করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে বিশ্বের পাশাপাশি দেশেও ই-কমার্সভিত্তিক কেনাকাটা বেড়েছে। অনলাইন কেনাকাটায় ক্রেতা আস্থা বৃদ্ধিতে 'নেক্সট ডে ডেলিভারি' শীর্ষক নতুন সেবা চালু করেছে দেশের অন্যতম ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান প্রিয়শপ ডটকম। অনলাইন কেনাকাটা এবং প্রিয়শপ নিয়ে কথা বলেছেন এ প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী (সিইও) আশিকুল আলম খান। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন হাসান জাকির

-করোনার প্রাদুর্ভাবে বিশ্বজুড়ে ই-কমার্সের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশেও ই-কমার্সে নির্ভরতা বাড়ছে।

--বিশ্বব্যাপী অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে করোনাভাইরাস। বিশেষ করে মানুষ এখন শপিংমল বা দোকানে গিয়ে কেনাকাটার বিষয়ে সতর্ক। নিরাপদ ও স্বচ্ছন্দে থাকার জন্য মানুষ ঘরে বসে অনলাইনে পণ্য কেনাকাটায় ঝুঁকছেন। আর যেহেতু ইন্টারনেট সহজলভ্য, হাতে হাতে এখন স্মার্ট ডিভাইস, তাই দেশে স্বাভাবিকভাবেই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে অনলাইনে কেনাকাটা। আমরা দেখেছি, গত বছরের মার্চে যখন দেশে করোনার সংক্রমণ শুরু হলো, তখন থেকে মানুষ ই-কমার্সের দিকে ঝুঁকেছে তাদের দৈনন্দিন কেনাকাটার জন্য। দেশজুড়ে এখন অনলাইন ক্রেতার সংখ্যা প্রতিদিন পাল্লা দিয়ে বাড়ছে।

-কিন্তু দেশের ই-কমার্স নিয়ে সময়মতো পণ্য ডেলিভারি না পাওয়ার বিস্তর অভিযোগ আছে।

--ই-কমার্সে কেনাকাটায় দেরিতে ডেলিভারির অভিযোগ অস্বীকার করা যাবে না। দেশে ই-কমার্সের পণ্য সঠিক সময়ে ডেলিভারি দিতে এখনও পুরোপুরি অবকাঠামো প্রস্তুত নয়। কিন্তু এর মধ্যেই আমরা কাজ করে যাচ্ছি যেন সঠিক সময়ে গ্রাহকের হাতে পণ্য পৌঁছে দিতে পারি। আর এ কাজে আমরা নিজস্ব ডেলিভারি কর্মী নিয়োগ করেছি। পাশাপাশি এ খাতের সবাইকে নিয়ে আমরা কাজ করছি ভালো একটা অবকাঠামো নির্মাণে। প্রিয়শপ শুরু থেকেই নিজেদের একটা প্ল্যাটফর্ম তৈরিতে কাজ করছে। আমরা সেই চেষ্টা থেকে দেশব্যাপী পণ্য পৌঁছানোর জন্য হাবও তৈরি করেছি। সেদিক থেকে আমরা অনেকাংশে সফল।

-প্রিয়শপ 'নেক্সট ডে ডেলিভারি' নামে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে। বিস্তারিত বলবেন?

--অনেক ই-কমার্স আছে, যেখানে পণ্য অর্ডার দেওয়ার পর দীর্ঘদিন পর্যন্ত তা পেতে ক্রেতাদের অপেক্ষা করতে হয়। আমরা চাই আমাদের ক্রেতারা অর্ডার করার পরদিনেই যেন তাদের পণ্য হাতে পান। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রিয়শপ নিয়ে এসেছে 'নেক্সট ডে ডেলিভারি'। আমরা এ সেবার মাধ্যমে চেষ্টা করছি, কোনো ক্রেতা আজ কোনো পণ্য অর্ডার করলে যেন আগামীকালের মধ্যেই তা হাতে পান। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, গ্রোসারি ও জরুরি ওষুধ যারা কেনাকাটা করবেন, তাদের জন্য এ সার্ভিসটি আনা হয়েছে।

-নেক্সট ডে ডেলিভারিতে সাড়া কেমন পাচ্ছেন?

--আমরা দারুণ সাড়া পাচ্ছি। এ পদ্ধতিতে ক্রেতারা খুশি। কেননা, অর্ডার করার পর ক্রেতাকে অপেক্ষা করতে হচ্ছে না। অর্ডারকৃত নিত্যপণ্যটি আমরা কম সময়ে পৌঁছে দিচ্ছি। গ্রাহকও ঠিক সময়ে পণ্য পেয়ে উচ্ছ্বসিত। প্রিয়শপ ডটকম ৯৭ দশমিক ২৩ শতাংশ ক্ষেত্রে পরদিনই পণ্য ডেলিভারি দিতে সক্ষম হচ্ছে। ১ দশমিক ৫৪ শতাংশ ক্ষেত্রে গ্রাহক তাদের ডেলিভারির সময় বদলে নিয়েছেন। মাত্র ১ দশমিক ২৩ শতাংশ ক্ষেত্রে ডেলিভারি দেওয়া যায়নি।

-ই-কমার্সে কেনাকাটায় মূল্য পরিশোধে কোন পদ্ধতিটি এখন বেশি সুবিধাজনক মনে করছেন?

--ই-কমার্স থেকে পণ্য কেনাকাটার ক্ষেত্রে এখন মানুষ বেশি সুবিধাজনক মনে করেন অনলাইন পেমেন্টকে। আমরা কয়েক বছর থেকেই কাজ করে আসছি ই-কমার্স মানে যেন একটা পরিপূর্ণ অনলাইনভিত্তিক ব্যবস্থা হয়। অর্ডার থেকে শুরু করে ক্রেতার পণ্য হাতে পাওয়া পর্যন্ত, ধাপে ধাপে সবই যেন অনলাইনে হয়। ক্রেতারাও এখন অনলাইনে পেমেন্ট করাকে সহজ মনে করেন। বিশেষ করে এখন মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসে সহজে ও নির্ভেজালভাবে পণ্যের মূল্য পরিশোধ করা যায়।

-প্রিয়শপ সে ক্ষেত্রে কোন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে?

--প্রিয়শপ মূল্য পরিশোধে সব ধরনের সুবিধা ক্রেতাদের জন্য রেখেছে। পেমেন্ট অপশন হিসেবে আছে মোবাইল ব্যাংকিং বিকাশ, নগদ; আছে ভিসা, মাস্টার কিংবা অ্যামেক্স কার্ড, নেক্সাস পে। এমনকি ব্যাংক ডিপোজিটসহ নগদে মূল্য পরিশোধের সুবিধাও রেখেছি গ্রাহকের কথা মাথায় রেখে।

-প্রিয়শপে কী পরিমাণ পণ্য আছে এখন?

--আমাদের প্ল্যাটফর্মে হাজারেরও বেশি ব্র্যান্ড ও লক্ষাধিক পণ্য রয়েছে। জাতিসংঘের গবেষণায় ই-কমার্স খাতের আদর্শ মডেল হিসেবে প্রিয়শপ ডটকমের নাম উঠে এসেছে। ২০২০ সালে সিঙ্গাপুরে সেরা ১০ স্টার্টআপ এশিয়া, ২০১৯ সালে জাতীয় তথ্যপ্রযুক্তি পুরস্কার, ২০১৮ সালে ভারত থেকে সুপার স্টার্টআপ পুরস্কার পেয়েছি আমরা।

মন্তব্য করুন