যে জিনেদিন জিদানের কোচিংয়ে রিয়াল মাদ্রিদ টানা তিনবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতেছে, সেই একই ব্যক্তি দায়িত্বে থাকার শেষ বছরে একটিও ট্রফি পায়নি রিয়াল। দাপুটে ফুটবল খেলার মতো স্কোয়াড ছিল না বলেই এমন সাফল্যহীনতা বলে মনে করেন অধিকাংশ বিশ্নেষক-সমর্থক। স্বয়ং জিদানই পদত্যাগের পর অভিযোগ করেছেন, প্রয়োজনীয় সহযোগিতা তাকে দেওয়া হয়নি। যে দলের গভীরতা ও সামর্থ্য পর্যাপ্ত নয় বলে জিদান ছেড়ে গেলেন, সেই দলের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সাবেক কোচ কার্লো আনচেলত্তিকে। কিন্তু আগের মেয়াদে চ্যাম্পিয়ন্স লিগসহ চারটি শিরোপাজয়ী এই ইতালিয়ান একই স্কোয়াড নিয়ে রিয়ালকে কি সাফল্যের পথে ফেরাতে পারবেন?

৬১ বছর বয়সী আনচেলত্তি রিয়ালে ছিলেন ২০১৩-১৫ মেয়াদে। প্রথম মৌসুমেই জিতেছিলেন চারটি শিরোপা- চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, কোপা দেল রে, উয়েফা সুপার কাপ ও ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপ। তবে ২০১৪-১৫ মৌসুমে এর কোনোটিই জিততে পারেননি, অধরা থেকে যায় লা লিগাও। ওই সময় আনচেলত্তির বিদায় নিশ্চিত করার সময় রিয়াল প্রেসিডেন্ট ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ বলেছিলেন, 'ক্লাবের চাহিদা এখন বিশাল, শিরোপা জিততে এবং সেরা হতে আমাদের নতুন স্পন্দন দরকার।' আনচেলত্তিকে সরানোর পর রাফা বেনিতেজকে দেওয়া হয় দায়িত্ব। যদিও ছয় মাসের বেশি তিনি টিকতে পারেননি। এরপরই আসে জিদান-পর্ব। আনচেলত্তি যে সময়ে ডাগআউট সামলেছেন আর জিদান যখন টানা তিন চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতেছেন- তখন রিয়ালের স্কোয়াড প্রায় একই ছিল, বিশেষ করে আক্রমণভাগে। ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর সঙ্গে করিম বেনজেমা আর গ্যারেথ বেলরা ছিলেন গোলমুখে। কিন্তু দ্বিতীয় দফায় জিদান আর 'বিবিসি' পাননি, পাবেন না আনচেলত্তিও। উপরন্তু এবারের ট্রান্সফার মৌসুমে যদি কিলিয়ান এমবাপ্পেকে না আনা যায়, তাহলে জিদানের চেয়েও দুর্বল স্কোয়াড নিয়ে চলতে হতে পারে এভারটন ছেড়ে আসা ইতালিয়ানকে। কারণ, করিম বেনজেমা, টনি ক্রুস, লুকা মডরিচ, সার্জিও রামোসদের মতো প্রধান খেলোয়াড়দের সবারই বয়স ত্রিশের ওপরে। তরুণ যারা আছেন, কেউই এখনও নিজেদের অপরিহার্য প্রমাণ করতে পারেননি। রোনালদো যাওয়ার পর বেনজেমা গোল স্কোরারের দায়িত্ব সামলালেও, কয়েকজন তরুণ কয়েক ম্যাচের জন্য অন্য পজিশনের দায়িত্ব ভালোভাবে সামাল দিলেও ভবিষ্যৎ-ভাবনায় টেকসই সমাধান খুঁজতে হবে দ্রুত। নয়তো আনচেলত্তির আগমন সাফল্যে অনূদিত না হয়ে জিদানের শেষ বছরেরই পুনরাবৃত্তি হবে।


বিষয় : আনচেলত্তিতে রিয়াল মাদ্রিদ

মন্তব্য করুন