সমকাল :কৃত্রিম তন্তুর যুগে এখনও দেশে সাধারণ মানের বস্ত্র উৎপাদন হচ্ছে। কৃত্রিম তন্তু ব্যবহার করে উৎপাদনে যেতে সমস্যা কোথায়?

মোহাম্মদ আলী খোকন : কৃত্রিম তন্তুর ক্ষেত্রে শুল্ক্ক ও অশুল্ক্ক উভয় বাধা রয়েছে। ম্যানমেইডের কিছু কিছু কাঁচামাল আমদানিতে ৫ শতাংশ শুল্ক্ক আছে। এ কাঁচামালে উৎপাদিত সুতার ওপর আবার ১৫ শতাংশ ভ্যাট আছে। এ কারণে এমন সুতা ব্যবহার করে বানানো তৈরি পোশাক রপ্তানি শেষ পর্যন্ত লাভজনক থাকে না। মূলত এ কারণেই কৃত্রিম তন্তু উৎপাদনে বিনিয়োগে উৎসাহিত হচ্ছেন না কেউ। তবে ব্যাপক চাহিদার কারণে সম্প্রতি অবশ্য কিছু আগ্রহ তৈরি হয়েছে। অনেকে বিনিয়োগ করছেন। কেউ কেউ পরিকল্পনা করছেন। আমাদের মোট উৎপাদনের অন্তত ২০ শতাংশ এখন কৃত্রিম তন্তুর।

সমকাল :কৃত্রিম তন্তুর বস্ত্র উৎপাদনে বিশেষ প্রযুক্তিগত কৌশল ও বিনিয়োগ প্রয়োজন। এগুলোও কি বাধা তৈরি করছে?

মোহাম্মদ আলী খোকন :এ রকম ভাবনার সুযোগ আছে। তবে বাস্তবতা ভিন্ন। বিশ্বের সর্বাধুনিক প্রযুক্তির মেশিনারিজ দিয়ে আমাদের অনেক কারখানা সাজানো হয়েছে। তৈরি পোশাক কারখানার মতো সবুজ প্রযুক্তির লিড সার্টিফায়েড কারখানার সংখ্যা বস্ত্র খাতেও বেশি। যে কোনো মানের যে কোনো ধরনের বস্ত্র উৎপাদনের সক্ষমতা আছে আমাদের উদ্যোক্তাদের। তবে ওই যে বললাম, ভ্যাট। অতিরিক্ত ভ্যাটের কারণে উৎপাদন আর লাভজনক হয় না। ভ্যাট প্রত্যাহার করা হলে কৃত্রিম তন্তুর যুগে আমরাও সমানতালে লড়ে যাওয়ার সক্ষমতা রাখি। সহজে ব্যবসা করার পথ সহজ করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আন্তরিক নির্দেশনা মাঠ পর্যায়ের সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে পাওয়া যায় না। আবার মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানিতে শুল্ক্ক ১ শতাংশ। অথচ ওই যন্ত্রের পার্স আমদানিতে অস্বাভাবিক বেশি শুল্ক্ক দিতে হয়। একটা জেনারেটর প্লাগ আমদানিতে শুল্ক্ক ১০০ শতাংশ। সর্বোচ্চ ১০৪ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক্ক আরোপ রয়েছে কোনো কোনো যন্ত্রাংশে। এ রকম কিছু নীতি বিনিয়োগের জন্য মোটেই সহায়ক নয়।

সমকাল :বস্ত্র খাতে এ মুহূর্তে আর কী সমস্যা আছে?

মোহাম্মদ আলী খোকন :বস্ত্র খাতে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এখন বড় সমস্যা হচ্ছে গ্যাস। চলতি বছরের ৩১ মার্চের পর অর্থনৈতিক অঞ্চলের (ইপিজেড) বাইরে আর কোনো কারখানার ক্যাপটিভে গ্যাস সংযোগ দেওয়া হবে না। তবে আগে থেকে আবেদন করা কারখানা সংযোগ পাবে। অনেক কারখানা এখনও গ্যাস সংযোগের অভাবে উৎপাদনে যেতে পারছে না। অন্তত ৫০ শতাংশ কারখানা এ অনিশ্চয়তার মধ্যে আছে। এ ছাড়া অনেক কারখানায় পর্যাপ্ত চাপ থাকে না গ্যাসের।

সমকাল :করোনা বস্ত্র খাতের জন্য কিছুটা আশীর্বাদ হিসেবে কাজে লেগেছে। উৎপাদন বেড়েছে। মজুদ সুতা ও কাপড় বিক্রি শেষ। এ বিষয়ে জানতে চাই।

মোহাম্মদ আলী খোকন :ব্যাপারটা হচ্ছে, বস্ত্র খাতে সুতা-কাপড় আমদানিতে কঠিন প্রতিযোগিতা সব সময় ছিল ও আছে। তবে বৈধ পথে যতটা আসে, অবৈধ আমদানি তার চেয়ে কম নয়। করোনার কারণে সব ধরনের আমদানি বা চোরাচালান বন্ধ হয়ে যায়। ফলে বিদেশি কোনো সুতা-কাপড় দেশে আসেনি। এ পরিস্থিতির পুরোপুরি সদ্ব্যবহার করেছে মিলগুলো।

সমকাল :বস্ত্র খাতে ভারত আগে থেকেই শক্তিশালী। দেশটি এ খাতে সাত শিল্পপার্ক গড়ে তুলছে। সরকারিভাবে নানা সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশের বস্ত্র খাত এতে কতটা চাপে পড়বে?

মোহাম্মদ আলী খোকন :ভারতের নিজস্ব বিনিয়োগ বাড়ানো নিয়ে মাথাব্যথার কোনো কারণ নেই। কারণ, প্রতিযোগী দেশগুলো তাদের রপ্তানি পণ্যে আগে থেকে ভর্তুকি দিয়ে আসছে। এতে আমাদের ব্যবসা শেষ হয়ে যায়নি। কারণ, আমাদের পণ্য নিজস্ব, মানসম্পন্ন, ব্যয় ও সময়সাশ্রয়ী। এ ছাড়া আমাদেরও ১০০ ইপিজেড আছে বিনিয়োগ করার মতো। সেখানে আরও বেশি বিনিয়োগের সুযোগ আছে। আমরা সরকারের কাছে বিনিয়োগ সহায়ক সেবার নিশ্চয়তা চাই। তাহলে আমাদের সৃজনশীল উদ্যোক্তা এবং উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে শিল্পকে এগিয়ে নিতে কোনো সমস্যা হবে না।

সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আবু হেনা মুহিব

মন্তব্য করুন