গুগল অ্যাসিস্ট্যান্টের জাদু

প্রকাশ: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯      

তাছলিমা মেহযাবিন

ডিজিটাল দুনিয়ায় ব্যক্তিগত ভার্চুয়াল সহকারী হিসেবে গুগল অ্যাসিস্ট্যান্ট বেশ জনপ্রিয়। স্মার্ট ডিভাইসে ইন্টারনেটে সংযুক্ত থাকলে গুগল অ্যাসিস্ট্যান্টের সুবিধা নেওয়া যায়। দারুণ কাজের কাজি হিসেবে এরই মধ্যে ব্যবহারকারীদের আস্থা অর্জন করেছে গুগল অ্যাসিস্ট্যান্ট। 'ওবে গুগল' বললেই চালু হয়ে যাওয়া এ ভার্চুয়াল সহকারী ব্যবহারকারীদের প্রাত্যহিক কাজকে আরও আয়েশি ও সহজ করে দিয়েছে। ইন্টারনেটে লেখালেখির তাড়া নেই। শুধু মুখে বললেই সে খুঁজে দেয় কাঙ্ক্ষিত উত্তর। শুধু নির্দেশনা দিতে হবে ব্যস। চিকিৎসকের কাছে যাওয়া প্রয়োজন, সমস্যা নেই। গুগল অ্যাসিস্ট্যান্টকে নির্দেশনা দিলেই চিকিৎসকের অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিয়ে রাখবে সে। ইন্টারনেটে গান শোনা কিংবা কোনো নির্দিষ্ট তথ্য খুঁজে পেতে ভার্চুয়াল এ সহকারীর জুরি মেলা ভার। শুধু গানের কোনো একটা লাইন বললেই ঠিকই ইউটিউব থেকে খুঁজে তা চালিয়ে দেবে গুগল অ্যাসিস্ট্যান্ট। অনুসন্ধান ছাড়াও গুগল সহকারী এখন ব্যবহারকারীদের বিভিন্ন কাজে যেমন ঘরের লাইট চালু কিংবা বন্ধ করে দিতে পারে, ওয়াইফাই চালু ও বন্ধের কাজটিও করে দেয়। ২০১৬ সালে চালু হওয়ার পর ইন্টারনেটের ব্যবহার বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে কদর বাড়ছে গুগল অ্যাসিস্ট্যান্টের।

গুগল অ্যাসিস্ট্যান্ট বর্তমানে ইংরেজি, ফ্রেঞ্চ, জার্মানি, হিন্দি, ইন্দোনেশিয়ান, ইতালিয়ান, জাপানি, কোরিয়ান, পর্তুগিজ (ব্রাজিল), স্প্যানিশ, থাই ভাষাসহ ২৬টি ভাষা সমর্থন করে। অচিরেই আরও ভাষা যোগ হবে সেবাটিতে।

ভাষান্তর সুবিধা

গুগল অ্যাসিস্ট্যান্টের ফিচারে যুক্ত হচ্ছে নতুন পালক। সম্প্রতি গুগলের এ টুলটিতে যোগ হয়েছে ভাষান্তর সুবিধা। অর্থাৎ এক ভাষায় কথা বললে গুগল অ্যাসিস্ট্যান্ট সরাসরি আপনার কাঙ্ক্ষিত ভাষায় অনুবাদ করে দেবে। সুবিধাটি যুক্ত হওয়ায় নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে মনে করছেন প্রযুক্তি বিশ্নেষকরা। এখন বিভিন্ন দেশের পর্যটকের নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে যোগাযোগে ভাষাগত যে প্রতিবন্ধকতায় পড়তে হয়, তা অনেকটাই কেটে যাবে। কেননা ধরুন, একটি ট্যাক্সি ভাড়া করে নির্দিষ্ট গন্তব্যে যাবেন, ট্যাক্সিচালক ইংরেজি কিংবা আপনার ভাষা বোঝেন না। সমস্যা নেই। এ ক্ষেত্রে হাতে একটি ডিভাইস থাকলেই ভাষার সমস্যা মিটিয়ে দেবে গুগল অ্যাসিস্ট্যান্ট। বিশেষ করে স্বল্পশিক্ষিতদের জন্য দারুণ সহায়ক হয়ে উঠবে ভার্চুয়াল এ ভাষান্তরকারী টুলটি। তবে বাংলা ভাষীদের খানিকটা আক্ষেপ করতে পারে এভাবে যে, গুগল অ্যাসিস্ট্যান্ট এখনও বাংলা সমর্থন করে না। তবে ভাষান্তর সুবিধা পেতে গুগল অ্যাসিস্ট্যান্ট টুলটি বিল্টইন আকারে আছে এমন যে কোনো ডিভাইস প্রয়োজন হবে। এ ক্ষেত্রে গুগল হোম হতে পারে অন্যতম সহায়ক। গুগল হোম না থাকলেও সমস্যা নেই। যে কোনো স্মার্ট স্পিকার এবং ডিসপ্লে বেছে নিন যাতে গুগল অ্যাসিস্ট্যান্ট সুবিধা বিদ্যমান। অ্যাপ আকারে গুগল অ্যাসিস্ট্যান্ট পাওয়া যায় গুগল পেল্গ স্টোর অথবা আইফোনের অ্যাপ স্টোরে। এখান থেকে ডিভাইস অনুযায়ী গুগল অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যাপটি সহজে ডাউনলোড করে নিতে পারেন। এর পর আন্ড্রয়েড ও আইফোনে আলাদাভাবে ইনস্টল করতে হবে। ডাউনলোড খুব বেশি কঠিন নয়। অ্যাপ স্টোরে নির্দেশনামতো সহজেই ডাউনলোড করে নেওয়া যাবে। গুগল অ্যাসিস্ট্যান্টকে নিজের মতো ব্যবহার করার জন্য নিজের কণ্ঠস্বর সংরক্ষণ করে রাখতে পারেন। গুগল অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যাপে নিজের কণ্ঠও সহজে সংরক্ষণ করা যায়। আর ভাষান্তর সুবিধা নিতে অ্যাপটি চালু করে 'ওকে গুগল' বলতে হবে। এর পর যে ভাষায় অনুবাদ করতে চান, সেটা জানিয়ে কমান্ড দিতে হবে। যেমন ইংরেজি থেকে চায়নিজ ভাষায় ভাষান্তর করতে চাইলে 'বি মাই চায়নিজ এন্টারপ্রেটার' অথবা 'এন্টারপ্রেটার চায়নিজ' কিংবা 'হেল্প মি স্পিক চায়নিজ' বললেই কাজ শুরু করে দেবে গুগল অ্যাসিস্ট্যান্ট।

অন্যান্য