ঢাকা শনিবার, ১৮ মে ২০২৪

শেষ হবে ভাসমান জীবন

শেষ হবে ভাসমান জীবন

সিরাজদীখানের শেখরনগরে ইছামতীর তীরে নির্মিত আশ্রয়ণের ঘর-সমকাল

সিরাজদীখান (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২২ | ১২:০০

'এক ঘাটেতে রান্ধি-বাড়ি মোরা/ আরেক ঘাটে খাই,/ মোদের বাড়ি ঘর নাই;/ সব দুনিয়া বাড়ি মোদের/ সকল মানুষ ভাই;' পল্লিকবি জসীমউদদীনের কবিতায় ধরা পড়ে বেদে সম্প্রদায়ের যাযাবর জীবনের চিত্র। এই কবিতা গান হয়ে যুক্ত হয়েছে সিনেমায়, পেয়েছে জনপ্রিয়তাও। তবে এ সম্প্রদায়ের ভেসে চলা জীবনের দুঃখ-দুর্দশার সমাপ্তি এখনও ঘটেনি।

মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখান উপজেলার একটি বেদেপল্লির ১৫ পরিবারের যাযাবর জীবনের অবসান ঘটাতে নির্মিত হয়েছে আশ্রয়ণের ঘর। উপজেলার শেখরনগর ইউনিয়নের শেখরনগর বাজারসংলগ্ন ইছামতী নদী তীরের প্রকল্পে তাঁদের জন্য গড়ে উঠেছে আধাপাকা ১৫টি ঘর। হস্তান্তরের দিন-তারিখ ঠিক না হলেও শিগগিরই ওই বাড়ি তাঁদের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হবে বলে সংশ্নিষ্টরা জানিয়েছেন।

নিজেদের কষ্টের কথা বলতে গিয়ে শেখরনগরের বেদে রাজিবুল ইসলাম (৩৫) বলেন, 'ভাই, মানুষ আমাদের মানুষ মনে করে না। সমাজে আমাদের কোনো মূল্য নাই, মর্যাদাও নাই। গ্রামে গ্রামে ঘুরে সাপ খেলা দেখাই, আর শিঙা দেই।' ভাসমান এ জীবনের নিরাপত্তাহীনতা তাঁর মতো সবাইকে ভুগিয়েছে। তাই আশ্রয়ণ প্রকল্পে ঘর পাওয়ার আশা তাঁদের নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখাচ্ছে।

রাজিবুলের ভাষ্য, 'প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহারের ঘর এবার আমাদের আসল জীবন দেবে। হয়তো যাযাবর জীবন থেকে মুক্তি পাচ্ছি। ঘর পাইলে অন্তত মাথা গোঁজার ঠাঁই তো হবে।'

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আইমিন সুলতানা বলেন, ইছামতীর তীরঘেঁষা আশ্রয়ণ প্রকল্পটি বেদেদের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছিল আগেই। যাচাই-বাছাই শেষে ১৫ পরিবারকে সেখানে পুনর্বাসনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দ্রুতই ভূমিহীন পরিবারগুলোর হাতে মুজিববর্ষের উপহার হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেওয়া ঘর হস্তান্তর করা হবে।

তিনি আরও বলেন, ২ শতাংশ করে জায়গার ওপর প্রতি পরিবারের জন্য নির্মিত হয়েছে বারান্দাসহ ঘর। এখানে থাকছে দুটি করে শোবার কক্ষ। এ ছাড়া একটি করে রান্নাঘর ও শৌচাগার রয়েছে। প্রতি পরিবারের জন্য খরচ হয়েছে ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা।

ইউএনও শরীফুল আলম তানভীর বলেন, বেদেরা যেহেতু নদীতে থেকে অভ্যস্ত, তাই নদীতীরেই তাঁদের জন্য ঘর নির্মাণ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

×