চীনের বিস্ময়কর এক পর্বতের নাম ফানজিংশান। গুইঝো প্রদেশে অবস্থিত এ পর্বতটি ফানজিং পর্বত নামেও পরিচিত। সম্প্রতি এটি ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায়ও যুক্ত হয়েছে।

প্রাকৃতিক গঠন এবং ইতিহাস বিজড়িত এ পর্বতটির আলাদা ধর্মীয় গুরুত্বও রয়েছে।

পুরো অঞ্চল জুড়ে শিলা গঠন এবং সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্য থাকায় এ স্থানটি প্রকৃতি প্রেমিকদের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয় একটি স্থানে পরিণত হয়েছে। 

ট্যাঙ যুগ থেকেই এ জায়গাটিকে পবিত্র স্থান বলে ধরা হয় 

চীনা শব্দ ‘ফাংজিনশান’ এর অর্থ হলো বুদ্ধের প্রশান্তি। চীনের ট্যাঙ যুগ থেকে এ জায়গাটিকে পবিত্র স্থান বলে ধরা হয়। 

১৩৬৮ থেকে ১৬৪৪ সাল পর্যন্ত মিং রাজার শাসনামলে চীনে ৪৮ টি বৌদ্ধ মন্দির নির্মাণ করা হয়েছিল। সময়ের ব্যবধানে এসব মন্দিরের সবই ধ্বংস হয়ে গেছে। তবে ‘ফাংজিনশান’ মন্দিরটি এখনও একইভাবে দাঁড়িয়ে আছে। 

বিশ্বের বিভিন্ন জায়গা থেকে পর্যটকরা এখানে শান্তি, আধ্যাত্বিক সাধনার খোঁজে আসেন।

মন্দিরে তিনটি শীর্ষ চূড়া রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে উঁচু স্বর্ণ চূড়াটি সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২ হাজার ৫৭২ মিটার ওপরে অবস্থিত। পর্বতের চূড়া থেকে গোটা স্থানটি দেখে মুগ্ধ হন পর্যটকরা। প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য আর ধর্মীয় এ উপাসনালয়ে এসে তাই অনেকেই হারিয়ে যান আধ্যাত্মিক দুনিয়ায়।

শান্তির খোঁজে অনেকেই আসেন এ পর্বতে 

গোটা এলাকা জুড়ে প্রায় ২ হাজার প্রজাতির গাছ রয়েছে। এখানে ১৯ প্রজাতির বিলুপ্তপ্রায় প্রাণীও দেখা যায়। 

ফানজিংশানে পৌঁছতে চীনের গুইঝৌ প্রদেশের একটি শহর টঙ্গরেন  থেকে একটি বাসে উঠতে হবে। বাসটিতে চড়ে বেস ক্যাম্পে পৌঁছাতে প্রায় দুই ঘন্টা সময় লাগবে। 

এখান থেকে হেঁটে ওই পর্বতের শিখরে পৌঁছতে প্রায় পাঁচ ঘন্টা সময় লাগবে। যারা সিঁড়িতে ওঠতে আগ্রহী নন, তারা কেবল কারে করে পর্বতের চূড়ায় পৌঁছতে পারেন। 

সূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া