ছাত্রীর সন্তান পিঠে নিয়ে ক্লাস করালেন শিক্ষক!

প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯     আপডেট: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯      

অনলাইন ডেস্ক

ক্লাস নিচ্ছেন শিক্ষক। তার পিঠে বাঁধা রয়েছে এক শিশু। ঘণ্টার পর ঘণ্টা ওভাবেই ক্লাস নিলেন তিনি। তবে যে শিশুটিকে পিঠে নিয়ে তিনি ক্লাস করাচ্ছিলেন সে শিশুটি তার নিজের নয়, একজন ছাত্রীর । শিশুটির মা যাতে ভালো করে ক্লাস করতে পারে এ কারণে ছাত্রীর সন্তানকে তিন ঘণ্টা পিঠে বেঁধে ক্লাস করালেন ওই শিক্ষক।

মানবিক এ ঘটনাটি ঘটেছে যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ার লরেন্সভিল গুইনেট কলেজে। জানা গেছে, ওই কলেজের অধ্যাপক ডঃ রামাতা সিসোকো সিস সম্প্রতি ক্লাস চলাকালীন সময়ে তার ছাত্রীর সন্তানকে নিজের পিঠে রেখে ক্লাস করিয়ে এক অসামান্য দৃষ্টান্ত রেখেছেন। অ্যানাটমি, ফিজিওলজি ও জীববিজ্ঞানের সহকারী অধ্যাপক ডঃ সিস জানিয়েছেন, তার ওই ছাত্রী সন্তানকে সামলানোর জন্য কোনও আয়া পাননি। এজন্য সন্তানকে সঙ্গে নিয়েই সে ক্লাস করতে এসেছিল।

অধ্যাপক ডঃ সিস বলেন, ‘ওই ছাত্রী আমাকে জিজ্ঞাসা করেছিল ক্লাসে সন্তানকে নিয়ে আসা যাবে কিনা। কারণ এরই মধ্যে সে অনেক ক্লাস বাদ দিয়েছে, পিছিয়েও পড়েছে। সামনে ওদের পরীক্ষা রয়েছে। এজন্য সে আর পেছাতে চাইছিল না।’ 

ডঃ সিস জানান, তার ছাত্রীটি বেশ চটপটে, পড়াশোনাতেও ভালো। সে যে সত্যিই শিখতে চায় এটা তিনি জানেন। 

শিক্ষকের আশ্বাস পেয়ে ছাত্রীটি সন্তান নিয়ে ক্লাসে চলে আসে। কিন্তু সন্তানকে কোলে নিয়ে নোট লেখা তার জন্য বেশ কঠিন হয়ে পড়ে।

অধ্যাপক ডঃ সিস জানান, তার দেশ মালিতে শিশুদের নিরাপদে পিঠে বেঁধে কাজ করার জন্য চাদর এবং কাপড়ের অন্যান্য টুকরা ব্যবহার করা হয়। এ কারণে তিনি স্বাভাবিকভাবেই শিশুটিকে সুরক্ষিত রাখার উপায় খুঁজছিলেন। 

ছাত্রীকে সাহায্য করতে তখন অধ্যাপক সিস শিশুটিকে তার পিঠে বেঁধে নেন । টানা তিন ঘন্টা ধরে শিশুটিকে নিজের কাছেই যত্নে রাখেন যাতে তার মা মন দিয়ে নোট নিতে পারে। 

ডঃ সিসের মেয়ে অ্যানা শিশুকে পিঠে নিয়ে মায়ের ক্লাস নেওয়ার সেই ছবি পোস্ট করেছে টুইটারে। শুক্রবার পোস্ট করা ওই ছবিটি মাইক্রোব্লগিং ওয়েবসাইটে ভাইরাল হয়ে গিয়েছে। অনলাইনে শেয়ার হওয়ার পরে, ছবিটি হাজারো মানুষ ‘লাইক' করেছেন । সেই সঙ্গে মন্তব্যও করেছেন বহু মানুষ। 

গত মার্চ মাসে, জর্জিয়ার মোরহাউস কলেজের একজন গণিতের অধ্যাপকও ক্লাস নেওয়ার সময় একইভাবে একজন শিক্ষার্থীর সন্তানকে কোলে করে ক্লাস নিয়ে সকলের  মন জয় করেছিলেন। সূত্র : এনডিটিভি