ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ব্যবহারে ভালো মানের রাউটার খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বাজারে রয়েছে নানা ব্র্যান্ডের বিভিন্ন মডেলের তারবিহীন রাউটার। কাজ আর গুরুত্ব বিবেচনায় আপনার কোন রাউটারটি প্রয়োজন। লিখেছেন আসাদুজ্জামান



ডেস্কটপ, ল্যাপটপ, মোবাইল ফোনে ইন্টারনেটের ব্যবহার ছাপিয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় হাজারো ডিভাইস সংযুক্ত থাকছে তারবিহীন ইন্টারনেটের মাধ্যমে। ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযুক্তির জন্য প্রয়োজন হয় ওয়াইফাই রাউটার। গতিময় ইন্টারনেট নিশ্চিত করতে সঠিক ফ্রিকোয়েন্সির রাউটার নির্বাচন জরুরি। প্রয়োজন ও বাজেট সীমার মধ্যে একটি ভালোমানের রাউটার নেটওয়ার্ক তৈরি কাজের ক্ষেত্রে আপনাকে দেবে স্বাচ্ছন্দ্য। বাজারে রয়েছে নানা দামের, নানা মানের রাউটার। কিন্তু কার কেমন রাউটার প্রয়োজন তা জানা জরুরি।

করোনা মহামারিতে ইন্টারনেটের ব্যবহার বেড়েছে। ক্লাস, অফিস, মিটিং থেকে শুরু করে দূরে থাকা প্রিয়জনদের সঙ্গে কথোপকথন সবই হচ্ছে ইন্টারনেটে। ফলে আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে বর্তমানে রাউটারের ব্যবহার ও চাহিদা বেড়েছে। নেটওয়ার্কিংয়ের জন্য নতুন রাউটার কেনার আগে এটি কতটুকু স্থানে সাপোর্ট দেবে, কতটি ক্লায়েন্ট থাকবে, কতগুলো ডিভাইসের সঙ্গে আপনি যুক্ত হবেন, তা বিবেচনায় রাখুন। সেরা মডেলের সবচেয়ে দামি রাউটার নিতে হবে এমন কোনো কথা নেই। কেননা সবার একই ক্ষমতার ও ফিচারের রাউটার প্রয়োজন হয় না। এ জন্য প্রয়োজন ও বাজেটের কথা মাথায় রেখে রাউটার নির্বাচন করতে হবে, যাতে স্বাভাবিক কাজ ব্যাহত না হয়। পরিবারের অধিক সদস্য ও বহুমুখী ব্যবহারকারী থাকলে এবং লাইভ স্ট্রিম প্ল্যাটফর্ম, ভিডিও স্ট্রিমিংসহ অনলাইনে গেম খেলায় অভ্যস্ত হলে সর্বাধিক ফিচারের একটি নতুন রাউটার আপনাকে নতুন একটি জগতে নিয়ে যাবে।

কত ব্যান্ডের রাউটার

সিঙ্গেল, ডুয়েল এবং ট্রাই ব্যান্ড অনুযায়ী নেটওয়ার্ক পাওয়া যায়। সিঙ্গেল ব্যান্ডের রাউটারের ব্যবহার ধীরে ধীরে কমে আসছে। এতে ২.৪ গিগাহার্টজের নেটওয়ার্ক থাকে। ডুয়েল ব্যান্ডে ২.৪ গিগাহার্টজের পাশাপাশি ৫ গিগাহার্টজের নেটওয়ার্ক থাকে। এটি উচ্চগতিতে তথ্য আদান-প্রদান করলেও দেয়াল বা কাঠামো অতিক্রম করতে করতে দুর্বল হয়ে যায়। তাই ২.৪ ও ৫ গিগাহার্টজের নেটওয়ার্কসম্পন্ন ট্রাই-ব্যান্ডের রাউটার উচ্চগতির এবং তুলনামূলক কম গতির ডিভাইসে স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা বজায় রাখে। অধিক ডিভাইস ও ক্লায়েন্টের ব্যবহারের জন্য ট্রাই-ব্যান্ড রাউটার নিতে পারেন। তবে অফিস কিংবা বাসায় সাধারণ কাজের জন্য ডুয়েল ব্যান্ডই যথেষ্ট। ওয়াইফাই নেটওয়ার্কিংয়ের জন্য আপনাকে প্রয়োজন অনুযায়ী ফ্রিকোয়েন্সির রাউটার বেছে নিতে হবে। যে কোনো রাউটারই ২টি রেডিও ব্যান্ড, ২.৪ গিগাহার্টজ এবং ৫ গিগাহার্টজের ব্যান্ড সরবরাহ করে থাকে। বর্তমান সময়ে জনপ্রিয় ৫ গিগাহার্টজের ব্যান্ড ২.৪ গিগাহার্জের চেয়ে বেশি ফ্রিকোয়েন্সিতে কাজ করে। এটি অধিক রেঞ্জ কভার করতে সক্ষম এবং দেয়াল ও কাঠামোর ক্ষেত্রে অধিক পারদর্শী। এ ছাড়া এটি ফ্যাট পাইপ ও উচ্চগতির জন্য অধিক কার্যকর। অন্যদিকে সিঙ্গেল ও ২.৪ গিগাহার্টজ ব্যান্ড, একই ফ্রিকোয়েন্সির মাইক্রোওয়েভ ওভেন, ওয়্যারলেস ফোন ও ব্লুটুথ ডিভাইসগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতার সম্মুখীন হয়। তবে ওয়েব সার্ফি, ফেসবুক ও টুইটারের মতো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ক্ষেত্রে এটি স্বাভাবিকভাবেই কাজ করে। তবে একাধিক ডিভাইসে নেটফ্লিক্সে, প্রাইম ভিডিও, হৈচৈর মতো ভিডিও স্ট্রিমিং পরিষেবা অথবা এক্সবক্সের মতো লাইভ অনলাইন গেমিংয়ের জন্য ৫ গিগাহার্টজের ব্যান্ড নূ্যনতম সংকেতে অসাধারণ অভিজ্ঞতা পেতে সক্ষম হবেন। অধিকাংশ ডুয়াল-ব্যান্ড রাউটার আপনাকে নির্দিষ্ট অ্যাপ্লিকেশন এবং ক্লায়েন্ট বরাদ্দ করতে দেয়, ফলে উভয় ব্যান্ডেরই লোড নিতে পারে। তবে ব্যস্ত নেটওয়ার্ক ও অধিক ব্যবহারকারী ব্যান্ডউইডথের ক্ষেত্রে ট্রাই-ব্যান্ড নেটওয়ার্ক স্বাভাবিক গতি দেবে। এটি তিনটি রেডিও ফ্রিকোয়েন্সির মাধ্যমে ২.৪ ও ৫ মেগাহার্টজে পরিচালিত হয় এবং লোডে সামঞ্জস্য আনে।

আপনি যদি বাসা এবং বাসার বাইরে বসে রাউটার কন্ট্রোল করতে চান তাহলে ক্লাউড সাপোর্টেড রাউটার নিন। যারা বেশি ও বড় ফাইল নিয়মিত ডাউনলোড করেন তারা ডাউনলোড সহায়ক ফিচারসমৃদ্ধ রাউটার বেছে নিন। এ ছাড়া বাসা বা অফিসে অধিক কাভারেজের জন্য ২-৮ এন্টেনাযুক্ত শক্তিশালী রাউটার ব্যবহার করেন। অনেকে ওয়্যারলেস রিপিটার হিসেবে একাধিক রাউটারও ব্যবহার করেন।

ওয়্যারলেস প্রটোকল

ডাটা গ্রহণ ও প্রেরণের জন্য ওয়্যারলেস ইথারনেট নেটওয়ার্ক ৮০২.১১ প্রটোকল ব্যবহার করে। সর্বাধিক জনপ্রিয় এই প্রটোকল ২.৪ গিগাহার্জ এবং ৫ গিগাহার্টজের ব্যান্ড পরিচালনার সঙ্গে সঙ্গে সর্বোচ্চ ৫৪০০ এমবিপিএস গতির দেয়। মাল্টিপল ইনপুট ও মাল্টিপল আউটপুর (এমআইএমও) প্রযুক্তির রাউটার পারফরম্যান্স বাড়ানোর জন্য একাধিক এন্টেনা ব্যবহার করা হয়। এ প্রযুক্তি সরাসরি ওয়াইফাই সিগন্যাল ক্লায়েন্টের কাছে পৌঁছায় এবং এর স্বয়ংক্রিয় ব্যান্ড শেয়ারিং রাউটারকে নেটওয়ার্ক ট্রাফিক, ব্র্যান্ড উপস্থিতি ও রেঞ্জ নির্বাচন করতে সাহায্য করে।

যা জানা জরুরি

রাউটারের ওয়াইফাই সক্রিয় করতে নেটওয়ার্ক, নাম ও শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করুন। ব্যবহারের আগে নির্দেশিকা পড়ূন। প্রয়োজনে নেটওয়ার্ক ও পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করুন। রাউটারের পাসওয়ার্ড ভুলে গেলে রিসেট করুন। রাউটার যথাসম্ভব উন্মুক্ত স্থানে রাখুন। স্থান, এরিয়া নেটওয়ার্ক ও অধিকসংখ্যক ল্যান সংযোগ করতে হলে সে অনুসারে রাউটার কিনুন। দিনে অন্তত একবার হলেও রাউটার অন-অফ করুন। রাউটারের যত্ন নিন।

দামদর

রাউটারের দাম, রাউটারের পারফরম্যান্স ও বৈশিষ্ট্যের ওপর নির্ভরশীল। একটি সাধারণ বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন রাউটার এক হাজার থেকে তিন হাজার টাকার মধ্যেই কেনা যাবে। যদি এমইউ-এমআইএমও স্ট্রিমিং সক্ষমতার এসি ২৪০০ রাউটার কিনতে চান তাহলে ৭ থেকে ১৫ হাজার টাকা গুনতে হবে। ট্রাই-ব্যান্ড এসি ৫৩০০ গেমিং রাউটারের জন্য ধরনভেদে প্রয়োজন ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা। আসুস আরওজি র‌্যাপচার, এএক্স১১০০০ নেক্স জেনারেশন, টিপিলিংক আর্চার, নেটগিয়ারসহ হালের জনপ্রিয় ও বাজেটের রাউটার পাওয়া যাবে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে আইডিবি ভবন, বসুন্ধরায় যমুনা ফিউচার পার্ক, এলিফ্যান্ট রোড মাল্টিপ্লান সেন্টার, বসুন্ধরা সিটি শপিংমল, হাতিরপুলের ইস্টার্ন প্লাজা ও মোতালিব প্লাজার বিভিন্ন শোরুম ও দোকানে। অনলাইনেও ছবি ও রিভিও দেখে পছন্দমতো অর্ডার করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে দারাজ, ইভ্যালিসহ নানা অনলাইন শপের সাহায্য নিতে পারেন। এ ছাড়া আমাজন, আলীবাবার মতো বিশ্বখ্যাত অনলাইন শপেও পাবেন পছন্দের রাউটার।

মন্তব্য করুন