রাজধানীর বনানীতে প্রকৌশলী নাসির উদ্দিনের মৃত্যুর পর তিন দিনেও রহস্যের জট খোলেনি। পুলিশের ধারণা, বহুতল ভবন থেকে পড়ে তার মৃত্যু হয়। তবে তিনি কী কারণে ওই এলাকায় গিয়েছিলেন, কীভাবে তিনি পড়ে যান, এটি দুর্ঘটনা না হত্যা- এসব প্রশ্নের উত্তর মেলেনি। অবশ্য স্বজনরা সন্দেহ করছেন, তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।

বনানী থানার ওসি নূরে আজম মিয়া সমকালকে বলেন, প্রকৌশলীর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনাস্থল সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আসেনি। তবে আওয়াল সেন্টারের নবম তলা থেকে তিনি পড়ে যান বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে একটি অস্বাভাবিক মৃত্যু (ইউডি) মামলা হয়েছে।

ওসি জানান, গত ২৪ জুন রাতে আওয়াল সেন্টারের নবম তলায় একটি অবৈধ স্পা সেন্টারে অভিযান চালানো হয়। ওই সময় নাসির উদ্দিন হয়তো সেখানে ছিলেন। অভিযানের সময় জানালা দিয়ে পড়ে তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

পুলিশ সূত্র জানায়, পদ্মা সেতুর উদ্বোধন সামনে রেখে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে ওই রাতে সেখানে অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে ১৫ জনকে আটক করে পুলিশ।

ঘটনার দিন আনুমানিক রাত ১১টার দিকে বনানীর আওয়াল সেন্টারের পাশে একটি তিন তলা ভবনের ছাদে প্রকৌশলী নাসিরের রক্তাক্ত নিথর দেহ পাওয়া যায়। খবর পেয়ে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে প্রথমে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে নেওয়া হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানেই তার মৃত্যু হয়। 

নিহত বাগেরহাটের মোংলা বন্দরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার বাড়ি রাজধানীর মাতুয়াইলে। তবে তিনি স্ত্রীকে নিয়ে খুলনায় থাকতেন।

এদিকে মৃতের ভগ্নিপতি মাহমুদুল হক অভিযোগ করেন, নাসিরকে ডেকে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। কারণ তার মতো মানুষের স্পা সেন্টারে যাওয়ার কথা নয়। তার জীবনযাপনের সঙ্গে বিষয়টি যায় না।