন গ্রাহককে পর্যালোচনা করে তার ঋণসীমা ঠিক করা হয়। এজন্য ডিবিএইচের খেলাপি ঋণ ১ শতাংশের কম। এ ছাড়া জমির কাগজপত্র, ডেভেলপারের সঙ্গে চুক্তি এবং সংশ্নিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ঠিক থাকতে হবে। সহজে ঋণ পাওয়ার জন্য সরকারের ভূমিকা রয়েছে। জমির তথ্য-উপাত্ত বা রেকর্ড ব্যবস্থা ডিজিটাল পদ্ধতিতে আনতে হবে। কারণ জমির কাগজপত্রে অনেক ভুলভ্রান্তি রয়েছে। এতে গ্রাহকদের সমস্যায় পড়তে হয়।

সমকাল :খেলাপি ঋণ কমানোর উপায় নিয়ে জানতে চাই।

নাসিমুল বাতেন :প্রথম কাজ হচ্ছে গ্রাহক নির্বাচন। গ্রাহকের পরিশোধ সক্ষমতা যথাযথভাবে পর্যালোচনা এবং যে ফ্ল্যাট তিনি কিনতে চাচ্ছেন, সেটি ঠিকমতো যাচাই করা। এ দুটি কাজ যথাযথভাবে করা হলে ঋণ খেলাপি হওয়ার আশঙ্কা কম। এর সঙ্গে ইতোমধ্যে যেসব ঋণ খেলাপি হয়েছে, সেগুলোর আদায় প্রক্রিয়া গতিশীল করতে হবে। কারণ এ প্রক্রিয়া অত্যন্ত ধীর।

সাক্ষাৎকার নিয়েছেন শেখ আবদুল্লাহ