সমকাল :পোশাকের বিশ্ববাজারের এখনকার ট্রেন্ড কৃত্রিম তন্তুর পোশাক। সেখানে বাংলাদেশের অবস্থান কেমন ?

ফজলুল হক :তৈরি পোশাকের বিশ্ব বাজারে কৃত্রিম তন্তুর পোশাকের চাহিদা এক দশক ধরে বাড়ছে। তবে গত দেড় বছর ধরে তুলা দিয়ে তৈরি পোশাকের চেয়ে ভোক্তার রুচি-চাহিদা কৃত্রিম তন্তুর পথে বড় বাঁক নিয়েছে। হয়তো আগামী এক দশকে তুলার ব্যবহার অনেকটা কমে আসবে। সে স্থান চলে যাবে বিভিন্ন রকমের কৃত্রিম তন্তুর পোশাকে। তৈরি পোশাকের বিশ্ববাজারে আমাদের অবস্থান শক্তিশালী হলেও কৃত্রিম তন্তুর ক্ষেত্রে তা অনেক পেছনে। বাংলাদেশ সবেমাত্র এ খাতে প্রবেশ করতে শুরু করেছে। আমাদের মোট পোশাক রপ্তানির একটা সামান্য অংশ কৃত্রিম তন্তু দিয়ে বানানো পোশাক। চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান ও ভিয়েতনাম এ খাতের মার্কেট লিডার।

সমকাল :কৃত্রিম তন্তুর ক্ষেত্রে শক্তিশালী অবস্থানে যেতে সমস্যা কোথায় ?

ফজলুল হক :আমাদের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা তুলাভিত্তিক সুতার মাধ্যমে বানানো পোশাক। বলতে গেলে ঐতিহাসিকভাবে আমরা তুলায় অভ্যস্থ। মাইন্ড সেটটাই আমাদের এখনও সেরকম। ফলে বৈশ্বিক প্রবণতার সঙ্গে তাল মেলাতে হয়তো আরও একটু সময় লাগবে। এ প্রবণতা নতুন হওয়ার কারণে আমরা এখনও এসব বিষয়ে সিরিয়াসলি ভাবিনি। এরচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে প্রযুক্তি ও কৃত্রিম তন্তু ব্যবহারের মাধ্যমে কাপড় তৈরির দক্ষ জনবলের অভাব। কৃত্রিম তন্তুতে বস্ত্র উৎপাদনের বিষয়টি কিন্তু উচ্চপ্রযুক্তির কারবার। আমরা এখনও বিষয়টি রপ্ত করতে পারিনি। সে কারণে বিচ্ছিন্ন কিছু বিনিয়োগ হলেও মূল প্রবাহে আমাদের এখানে এ খাতে বড় ধরনের বিনিয়োগ শুরু হচ্ছে না। আবার বস্ত্র ও পোশাক খাতে এমনিতেই দক্ষ লোকবলের সংকট রয়েছে। সেখানে নতুন ধরনের এ প্রযুক্তির জন্য লোকবল থাকার কথাও নয়। এ দুই সমস্যা আমাদের প্রকট।

সমকাল :নতুন এ খাতে বিনিয়োগ, উৎপাদন ও রপ্তানি বাড়াতে এখন করণীয় কী?

ফজলুল হক :আমাদের এখন প্রয়োজন প্রযুক্তি সহায়তা। এ সহায়তা পেতে যৌথ বিদেশি বিনিয়োগ প্রয়োজন এবং সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ প্রয়োজন। বিদেশি উদ্যোক্তারা এ দেশে এ খাতে বিনিয়োগ করলে প্রযুক্তি আমাদের আয়ত্তে আসা সহজ হবে। অন্যদিকে কৃত্রিম তন্তু উৎপাদন ও ব্যবহারের জন্য কারখানায় জনবল তৈরিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো আলাদা পাঠ্যক্রম যুক্ত করতে পারে। আলাদা ইনস্টিটিউট গড়ে তোলা যেতে পারে। প্রয়োজনীয় নীতি সহায়তা দিতে পারে সরকার। তবে মূল বিষয় বিনিয়োগের। উদ্যোক্তারা বিনিয়োগ বাড়ালে এর সুফলও পাবেন। কারণ, আগেই বলেছি আগামী দিনগুলোতে তৈরি পোশাকের বাজার শাসন করবে কৃত্রিম তন্তু। আমার জানা মতে, দেশের সৃজনশীল উদ্যোক্তাদের অনেকেই সেরকম চিন্তা-ভাবনা করছেন। অনেকে কারখানাও গড়ে তুলছেন। হয়তো একটা সময় পর আমরাও এ খাতে একটা ভালো অবস্থানে যেতে সক্ষম হবো।

সমকাল :কৃত্রিম তন্তুর বাণিজ্যিক সুবিধা কী?

ফজলুল হক :উচ্চমূল্যের পোশাক সাধারণত কৃত্রিম তন্তু দিয়ে বানানো কাপড় ব্যবহারে উৎপাদন হয়ে থাকে। বৈশ্বিক চাহিদা এখন সে রকম। কৃত্রিম তন্তুর পোশাকের কিন্তু বিভিন্ন ধরন আছে। আমাদের ধারণা, পলিয়েস্টারের পোশাক গরম হয়। ব্যাপারটা এখন আর সে রকম নেই। অনেক আরামদায়ক। বিছানার পোশাক এখন পলিয়েস্টারের হলেও সেগুলো আরামদায়ক উপায়ে তৈরি করা হয়। প্রযুক্তির কারণে পরিস্থিতি বদলেছে। খেলোয়াড়রা ঘণ্টার পর ঘণ্টা এ ধরনের জার্সি গায়ে দৌড়ান। গরম অনুভূত হয় না। টেকসই, ঔজ্জ্বল্য ও ফ্যাশনের কারণে বিশ্ববাজারের ট্রেন্ড সেদিকেই। তাই চাহিদা অনুযায়ী এমন পোশাক সরবরাহ করতে হবে। অন্যদিকে বাণিজ্যিক লাভজনক হওয়ার বিষয়টি নির্ভর করছে ব্যবস্থাপনার ওপর। সেটা সব ধরনের পণ্যের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।

সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আবু হেনা মুহিব

মন্তব্য করুন