সমকাল :হালকা প্রকৌশল খাতের উন্নয়নে এসএমই ফাউন্ডেশনের ভূমিকা জানতে চাই। আগামী দিনের পরিকল্পনা নিয়ে বলুন।

মফিজুর রহমান :হালকা প্রকৌশল খাতে প্রযুক্তি উন্নয়ন বড় চ্যালেঞ্জ। প্রযুক্তি উন্নয়ন ও হস্তান্তরের কাজ করছে এসএমই ফাউন্ডেশন। আধুনিক প্রযুক্তির যন্ত্রাংশ তৈরির জন্য উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। করোনাকালে এসএমই উদ্যোক্তাদের এগিয়ে যেতে প্রণোদনার ঋণ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। ২০১৩ সালে সারাদেশে বিভিন্ন খাতের পণ্য উৎপাদনভিত্তিক ১৭৭টি এসএমই ক্লাস্টার চিহ্নিত করে এসএমই ফাউন্ডেশন। এর মধ্যে ৩১টি ক্লাস্টারে হালকা প্রকৌশল পণ্য তৈরি হচ্ছে। গত বছর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হালকা প্রকৌশলকে বর্ষপণ্য ঘোষণা করেন। চলতি অর্থবছরের বাজেট পাশের আগে হালকা প্রকৌশল খাতে কর, ভ্যাট ও শুল্ক্ক সুবিধা দেওয়ার জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে প্রস্তাব করে ফাউন্ডেশন। এর পরিপ্রেক্ষিতে এবার ১০ বছরের কর অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ভ্যাট মওকুফ করা হয়েছে। বিভিন্ন কাঁচামাল ও কারখানার যন্ত্রপাতি আমদানিতে শুল্ক্ক সুবিধা দেওয়া হয়েছে।

সমকাল :উদ্যোক্তারা নানা নীতি সহায়তার দাবি জানিয়ে আসছেন। এ বিষয়ে অগ্রগতি কতদূর?

মফিজুর রহমান :হালকা প্রকৌশল শিল্পের জন্য আলাদা নীতিমালা নেই। শিল্প মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। আলাদা নীতিমালা তৈরি হচ্ছে। উদ্যোক্তাদের এবং বিভিন্ন সংস্থার মতামত নেওয়া হয়েছে। নীতিমালার খসড়া প্রায় চূড়ান্ত করা হয়েছে। শিগগিরই নীতিমালা পাবেন উদ্যোক্তারা। বিশাল সম্ভাবনার এ খাতে নানা সুবিধা দিতেই নীতিমালা করা হচ্ছে, যাতে আমদানির বিকল্প পণ্য দেশে তৈরি সম্ভব হয়। রপ্তানি ও কর্মসংস্থানের জন্য সহায়ক হবে এ নীতিমালা। নীতিমালায় উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে উন্নয়নসহ নানা বিষয়ে সহযোগিতার দিকনির্দেশনা আসবে।

সমকাল :পরিকল্পিত শিল্পনগরী চান উদ্যোক্তারা। এ বিষয়ে ফাউন্ডেশন কী উদ্যোগ নিয়েছে?

মফিজুর রহমান :সারাদেশের উদ্যোক্তাদের প্রায় ৪০ হাজার কারখানা রয়েছে। এর বেশিরভাই ক্ষুদ্র প্রতিষ্ঠান। এসব উদ্যোক্তার বিভিন্ন এলাকায় ক্লাস্টারভিত্তিক যন্ত্রাংশ উৎপাদনে রয়েছে। এমন এক বা একাধিক ক্লাস্টার একটি শিল্পনগরীতে নিয়ে যেতে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনকে প্রস্তাব দিয়েছি আমরা।

সমকাল :আপনি এসএমই ফাউন্ডেশনের আগে বিটাকের শীর্ষ কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করেছেন। এ খাতের জন্য বিটাক কতটা ভূমিকা রাখতে পারে?

মফিজুর রহমান :প্রশিক্ষণ, আমদানি বিকল্প যন্ত্র তৈরি, গবেষণা ও উন্নয়ন এবং উদ্ভাবন নিয়ে কাজ করছে বিটাক। এ সংস্থার ঢাকাসহ পাঁচটি কেন্দ্র রয়েছে। ঢাকার বাইরে আরও ছয়টি কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ রয়েছে। এগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। বিশেষ করে মিরসরাই বঙ্গবন্ধু শিল্পনগরীতে একটি কেন্দ্র করা উচিত।

সমকাল :বাজেটে দেওয়া কর সুবিধার শর্ত মেনে কতটুকু সুবিধা নিতে পারবেন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা?

মফিজুর রহমান :শর্ত না দিলে তার অপব্যবহার হতে পারে। উদ্যোক্তাদের স্বার্থেই নির্দিষ্ট একটা নিয়মের মধ্যে দিয়ে সুবিধা দেওয়া হয়েছে। শর্ত পূরণ করেই ব্যবসা করতে হবে। তা না হলে কারখানা কমপ্লায়েন্স হবে না। কমপ্লায়েন্স না হলে রপ্তানিতে পিছিয়ে যাবে। বিদেশি বড় কোম্পানিতে যন্ত্রাংশ দিতে হলে কারখানাগুলোকে মানসম্মত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে এগিয়ে যেতে হবে।

সমকাল :অর্থ সংকটে আছেন উদ্যোক্তারা। এ ক্ষেত্রে আপনার পরামর্শ কী?

মফিজুর রহমান :সরকার করোনাকালে এসএমই খাতে ২০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনার ঋণ সুবিধা দিয়েছে। ঋণের অর্থ হালকা প্রকৌশল খাতের উদ্যোক্তারাও পেয়েছেন। তবে এটি স্থায়ী সমাধান নয়। এ খাতের উদ্যোক্তাদের জন্য দীর্ঘ মেয়াদে সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা দেওয়া উচিত। অন্য সব খাতের চেয়ে হালকা প্রকৌশল খাতের মূল্য সংযোজনের সুযোগ বেশি। কিছু ক্ষেত্রে ১৫ থেকে ২০ গুণ মূল্য সংযোজন হচ্ছে। ৭ ট্রিলিয়ন ডলারের বিশ্ব বাজারে ১ শতাংশ রপ্তানির করতে পারলেও অনেক দূর এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ। এসব বিবেচনা করে আর্থিক সহযোগিতা বাড়ানো প্রয়োজন। এ খাতের প্রসার হলে কর্মসংস্থান অনেক বেশি বাড়বে।

সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মিরাজ শামস

মন্তব্য করুন