ঢাকা শনিবার, ২৫ মে ২০২৪

জেলা পরিষদ নির্বাচন

সুনামগঞ্জে প্রার্থীদের পাল্টাপাল্টি দোষারোপ, পরিস্থিতি উত্তপ্ত

সুনামগঞ্জে প্রার্থীদের পাল্টাপাল্টি দোষারোপ, পরিস্থিতি উত্তপ্ত

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২২ | ১২:০০ | আপডেট: ১৪ অক্টোবর ২০২২ | ০০:০১

জেলা পরিষদ নির্বাচন সামনে রেখে উত্তপ্ত হয়ে উঠছে সুনামগঞ্জ। চেয়ারম্যান প্রার্থীদের নানা পদক্ষেপ এবং বক্তব্য উত্তেজনা ছড়াচ্ছে। আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বীর হলফনামায় তথ্য ভুল দাবি করে উচ্চ আদালতে মামলা নিয়েও দুই পক্ষে ক্ষোভ বাড়ছে। সমর্থকরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ ভোটের প্রচারণায় এসব বিষয় সামনে নিয়ে আসছেন। তবে নির্বাচনী পরিবেশে বিঘ্ন ঘটালে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন কর্মকর্তারা।

জেলা আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ও জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল হুদা মুকুট রিটার্নিং অফিসারের কাছে দেওয়া হলফনামায় অনেক সম্পদের তথ্য গোঁপন রেখেছেন বলে দাবি করেছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী খায়রুল কবির রুমেন। তাঁর পক্ষে হাইকোর্টে বুধবার রিট দায়ের করা হয়েছে। এতে নুরুল হুদার সমর্থকরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এবং নির্বাচনী প্রচারণায় প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

নুরুল হুদা মুকুট বলেন, ভোট না পাওয়ার ভয়ে বাঁকা পথে হাঁটছেন রুমেন ও তাঁর ভাই জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এনামুল কবির ইমন। রুমেন শুরুর দিকে ভোট না দিলেও ইভিএমে কারচুপি করে জয়লাভ করবেন বলে প্রচার চালায়। এতে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেছেন তাঁরা। শেষ মূহূর্তে ভোটের প্রতি সম্মান না দেখিয়ে হাইকোর্টে মামলা করেছেন তাঁরা। তিনি সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিক কর্তৃক আচরণবিধি লঙ্ঘন এবং ভোটারদের হুমকি দেওয়ারও অভিযোগ তুলেছেন।

তবে খায়রুল কবির রুমেন বললেন, তিনি কিংবা তাঁর ভাই ইমন অনিয়ম-দুর্নীতির সঙ্গে কখনোই যুক্ত হননি। প্রচারের শুরু থেকেই ভোটারের সঙ্গে আছেন। নুরুল হুদা হলফনামায় তাঁর বিরুদ্ধে থাকা মারামারির মামলার কথা উল্লেখ করেননি। আইনগত অধিকার সবার আছে, এ জন্য তিনি আইনের আশ্রয় নিয়েছেন।

এদিকে নির্বাচনী প্রচারণার শেষ মুহূর্তে উত্তেজনাকর পরিবেশ তৈরি হওয়ায় বৃহস্পতিবার প্রার্থী ও সমর্থকদের নিয়ে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে মতবিনিময় করেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক জাহাঙ্গীর হোসেন। তিনি বলেন, ভোট ইভিএমে হবে, নিরাপত্তার ব্যবস্থা থাকবে। কেউ নির্বাচনী পরিবেশের বিন্দুমাত্র বিঘ্ন সৃষ্টি করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রতিটি কেন্দ্রের সিসি ক্যামেরার নিযন্ত্রণ নির্বাচন কমিশন সচিবালয়েও থাকবে।

রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান, সিইসি ও অন্য নির্বাচন কমিশনাররা তদারকি করবেন। সামান্য অনিয়ম হলে নির্বাচন বন্ধ হয়ে যাবে। এতে প্রার্থীদের ক্ষতি হবে।

সভায় পুলিশ সুপার মোহাম্মদ এহসান শাহ, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মুরাদ উদ্দিন হাওলাদার ও সদর ইউএনও উত্তম রায় উপস্থিত ছিলেন। এ সময় ইভিএমে ভোট দেওয়ার পদ্ধতিও দেখিয়ে দেওয়া হয়। সুনামগঞ্জে আগামী ১৭ অক্টোবর জেলা পরিষদ নির্বাচনে ১২ কেন্দ্রের ২৪ বুথে ১ হাজার ২২৯ জন ভোটার ভোট দেবেন।

আরও পড়ুন

×