'উইল আই বি অ্যাবল টু সি ক্যাঙ্গারুস ইন দ্য স্ট্রিট?'
'ইট ডিপেন্ডস হাউ মাচ ইউ হ্যাভ বিন ড্রিংকিং!' বলেই হাসে জুলিয়ান। তার হাসি ভ্রমণের ক্লান্তি ভোলানো স্নিগ্ধতা ছড়ায়। ঠিক যেন রবীন্দ্রনাথের ছোটগল্প। স্বর্ণকেশি এ অস্ট্রেলিয়ানের বয়স ত্রিশ ছুঁইছুঁই। একজন পরিবেশবিদ। ব্রিসবেনের মেয়ে হলেও মেলবোর্ন তার পছন্দের। তাই ক্যানবেরা যাওয়ার আগে মেলবোর্নের মাটি স্পর্শ করে যেতে চায়। এখানকার পরিবেশ-প্রকৃতি তাকে বেশ টানে।
ভারতবর্ষে এসেছিল একবার তাজমহল দেখতে। বাংলাদেশ সম্পর্কে জানে তবে খুব বেশি নয়। জানে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের ইতিবৃত্ত। এমনকি বিশ্বসেরা ম্যানগ্রোভ নিয়েও কথা বলল। জানতে চাইল রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের কথা। জুলিয়ানের সঙ্গে কথা হচ্ছিল কান্তাস এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে। সম্প্রতি জুলিয়ান কাজ করছে পাখি নিয়ে। বিশেষ করে ময়ূরের সুরক্ষা। প্রায় ২০০ বছর আগে ব্রিটিশরা অস্ট্রেলিয়ায় ময়ূর নিয়ে আসে। সেই থেকে বেশ আছে ময়ূরকুল। প্রচুর গাছপালা থাকায় অনায়াসে ঘুরে বেড়ায় শহরজুড়ে। বছর দুই আগে সরকার ময়ূরের সংখ্যা কমানোর উদ্যোগ নিয়েছিল কিন্তু পাখিপ্রেমীরা বাদ সাধে। যদিও কেউ কেউ ভবঘুরে ময়ূরের যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ।
কান্তাস এয়ারের বিশালাকার জাহাজটি অবতরণের আগে মেলবোর্নের আকাশে চক্কর দিল। ডিম্বাকৃতির জানালা দিয়ে চকিতে দেখা যায়, শেষ বিকেলের লাজরাঙা আলো শহরের দালানগুলোর শীর্ষে। গোধূলির আভা শরীরে মেখে ওয়েলিংটন থেকে উড়ে আসা বায়ুতরী স্পর্শ করে মেলবোর্নের মাটি। অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ব্যস্ততম বিমানবন্দর। চারটি টার্মিনাল বিশাল এলাকাজুড়ে। বন্দরসেবায় অনাবশ্যক সময়ক্ষেপণ নয়। দ্রুতলয়ে পার হচ্ছেন যাত্রীরা। প্রত্যাশার বেশি সেবা পাওয়ায় আমাদের মনও ফুরফুরে। এগারোজনের দলটি যখন বেরিয়ে এলাম, তখন জ্বলে উঠেছে চোখ ধাঁধানো আলো। প্রশস্ত সড়ক, সুবিন্যস্ত। লেন ধরে এগিয়ে চলছে যন্ত্রযান। নতুন শহর দেখার ঔৎসুক্য। আমাদের গন্তব্য এলবার্ট পার্ক লেক সংলগ্ন হোটেল মারকিওরে মেলবোর্ন। শহরের প্রাণকেন্দ্র ছুঁয়ে যেতে হবে। এয়ারপোর্টটি শহরকেন্দ্র থেকে তেইশ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে। বহু লেনবিশিষ্ট মহাসড়ক ভূমি থেকে কিছুটা উঁচুতে। দু'পাশের সুউচ্চ দালানগুলোর শরীরে উজ্জ্বল আলো। আলো শহরজুড়ে। যানবাহনের সম্মুখ আর পশ্চাতের দু'রকম আলোয় জানান দেয় জীবনের দুই গন্তব্য। আসা আর-যাওয়া।
ওয়েলিংটন থেকে মেলবোর্ন, খুব বেশি সময়ের ভ্রমণ নয়। তারপর এয়ারপোর্ট হতে হোটেল তক পৌঁছাতে আরও ত্রিশ মিনিট। হোটেলের পরিচ্ছন্ন, সুপরিসর লবি। আধুনিকতা আর আভিজাত্যের ছোঁয়া স্পষ্ট। শরীরে তখনও ক্লান্তি ভর করেনি। চোখের তারায় ভাসছে আলোকোজ্জ্বল শহর। ফ্রেশ হয়ে ঝটপট নেমে এলো সবাই। ট্যুর সমন্বয়ক রবিউল সাহেব জানালেন, দেরি হলে ডিনার পেতে সমস্যা হবে। আগে পেটের সুরক্ষা, পরে চিত্তের। বেশিদূর যেতে হলো না, পাওয়া গেল কেএফসি। বিদেশ বিভুঁইয়ে কেএফসি, ম্যাকডোনাল্ডস আর সাবওয়ে যে কত আপন! তা ভুক্তভোগী কিংবা অভুক্তরাই বোঝেন।
পোর্ট ফিলিপ বে আর বহতা ইয়ারা নদীর স্নেহধন্য মেলবোর্ন। ওদিকে দক্ষিণে অপার মমতায় ঘিরে আছে ভারত মহাসাগর। এমন জলসংলগ্ন শহরে খাবার তালিকায় মাছই প্রাধান্য পাবে, এটাই স্বাভাবিক। দলের সঙ্গে মিনিবাস চালক মোস্তফা। মোস্তফার বাড়ি বিক্রমপুরের রাঢ়িখালে। এক দশক ধরে এখানে। কাজের ফাঁকে অবসরে গাড়ি চালান বাড়তি আয়ের আশায়। বাংলাদেশ থেকে টিম আসছে জেনে আগ্রহ বাড়ে তার। দেশের মানুষের সঙ্গে কথা বললে প্রাণশক্তি বাড়ে। পদ্মা সেতু, ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে আর পদ্মা রেললিংকের আপডেট জানতে চায় ঘুরেফিরে। নানার বাড়ি শিবচর। পদ্মা সেতু প্রকল্পে অধিগ্রহণ এলাকায় পড়েছে নানার বসতভিটা। তাই বলে দুঃখ নেই। ক্ষতিপূরণ পেয়েছে। কিন্তু তার চেয়ে বেশি প্রশান্তি পদ্মা সেতু দাঁড়িয়ে গেছে প্রমত্তার বুকের ওপর। এটাই সান্ত্বনা। বলতে বলতে যেন তার চোখ ভিজে আসে আবেগে। জগৎজুড়ে মেলবোর্নের কফির খ্যাতি। এখানে এসে কফির স্বাদ নিতে জিহ্বা কেমন যেন করছিল। ডিনার শেষে মোস্তফা খুঁজে বের করল কফি শপ। এসপ্রেসো হাতে নিয়ে গাড়িতে বসলাম। চুমুকেই স্বস্তি। বলছিল মোস্তফা, শহর মেলবোর্নের কথকতা।
বিশাল দেশ অস্ট্রেলিয়া। শুধু মূল ভূখণ্ড বায়ান্নটি বাংলাদেশের সমান। আর জনসংখ্যা আড়াই কোটি। দেশের দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত শহর মেলবোর্ন ভিক্টোরিয়া অঙ্গরাজ্যের রাজধানী। মোট ছয়টি অঙ্গরাজ্য। এর বাইরে মূল ভূভাগে তিনটি এবং বাইরে সাতটি টেরিটরি রয়েছে। রাজধানী ক্যানবেরা ফেডারেল সরকার শাসিত একটি টেরিটরির অংশ। জনসংখ্যার দিক দিয়ে সিডনির পরেই মেলবোর্ন। ব্যাক পেকার্সদেরও প্রিয় গন্তব্য এ শহরের গোড়াপত্তন ১৮৩৫ সালে। প্রাচীন এ শহরে প্রায় ছেষট্টি লাখ মানুষের বাস। তাদের হিসেবে ঘনবসতিপূর্ণই বলা চলে।
গাড়ি ততক্ষণে ঢুকে পড়েছে শহরকেন্দ্রে। আমাদের হাতে সময় কম। ক্যানবেরা যাওয়ার পথে স্বল্পসময়ের স্টপওভার মেলবোর্নে। মাত্র এক রাত এক দিন। বলা যায় ঝটিকা সফর। তাই প্রতি সেকেন্ডই মূল্যবান। আমাদের আপাত গন্তব্য ইউরেকা স্কাই ডেক। শহরের সবচেয়ে উঁচু দালান। দালান এ কারণে বলছি, এটা একটা অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্স। মেলবোর্নের সর্বোচ্চ ভবন, অস্ট্রেলিয়ায় তৃতীয়। স্রোতস্বিনী ইয়ারা নদী শহরকে দু'ভাগ করেছে উত্তর আর দক্ষিণে। ইউরেকা টাওয়ারের অবস্থান উত্তর তীরে। নয়শ পঁচাত্তর ফুট উচ্চতা তথা একানব্বই তলার আকাশচুম্বী ভবনটি চালু হয় ২০০৬ সালে। এ ভবনের সাতাশি তলা পর্যন্ত অ্যাপার্টমেন্টে মানুষের বসবাস। মেঘের রাজ্যে বসবাসকারীদের এ টাওয়ার ভবনের মেঝে প্রায় তেরো লাখ বিশ হাজার বর্গফুটজুড়ে।
রোমাঞ্চকর স্কাইডেকের অবস্থান আটাশি তলায়। এই ফ্লোরটি মূলত একটি অবজার্ভেটরি ডেক। ডেকটি সবার জন্য উন্মুক্ত তবে নির্দিষ্ট ফি গুনতে হয়। আকাশবাড়ির এ আঙিনা থেকে দেখা যায় শহর মেলবোর্ন আর চারপাশের চোখ ধাঁধানো সুন্দর। ডেকের ওপরের ফ্লোরে রেস্টুরেন্ট। তারও ওপরে আরেকটি ফ্লোর অফিসিয়াল কাজে ব্যবহারের জন্য। দ্রুতগতির লিফটেএ মাত্র আটত্রিশ সেকেন্ডের ঊর্ধ্বমুখী যাত্রা। স্কাইডেক-৮৮ থেকে দেখা মেলবোর্ন এক লাস্যময় নগরী। নগরীর শরীর থেকে ঠিকরে পড়ছে বর্ণিল আলোর দ্যুতি। পরিচ্ছন্ন মেঘমুক্ত রাতের আকাশ। দূরকে কাছ থেকে দেখতে রয়েছে ত্রিশটির বেশি দূরবীক্ষণ যন্ত্র। সোনালি রঙের ফ্রেমে আয়নাঘেরা ডেক। দেখা যায় ঝলমলে মেলবোর্ন ক্রিকেট স্টেডিয়াম, ফিলিপ বে, বন্দরসহ নগরীর বিখ্যাত সব স্থাপনা। আয়নায় ঘেরা একটি কিউবে চড়ে বসতে পারেন। তবে একটু সাহস করতে হবে। কিউবটি মূল ভবন থেকে আরেকটু বাইরে নিয়ে যাবে আপনাকে। অস্বচ্ছ কাচের ঘনকটি ধীরে ধীরে বের হবে আর স্বচ্ছ হতে থাকবে। উদ্ভাসিত হবে বহির্দৃশ্য। বিকেলে পর্যটক আর দর্শনার্থীরা ভিড় করে স্কাই ডেকে। সূর্যাস্ত আর শহরজুড়ে সন্ধ্যা-আলো জ্বলে ওঠার দৃশ্য উপভোগ করেন তারা। ঘড়ির কাঁটায় তখন দশটা ছুঁইছুঁই। আমাদের নেমে আসতে হবে আকাশ থেকে। গন্তব্য এবার বিখ্যাত 'ফ্লিন্ডার্স স্ট্রিট'। ম্যাথিও ফ্লিন্ডার্স একজন অনুসন্ধানকারী। আবিস্কারের নেশায় ছুটে চলতেন দিজ্ঞ্বিদিক। তিনিই নামকরণ করেন অস্ট্রেলিয়ার। গ্রিক শব্দ অস্ট্রালিস থেকে অস্ট্রেলিয়া, যার অর্থ সাউদার্ন। এ এক্সপ্লোরারের নামেই এ সড়ক। তাই তো ঐতিহ্যের ছোঁয়া পেতে এ সড়কে ছুটে আসেন পর্যটকরা।
ফ্লিন্ডার্স স্ট্রিট ইয়ারা নদীর সমান্তরালে। শহরের বেশকিছু বিখ্যাত এবং প্রাচীন স্থাপনা এ সড়কে। এর মাঝে সেন্ট পলস্‌ ক্যাথেড্রল, পুরোনো হেরাল্ড এবং সাপ্তাহিক টাইমসের সদর দপ্তর ভবন, মেলবোর্ন অ্যাকুরিয়াম, ব্যাটম্যান পার্ক উল্লেখ করার মতো। তবে যে কারণে আমাদের এ সড়কে আসা সেটা হলো ফ্লিন্ডার্স স্ট্রিট স্টেশন। মেলবোর্ন তো বটেই, এটি অস্ট্রেলিয়ার প্রাচীনতম রেলস্টেশন। প্রশস্ত সড়ক মোহনায় দাঁড়িয়ে আছে প্রায় একশ পঁয়ষট্টি বছরের পুরোনো স্টেশন ভবন। আলোর দৃষ্টিনন্দন প্রক্ষেপণ ভবনটিকে দেখাচ্ছে চিরযৌবনা। মোগল স্থাপত্যে গড়া ভবনের শরীরজুড়ে সোনালি রং আর জানালায় লাল। ওপরে গম্বুজ। স্টেশনের সাতশ আট মিটার দীর্ঘ প্ল্যাটফর্ম এখনও অস্ট্রেলিয়ার দীর্ঘতম ফ্ল্যাটফর্ম। প্রাচীন সড়কের ঐতিহ্য গায়ে মেখে মোস্তফা আমাদের নিয়ে যায় মেলবোর্নবাসীর অহংকার মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ড, সংক্ষেপে এমসিজি এলাকায়। বিশাল এলাকাজুড়ে স্টেডিয়াম। এটি মূলত ইয়ারা পার্ক এলাকায় অবস্থিত। সিটি সেন্টারের অদূরে। বিশাল এ স্টেডিয়ামের ধারণক্ষমতা প্রায় এক লাখ। ১৮৫৭ সালে গড়া স্টেডিয়ামটি মেলবোর্নবাসীর মনপ্রিয়, আনন্দের উৎস।
এ মাঠে প্রথম ক্রিকেট টেস্ট অনুষ্ঠিত হয় ১৮৭৭ সালে। অস্ট্রেলিয়া বনাম ইংল্যান্ডের মাঝে অনুষ্ঠিত এ টেস্টে অস্ট্রেলিয়া জয়লাভ করে। এ দুটি দেশের মাঝেই প্রথম এক দিনের ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয় ১৯৭১ সালে। প্রথম এক দিনের ম্যাচে ৫ উহকেটে স্বাগতিকরা ইংল্যান্ডকে পরাজিত করে। অবশ্য ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত প্রথম টি২০ ম্যাচটিতে স্বাগতিকরা ৯ উইকেটে হারায় ইন্ডিয়াকে। মূলত মেলবোর্ন দেশটির স্পোর্টিং ক্যাপিটাল। অবাক হচ্ছিলাম মোস্তফার কথায়। সব তথ্য তার ঠোঁটস্থ। রুমে ফিরে চেক করে দেখছিলাম, যা বলছিল, কোনো হেরফের নেই।
জগতের তাবত বন্দর শহর জমে ওঠে রাতে। বন্দরে বাঁধা বহুজাতিক জাহাজের নাবিক আর কর্মীরা নগদ অর্থে কেনে জীবনের জৌলুস। মেলবোর্নও ব্যতিক্রম নয়। নাইট লাইফ মাত্র জমে উঠতে শুরু করেছে। ব্যস্ততার মোড়কে নগরকেন্দ্র। রাতের মেলবোর্ন দিনের চেয়ে স্বভাবতই অধিকতর অনুনাদশীল। বার, নাইট ক্লাব, মিউজিকবারগুলো জম্পেস। তাই তো মেলবোর্ন বিশাল অস্ট্রেলিয়ার সাংস্কৃতিক রাজধানী। এখানে আছে বেশকিছু মিউজিয়াম। সড়ক, গলির পাশের দেয়ালে নানান রঙে আঁকা দেয়ালনকশা। কফিশপগুলো জীবন্ত হয়ে উঠছে রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে। বিয়ার আর কফির ঘ্রাণ অলিগলি মাড়িয়ে রাজপথে। প্রাণবন্ত মানুষেরা গ্রহণ করছে জীবনের রূপ, রস। স্বল্পবসনা লাস্যময়ী তরুণীদের ভাবনাহীন, অসংকোচ চলাচল মনে করিয়ে দেয় এক নিরাপদ নগরীর কথা। গলির দু'পাশে সারি সারি কফিশপ, বার। হেঁটে চলা গলির ফুটপাতে সাজানো টেবিলে উদ্বেগহীন সুখী মানুষের মেলা। মিনি স্কার্ট পরা রমণীসকল পায়ের ওপর পা বসিয়ে ঠোঁটে গোঁজা সিগারেট থেকে ধোঁয়া ছাড়ে ঊর্ধ্বাকাশে। বছরের পর বছর তাই তো মেলবোর্ন ইকোনমিক ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের জরিপে বিশ্বের সবচে বাসযোগ্য নগরীর তালিকায় শীর্ষস্থান দখলে রেখেছিল।
মেলবোর্নে দেখার মতো ছোট্ট একটি অংশ চায়না টাউন। ব্যস্ত এলাকা। এ এলাকায় প্রবেশ করলেই বুঝা যায়, এ এক অন্য জগৎ। ভবনগুলোর স্থাপত্যশৈলী, সাজসজ্জা সবই আলাদা কিসিমের। সড়ক পাশের গম গম ভাব, কেনাকাটা, কোলাহল মনে করিয়ে দেয় শহরের ব্যস্ততা।
মায়াবতী এ শহরের মায়া চোখের তারায় মেখে মাঝরাতে ফিরে আসি হোটেলে। গা এলিয়ে দিই বিছানায়। মনের দ্বারে ভাসতে থাকে সুখী মানুষগুলোর জীবন উপভোগের উপচে পড়া পেয়ালা। া