সমকাল :দেশে প্রচুর শিক্ষিত বেকার রয়েছেন। অন্যদিকে উদ্যোক্তারা বলছেন তারা দক্ষ কর্মী পাচ্ছেন না। বিদেশ থেকে কর্মী আনতে হচ্ছে। এ অবস্থায় জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (এনএসডিএ) কী পদক্ষেপ নিচ্ছে?

দুলাল কৃষ্ণ সাহা :এটা সত্য যে, আমাদের মানবসম্পদের দক্ষতার ঘাটতি রয়েছে। অন্যদিকে প্রচুর দক্ষ লোকের চাহিদা রয়েছে। অনেকে লেখাপড়া শিখেছেন, কিন্তু প্রায়োগিক দক্ষতা নেই। যে কারণে দেশে ৫ থেকে ৭ লাখ বিদেশি নাগরিক কাজ করছেন। আগামীতে আরও বাড়বে। কারণ, অর্থনৈতিক অঞ্চল, হাইটেক পার্ক, পরিবেশবান্ধব কারখানাসহ নানা ক্ষেত্রে ব্যাপক লোকবলের চাহিদা সৃষ্টি হচ্ছে। কিন্তু যে ধরনের দক্ষ লোকবল সরকার, বেসরকারি ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান চাইছে, সে ধরনের লোকবল তৈরি হচ্ছে না। এ পরিপ্রেক্ষিতে এনএসডিএ খাতভিত্তিক দক্ষ জনবল তৈরির ব্যাপক কর্মযজ্ঞ হাতে নিয়েছে।

সমকাল :এতদিন তাহলে বাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ জনবল তৈরি সম্ভব হয়নি কেন?

দুলাল কৃষ্ণ সাহা :একদম হয়নি তা বলা ঠিক হবে না। তবে প্রশিক্ষণদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো যে সিলেবাসে প্রশিক্ষণ দিয়েছে, তা সময়োপযোগী নয়। বর্তমানে নিয়মিত নতুন নতুন চাহিদা তৈরি হচ্ছে। ফলে প্রশিক্ষণের পুরোনো কারিকুলাম এখন আর উপযুক্ত নয়। এনএসডিএ ২০১৯ সালে যাত্রা করে। এরপর থেকে নতুন ধরনের চাহিদা অনুযায়ী কারিকুলাম বা সিলেবাস সাজানো হয়েছে। কোন কোন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে, তা নির্ধারণের জন্য ইন্ডাস্ট্রি স্কিল কাউন্সিল গঠন করা হয়েছে। এজন্য আলাদা নীতিমালা ও কর্মপরিকল্পনা করা হয়েছে, যা চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। এ নীতিমালা অনুমোদন হলেই নতুনভাবে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হবে। যদিও ইতোমধ্যে কিছু বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

সমকাল :আপনাদের আওতায় কারা প্রশিক্ষণ দিতে ও নিতে পারবে?

দুলাল কৃষ্ণ সাহা :বর্তমানে দেশে যেসব প্রতিষ্ঠান দক্ষতা উন্নয়নের প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে, তারাই নতুন কারিকুলামে প্রশিক্ষণ দিতে পারবে। এজন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে এনএসডিএতে আবেদন করতে হবে। তবে এক্ষেত্রে প্রশিক্ষণদাতা প্রতিষ্ঠান শুধু প্রশিক্ষণ দেবে। প্রশিক্ষণ গ্রহণকারীর মূল্যায়ন ও সনদ দেবে এনএসডিএ। কারণ, কর্তৃপক্ষ চায়, প্রশিক্ষণার্থীরা যেন কিছু শিখে সনদ পান। আর যে কেউ তাদের যোগ্যতা অনুযায়ী প্রশিক্ষণে অংশ নিতে পারবেন।

সমকাল :প্রশিক্ষণ নেওয়ার জন্য প্রার্থীর কী কী যোগ্যতা লাগবে ?

দুলাল কৃষ্ণ সাহা :বিভিন্ন পর্যায়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। একেক ধরনের যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তি একেক ধরনের প্রশিক্ষণ নিতে পারবেন। যিনি একদম লেখাপড়া জানেন না বা কম জানেন কিন্তু বিশেষ দক্ষতা রয়েছে, তিনিও দক্ষতার সনদ পাবেন। সেজন্য এ ধরনের কমপক্ষে ১০ জনকে আবেদন করতে হবে। এরপর তাদের দক্ষতার মূল্যায়ন করে সনদ দেওয়া হবে। সরকারের পক্ষ থেকে এ ধরনের সনদের গ্রহণযোগ্যতা বিষয়ে নির্দেশনা জারি করা হবে। আর মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক, মাদ্রাসা, কারিগরি ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের শিক্ষার্থীরা এক থেকে ছয় লেভেলের প্রশিক্ষণ নিতে পারবেন। সপ্তম থেকে দশম লেভেলের প্রশিক্ষণ নিতে পারবেন স্নাতক বা তদূর্ধ্ব পর্যায়ের উচ্চ শিক্ষিতরা। প্রথম লেভেলের প্রশিক্ষণ হবে ৩৬০ ঘণ্টা। বাকি প্রশিক্ষণ হবে ২৬০ ঘণ্টার।

সমকাল :নতুন কারিকুলামে কোন কোন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে ?

দুলাল কৃষ্ণ সাহা :এতদিন প্রশিক্ষণ হয়েছে সরবরাহভিত্তিক। অর্থাৎ নির্দিষ্ট বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়েছে প্রতিষ্ঠানগুলো। এখন প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে চাহিদাভিত্তিক। মানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান যে বিষয়ে দক্ষ লোক চাইবে অথবা প্রশিক্ষণার্থীরা যে বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিতে চাইবেন, সে অনুযায়ী পড়ানো হবে। যেক্ষেত্রে প্রায়োগিক কাজ থাকবে, সেক্ষেত্রে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি খাতের কারখানায় হাতেকলমে প্রশিক্ষণের সুযোগ দেওয়া হবে। এক্ষেত্রে কারখানাগুলোর যদি কোনো ধরনের ক্ষতিপূরণ দিতে হয়, তা এনএসডিএর পক্ষ থেকে দেওয়া হবে।

সমকাল :তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বিশেষ কোনো প্রশিক্ষণ আছে কিনা ?

দুলাল কৃষ্ণ সাহা :ফ্রিল্যান্সিং বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে ৫৯ জন প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। এ বিষয়ে ৩৫টি স্ট্যান্ডার্ড তৈরি করা হয়েছে।

সমকাল :বর্তমানে সারাদেশে প্রশিক্ষণ দেওয়ার উপযুক্ত কত প্রতিষ্ঠান আছে ?

দুলাল কৃষ্ণ সাহা :২২৭টি প্রতিষ্ঠান নিবন্ধন নিয়েছে। আরও প্রায় ৭০টি প্রতিষ্ঠানের আবেদন প্রক্রিয়াধীন। এনএসডিএর একটি বিশেষ ওয়েব পোর্টাল তৈরি করা হচ্ছে। যেখানে কারা কী বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে, কারা প্রশিক্ষণ নিচ্ছে, শিল্পপ্রতিষ্ঠান কী চাচ্ছে- এসব তথ্য থাকবে।

সমকাল :প্রবাসী কর্মীদের জন্য বিশেষ কোনো উদ্যোগ আছে কিনা?

দুলাল কৃষ্ণ সাহা :বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যৌথভাবে কাজের

উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মালয়েশিয়া ও কোরিয়ার সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। কোরিয়া বাংলাদেশে বিউটিফিকেশন বিষয়ে একটি ইনস্টিটিউশন করবে। এখান থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে দেশে-বিদেশে কাজ করতে পারবেন।

সমকাল :বিশেষ কোনো উদ্যোগ আছে আপনাদের?

দুলাল কৃষ্ণ সাহা :ভাষাবিষয়ক দক্ষতা উন্নয়ন এবং ড্রাইভিং বিষয়ে প্রশিক্ষণ চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

সাক্ষাৎকার নিয়েছেন শেখ আবদুল্লাহ

মন্তব্য করুন