ঢাকা শনিবার, ১৮ মে ২০২৪

ফরিদপুর-২ উপ-নির্বাচন

আ.লীগের বিদ্রোহীসহ দুই প্রার্থীর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার

আ.লীগের বিদ্রোহীসহ দুই প্রার্থীর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার

অ্যাডভোকেট মো. জামাল হোসেন মিয়া ও মো. আলমগীর মিয়া। ছবি-সংগৃহীত

ফরিদপুর অফিস

প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২২ | ০৭:২৫ | আপডেট: ১৯ অক্টোবর ২০২২ | ০৭:২৮

ফরিদপুর-২ আসনের উপ-নির্বাচনে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের নির্দেশে নিজের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছেন দলটির বিদ্রোহী প্রার্থী অ্যাডভোকেট মো. জামাল হোসেন মিয়া। একই সঙ্গে এ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী মো. আলমগীর মিয়াও তার মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছেন ।

বুধবার দুপুরে ফরিদপুর নির্বাচন অফিস থেকে তারা দু'জন মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেন। 

ফলে এই নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী সদ্য প্রয়াত সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর কনিষ্ঠ পুত্র শাহাদাব আকবর চৌধুরী লাবুর সঙ্গে একমাত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মো. জয়নুল আবেদীন বকুল মিয়া।

অ্যাডভোকেট মো. জামাল হোসেন মিয়া নগরকান্দা উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। তিনি একসময় প্রয়াত সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর এপিএস ছিলেন। 

বিকেলে ফরিদপুর জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. হাবিবুর রহমান আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী জামাল হোসেন মিয়া ও জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী মো. আলমগীর মিয়ার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এ ব্যাপারে জামাল হোসেন মিয়া জানান, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের একজন নেতা তাকে রাজধানীতে ডেকে নিয়ে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেওয়ার নির্দেশনা দেন। 

এ দিকে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের বিষয়ে জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী মো. আলমগীর মিয়া বলেন, 'ফরিদপুর-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী একজন সম্মানী ব্যক্তি ও আওয়ামী লীগের একজন প্রবীণ নেতা ছিলেন। তাই তার পরিবারের সম্মানে আমি আমার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছি।'

ফরিদপুর-২ আসনের উপ-নির্বাচনে মোট ৬ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। যার মধ্যে ৪ জন বৈধ প্রার্থী হিসেবে তালিকায় ছিলেন এবং ২ জনের তথ্যের গড়মিল থাকায় যাচাই-বাছাইয়ে প্রার্থিতা বাতিল করা হয়।

গত বুধবার (১২ অক্টোবর) মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে ৪ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ও দুইজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণা করে জেলা নির্বাচন অফিস। 

যাচাই-বাছাই শেষে বৈধভাবে মনোনীত প্রার্থীরা হলেন- শাহাদাব আকবর চৌধুরী লাবু (বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ), মো. জয়নুল আবেদীন বকুল মিয়া (বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন), মো. আলমগীর মিয়া (জাতীয় পার্টি), জামাল হোসেন মিয়া (স্বতন্ত্র)।

পরে, ১৯ অক্টোবর মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী জামাল হোসেন মিয়া ও জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী মো. আলমগীর মিয়া মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেন।

ফরিদপুর জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান জানান, এই নির্বাচন ইভিএমের মাধ্যমে হবে। ফরিদপর-২ সংসদীয় আসনের মোট ৩ লাখ ১৮ হাজার ৪৭৯ জন ভোটার তাদের ভোট প্রয়োগ করবেন।

এতে খুলনা আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করবেন। 

প্রসঙ্গত, সদ্য প্রয়াত সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর মৃত্যুতে গত ১১ সেপ্টেম্বর সংসদীয় এ আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়। ২৬ সেপ্টেম্বর তফসিল ঘোষণা করেন নির্বাচন কমিশন। আগামী ৫ নভেম্বর ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। 

আরও পড়ুন

×