ঢাকা বৃহস্পতিবার, ৩০ মে ২০২৪

'মহামারি' আকার নিয়েছে গরুর লাম্পিং স্কিন রোগ

'মহামারি' আকার নিয়েছে গরুর লাম্পিং স্কিন রোগ

চারঘাট (রাজশাহী) সংবাদদাতা

প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২২ | ১২:০০

রাজশাহীর চারঘাটে ছড়িয়ে পড়েছে লাম্পিং স্কিন (এলএসডি) রোগ। গত তিন মাসে এ রোগে ১৪টি গরুর মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্ত হয়েছে সাড়ে ৮ হাজার। অ্যানথ্রাক্সের আতঙ্কের পর হঠাৎ করেই গবাদি পশু এ রোগে আক্রান্ত হওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছেন খামারিরা।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের তথ্যমতে, ২০১৯ সালে সারাদেশে লাম্পিং স্কিন রোগ দেখা দেয়। তবে গত কয়েক বছরে এই রোগে গরু মৃত্যুর সংখ্যা কম ছিল। চলতি বছর এ রোগ মহামারি আকার ধারণ করেছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের প্রাণিসম্পদ চিকিৎসকদের এই রোগ প্রতিরোধে 'গোটপক্স' ভ্যাকসিন দিতে বলা হয়েছে। তবে ভ্যাকসিনে এ রোগ প্রতিরোধ হচ্ছে না বলে স্বীকার করেছেন পশু চিকিৎসকরা।

সূত্র আরও জানায়, উপজেলায় খামার ও কৃষক পর্যায়ে ১৯ হাজার ৪৫০টি গরু রয়েছে। গত তিন মাসে এর ৪৫ ভাগ ল্যাম্পিং স্কিন রোগে আক্রান্ত হয়েছে। প্রতিনিয়তই আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে মহামারি আকার ধারণ করেছে। বড় গরুর তুলনায় বাছুর আক্রান্তের সংখ্যা বেশি।

গত মঙ্গলবার সকালে উপজেলা প্রাণিসম্পদ হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, লাম্পিং স্কিন রোগে আক্রান্ত অন্তত ১৪টি গরুকে বিভিন্ন গ্রাম থেকে চিকিৎসার জন্য আনা হয়েছে।

রাওথা গ্রামের রফিকুল ইসলাম জানান, তাঁর দুটি গরু ল্যাম্পিং স্কিন রোগে আক্রান্ত হয়েছে। প্রথমে তাপমাত্রা বেড়ে গিয়ে গরুর সারা শরীরে গুটি বের হয়। ভ্যাকসিন দিয়েও কাজ হয়নি। একটি গরু চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। এতে লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে। অন্যটিকেও উন্নত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে এনেছেন।

পিরোজপুর গ্রামের আঙুরা বেগম জানান, তাঁর একটি বাছুর আক্রান্ত হয়েছে। সরকারিভাবে ওষুধ বা ভ্যাকসিন দেওয়া হচ্ছে না। শুধু ব্যবস্থাপত্র লিখে হাতে ধরিয়ে দিয়েছে। বাইরে থেকে ওষুধ কিনতে হচ্ছে। কবে নাগাদ গরু সুস্থ হবে তাও বলতে পারছেন না চিকিৎসক।

ডাকরা গ্রামের মিজানুর রহমান জানান, তাঁর খামারে ৯টি গরু রয়েছে। এর মধ্যে একটি আক্রান্ত হয়েছে। এর দুধ পান করে বকনা বাছুরটিরও সারা শরীর ফুলে গেছে। আক্রান্ত গরুগুলোকে আলাদা করে রাখা হয়েছে।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) নাজনিন নাহার বলেন, চারঘাটে মহামারি আকার ধারণ করেছে ল্যাম্পিং স্কিন রোগ। ভাইরাসজনিত রোগ হওয়ায় এর প্রকোপ থামানো কঠিন। এ রোগের কোনো ভ্যাকসিনও নেই। ছাগলের 'গোটপক্স' ভ্যাকসিন ডোজ বাড়িয়ে গরুর শরীরে প্রয়োগ করে ভালো ফল পাওয়া যাচ্ছে। এ ছাড়া গরু আক্রান্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আলাদা করে মশারিতে আবৃত রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুন

×