ঢাকা সোমবার, ২০ মে ২০২৪

আঁচিলে বিকৃত শরীর: 'বৃক্ষ' শিশু রিপন ফের ঢামেক হাসপাতালে

আঁচিলে বিকৃত শরীর: 'বৃক্ষ' শিশু রিপন ফের ঢামেক হাসপাতালে

'বৃক্ষ' শিশু রিপন। ছবি-সমকাল

পীরগঞ্জ (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৩ নভেম্বর ২০২২ | ১০:০২ | আপডেট: ০৩ নভেম্বর ২০২২ | ১০:০২

দেশে দ্বিতীয় 'বৃক্ষ' মানব হিসেবে পরিচিত ঠাকুরগাঁওয়ের শিশু রিপন দাস অবশেষে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের প্রধান চিকিৎসক ডা. সামন্ত লাল সেনের পরামর্শে তাকে সেখানে ভর্তি করা হয় বলে রিপনের বাবা মহেন্দ্র দাস জানিয়েছেন। এর আগে সমাজের বিত্তবান ও বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের আর্থিক সহায়তায় বুধবার রাতে তাকে ঢাকা নেওয়া হয়।

বিরল রোগে আক্রান্ত হয়ে দেশে প্রথম বৃক্ষ মানব হিসেবে পরিচিতি পান খুলনার আবুল বাজনদার। তাঁর চিকিৎসায় সরকার এগিয়ে আসায় এখন তিনি সুস্থ-স্বাভাবিক জীবনযাপন করছেন। তবে আঁচিলের মতো শিকড়ের কারণে শরীর বিকৃত হয়ে গেছে পীরগঞ্জ উপজেলার কেটগাঁও গ্রামের ৯ বছরের শিশু রিপনের। এর আগে দুই দফায় অস্ত্রোপচার করে অনেকটা উন্নতি হয়েছিল। তবে অর্থাভাবে চিকিৎসা চালিয়ে যেতে না পারায় ফের স্বাস্থ্যের অবনতি হয়। আঁচিল বাড়তে থাকায় ক্রমে তার শরীরের রং ও আকৃতি পরিবর্তন হয়ে যাচ্ছে।
জানা গেছে, তৃতীয় শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় ২০১৬ সালে রিপনের শরীরে বিরল এই রোগ দেখা দেয়। এ নিয়ে তখন সমকালে সংবাদ প্রকাশ হলে বিষয়টি বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রচার পায়। আর্থিক সহায়তা নিয়ে এগিয়ে আসেন অনেকেই। নজরে আসে জেলা প্রশাসনেরও। ঠাকুরগাঁওয়ের তৎকালীন জেলা প্রশাসকের সহযোগিতায় তাকে ওই বছরের আগস্টে ভর্তি করা হয় ঢামেক হাসপাতালে। এর পর হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে তিনটি অস্ত্রোপচার হয় তার। কিছুটা উন্নতি হলে অবস্থা পর্যবেক্ষণ করার জন্য ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে দুই মাসের জন্য বাড়িতে নেওয়া হয়। পরে অর্থাভাবে আর ঢাকা যাওয়া না হলে আরও অবনতি ঘটে। বিভিন্ন পক্ষ থেকে অর্থ সহায়তা পেলে ২০১৯ সালে ফের চিকিৎসা শুরু হলেও করোনার কারণে তা আর বেশিদূর এগোতে পারেনি। এ কারণে রিপনের হাতে ও পায়ে ফের গজাতে শুরু করে শিকড়ের মতো আঁচিল। বর্তমানে করোনার প্রকোপ না থাকলেও আছে অর্থসংকট। এ কারণে হাসপাতালে যেতে না পারায় অবস্থা দিন দিন গুরুতর হতে থাকে। এ অবস্থায় স্থানীয় কবিরাজের পরামর্শে ভেষজ চিকিৎসা নিলে শরীর কালো হতে শুরু করে।
শিশুটির বাবা মহেন্দ্র দাস বলেন, রিপনের স্বাস্থ্য ক্রমেই গুরুতর হচ্ছিল। এ অবস্থা দেখে শুধু কান্না আসছে, কিন্তু আমি তো নিরুপায়। সহ্যও করতে পারছি না, আবার অর্থাভাবে চিকিৎসাও করাতে পারছি না। তবে সমাজের অনেক বিত্তবান এগিয়ে আসায় ফের হাসপাতালে নিতে পেরেছি। যাঁরা শিশুটির খোঁজখবর নিতে চাচ্ছেন, তাঁদের আমার ০১৭৯৭৭৩১৬৯২ নম্বরে যোগাযোগের জন্য অনুরোধ করছি।
তিনি জানান, ২০১৬ সালে ঢামেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ডা. সামন্ত লাল সেনের তত্ত্বাবধানে ডা. রোমানা পারভীনের অধীনে রিপনের চিকিৎসা শুরু হয়। তখন ডা. রোমানা বলেছিলেন, শিশুটি বিরল 'এপিডার্মোডিসপ্লাসিয়া ভেরাসিফরমিস' রোগে ভুগছে। সে পুরোপুরি সুস্থ হবে, তবে সময় লাগবে।

আরও পড়ুন

×