টেকলাইন

টেকলাইন


ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা দেবে ফেসবুক

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০১৯      

তাছলিমা মেহযাবিন

নারী ও শিশুদের প্রতি সহিংসতা বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব দেশের জন্য উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনলাইনে নারী ও শিশুদের হয়রানি এতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ইন্টারনেটে ভীতিকর বার্তা পাঠানো, অসম্মতিসূচক ইন্টারনেট পর্নোগ্রাফি, ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ, সম্মানহানি, ভুয়া পরিচিতি এবং অনলাইনে বিভিন্ন ধরনের আক্রমণ যা মানুষকে বিরক্ত করে এসবই অনলাইন হয়রানির অন্তর্ভুক্ত। যখন কেউ এমন সমস্যায় পড়েন, তখন অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেন।

নিরাপত্তার জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেওয়া সমস্যার সমাধান নয়। এর মাধ্যমে পছন্দের মানুষগুলো থেকে ভুক্তভোগী নিজেকে গুটিয়ে নেন, এতে সমস্যা আরও বাড়তে পারে। তাদের জন্য এটা জানা খুব গুরুত্বপূর্ণ যে, অসহনীয় অবস্থা থেকে নিজের নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে আনতে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম যেমন ফেসবুক পরামর্শক, পেশাজীবী, বন্ধু এবং পরিবারের সদস্যদের মতো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। এ ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন এমন ভুক্তভোগীদের জন্য 'ন্যাশনাল নেটওয়ার্ক টু ইন্ড ডোমেস্টিক ভায়োলেন্স'-এর সঙ্গে পার্টনারশিপের মাধ্যমে ফেসবুক গোপনীয়তা এবং নিরাপত্তার ওপর একটি তথ্যবহুল গাইড তৈরি করেছে। এটি ফেসবুকের গোপনীয়তা এবং নিরাপত্তা পরামর্শ দেবে এবং কেউ এর অপব্যবহার করে কাউকে হয়রানি, পর্যবেক্ষণ, ভয় দেখানো এবং উত্ত্যক্ত করলে কী করতে হবে সে বিষয়ে তথ্য দিয়ে সহায়তা করবে।

এতে তিন ধরনের প্রতিরোধ লাইন রয়েছে। প্রথম লাইনে ফেসবুক তার গ্রাহকদের একটি শক্তিশালী অ্যাকাউন্ট সিকিউরিটি সেটিংস এবং নোটিফিকেশন নির্বাচন করার পরামর্শ দেয়। এতে পাসওয়ার্ড নিরাপদ রাখা, অনুমোদিত নয় এমন ডিভাইস থেকে লগইনের সময় সতর্কতা, টু-ফ্যাক্টর অথেনটিফিকেশন ব্যবহার, বিশ্বস্ত কন্টাক্ট যুক্ত করা, নিরাপত্তা নজরদারিসহ বিভিন্ন বিষয় রয়েছে। কীভাবে নিরাপত্তা নজরদারি ব্যবহারকারীদের অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা দেবে তাও সেখানে পাওয়া যাবে। ব্যবহারকারীরা নিরাপত্তা সেটিংস কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করবেন তা দ্বিতীয় প্রতিরোধ লাইনে বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা আছে। ফেসবুকে কিছু শেয়ার করার আগে অবশ্যই কয়েকবার ভাবতে হবে। ব্যবহারকারীকে অবশ্যই তার দর্শক সম্পর্কে সতর্ক এবং সিলেকটিভ হতে হবে।বন্ধুরা কোনো কিছু ট্যাগ করলে রিভিউ এবং অ্যাপ্রুফ অপশনের মাধ্যমে তা নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন ব্যবহারকারী। এ ছাড়া সার্চ ইঞ্জিন, নিজের অবস্থানের গোপনীয়তাসহ বিভিন্ন বিষয়ের ধারণার মাধ্যমে নিজের অ্যাকাউন্টকে আরও নিরাপদ রাখতে পারবেন তারা। দ্বিতীয় প্রতিরোধ লাইন, ফেসবুকে শেয়ার করা পোস্ট কারা দেখছে তা পর্যবেক্ষণের জন্য প্রাইভেসি চেকআপ ব্যবহার করারও পরামর্শ দেয়। তৃতীয় নিরাপত্তা প্রতিরোধ লাইনে ব্যবহারকারীকে একটি বিশ্বস্ত কমিউনিটিকে নির্ধারণ করার পরামর্শ দেয় ফেসবুক। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যুক্ত থাকতে হলে এখানকার মানুষকে ব্যক্তিগতভাবে চেনা জরুরি। কোনো কারণে পাসওয়ার্ডের মাধ্যমে লগইন করতে না পারলে, ব্যবহারকারীকে তিন থেকে পাঁচজন বন্ধুকে নির্বাচন করে একটি বিশ্বস্ত কমিউনিটি যুক্ত করতে হবে। এ ছাড়া ফেসবুকে আরও নিরাপদ থাকতে চাইলে ব্যবহারকারীকে অবশ্যই আনফ্রেন্ডিং, ব্লগিং এবং রিপোর্টিং সম্পর্কে জানতে হবে। ফেসবুকে যে কোনো ধরনের কনটেন্ট সম্পর্কে রিপোর্ট করা যাবে। কোনো ধরনের কনটেন্ট ফেসবুকে শেয়ার করা যাবে কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ডের মাধ্যমে এর ধারণা পাওয়া যায়। ফেসবুকে কোনো বিষয়ে রিপোর্ট করা হলে গ্লোবাল টিম এটি পর্যবেক্ষণ করে এবং নীতিকে লঙ্ঘন করে এমন বিষয়গুলো মুছে ফেলে। আপনাকে কেউ হয়রানি করলে, ভয়ভীতি দেখালে অথবা আপনি অনিরাপদ মনে করলে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলতে পারেন। তদন্তের জন্য কোনো তথ্যের প্রয়োজন হলে যে কর্মকর্তার সঙ্গে এ বিষয় নিয়ে কাজ করছেন, তাকে এই লিংকটি দিতে পারেন। ভন.সব/খধঊিহভড়ৎপবসবহঃ গাইডটি সেটিংস এবং ফিচারের বিস্তারিত তথ্যের জন্য ফেসবুকের হেল্প সেন্টার ব্যবহার করার পরামর্শ দেয়। সব ফেসবুক ব্যবহারকারীর এটি পড়ে দেখা উচিত। এই গাইড প্রয়োগের মাধ্যমে সব ব্যবহারকারীই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবেন।